Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪০
রাজধানীতে বেপরোয়া ছিনতাইকারী চক্র
পায়ে গুলি করে লুটে নেওয়ার কৌশল
মাহবুব মমতাজী

রাজধানীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্র। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা সাধারণ মানুষের পায়ে গুলি করে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে।

দিনদুপুরে হঠাৎই বেড়ে গেছে এমন তৎপরতা। এদের খপ্পরে পড়ে মানুষ শুধু সর্বস্বই হারাচ্ছেন না, জীবনও খোয়াচ্ছেন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, নিউমার্কেট, শ্যামলী শিশুপার্ক, গুলিস্তান, মালিবাগ, রামপুরা, মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ ও বনানীর কাকলী এলাকায় অহরহ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। ছিনতাইকারীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পায়ে গুলি চালিয়ে টার্গেটকে আহত করছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহার করা হচ্ছে মোটরসাইকেল। এভাবে ছিনতাইয়ের অসংখ্য ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ঝামেলা এড়াতে থানায় মামলা নিচ্ছে না। বিশেষ ক্ষেত্রে তারা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নিচ্ছে মাত্র।   প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, সর্বশেষ গত শুক্রবার ভোরে রাজধানীর টিকাটুলীতে ঘটেছে ছিনতাইয়ের এক ঘটনা। এ সময় তারা তুরাগ পরিবহনের একটি বাসের চালক ও তার সহকারীর সহায়তায় দুজন মাছ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এর আগের মঙ্গলবারে ঘটে পরপর দুটি ছিনতাইয়ের ঘটনা। এ সময় একজনকে গুলিবিদ্ধ করা হয়। আরেকজনের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে ১২ লাখ টাকা। তার আগের দিন ঢাকার আশুলিয়া থানা এলাকায় মহাসড়কে যাত্রী ভর্তি বাস থামিয়ে তিনজনকে গুলি করে ৬ লাখ টাকা লুটে নিয়ে গেছে ছিনতাইকারী চক্র।   তার আগের দিন সকালেও রাজধানীর উত্তরায় চলন্ত গাড়ি থামিয়ে মা ও মেয়েকে গুলি করে ৬ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে চারটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা। তবে কোনো ঘটনায়ই এ পর্যন্ত একজন দুর্বৃত্তকেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। মঙ্গলবারের ছিনতাইয়ের বিষয়ে বিশ্বাস বিল্ডার্সের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বিপণন ও বিক্রয়) চিন্ময় মজুমদার জানান, বিশ্বাস বিল্ডার্সের ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলাম ও সহকারী ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান একটি গাড়িতে ঢাকা কলেজের বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকের শাখায় টাকা তুলতে যান। মনিরুজ্জামানকে ব্যাংকের সামনে নামিয়ে দিয়ে মনিরুল গাড়ি নিয়ে আরেকটি ব্যাংকে যান। ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর রাস্তার উল্টো দিকে নিউমার্কেটের পেছনে বিশ্বাস বিল্ডার্সের অফিসের দিকে টাকার ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে থাকেন মনিরুজ্জামান। এর মাত্র কয়েক গজ দূর থেকে আসা দুটি মোটরসাইকেলে তিনজন ছিনতাইকারী মনিরুজ্জামানের পথ আটকে ৭-৮ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে ব্যাগটি ছিনিয়ে চলে যায়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মোটরসাইকেল থামিয়ে গুলি করে মনিরুজ্জামান (৩২) নামে এক ব্যবসায়ীকে আহত করে ছিনতাইকারীরা। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তার কাছ থেকে হামলাকারীরা কিছু নিতে পারেনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনিরুজ্জামান জানান, তিনি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা করেন। ছিনতাইকারীরা তার কাছে থাকা পাসপোর্টের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। একই দিনে রামপুরা বনশ্রীতে আনিসুর রহমান টিটো ও সাইদুল ইসলাম নামে দুই গার্মেন্ট কর্মকর্তাকে গুলি করে ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে তাদের আহতাবস্থায় উদ্ধার করে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় রামপুরা থানায় মামলা হলেও শনাক্ত হয়নি দুষ্কৃতকারীরা। এর পরের দিন মোহাম্মদপুর রায়েরবাজারে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আরিফুর রহমান সুমন (৩০) নামে এক যুবক আহত হলে তাকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছিনতাইকারীদের বেপরোয়া হয়ে ওঠা সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় পুলিশের যে টহল অভিযান তা আরও জোরদারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow