Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪১
আজ ঋতুরাজের আগমন, বসন্তের প্রথম দিন
মোস্তফা মতিহার
আজ ঋতুরাজের আগমন, বসন্তের প্রথম দিন

কৃষ্ণচূড়ার ডালে রং লেগেছে। বৃক্ষরাজি থেকে পুরনো পাতা ঝরে পড়ে গজিয়েছে নতুন পাতা।

কোকিলের মিষ্টিসুরের কুহুতানে প্রকৃতি হয়েছে মুখরিত। ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত। কোকিলের কুহু ডাক আর গাছে গাছে রক্ত পলাশ ও আম্রমুকুলের আগমনে প্রকৃতিতে বসন্তের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছে ঋতুরাজ। আজ ফুলেল বসন্ত, মধুময় বসন্ত, যৌবনের উদ্দামতা বয়ে আনার বসন্ত আর আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উদ্বেলতায় মন-প্রাণ কেড়ে নেওয়ার প্রথম দিন। প্রকৃতিকে রাঙিয়ে আজ ঋতুরাজের রাজসিক আগমন ঘটেছে বাঙালির জীবনে। আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে, তব অবগুণ্ঠিত কুণ্ঠিত জীবনে, কোরো না বিড়ম্বিত তারে, আজি খুলিয়ো হৃদয় দল খুলিয়ো, আজি ভুলিয়ো আপনপর ভুলিয়ো, এই সংগীতমুখরিত গগনে তব গন্ধ করঙ্গিয়া তুলিয়ো’ কবিতায় কবিগুরু এভাবেই মেতে উঠেছিলেন ঋতুরাজের বন্দনায়।   রবিঠাকুরের মতো দ্রোহ, প্রেম, চেতনার কবি নজরুলও কবিতার পঙক্তিতে গেয়েছেন বসন্তের জয়গান। কবিতায় নজরুল বলেছিলেন-এলো বনান্তে পাগল বসন্ত, বনে বনে মনে মনে রং সে ছড়ায়রে, চঞ্চল তরুণ দুরন্ত, বাঁশীতে বাজায় সে বিধুর পরজ বসন্তের সুর, পাণ্ডু-কপোলে জাগে রং নব অনুরাগে, রাঙা হল ধূসর দিগন্ত। অন্যদিকে রবীন্দ নাথের ১৪০০ সাল কবিতার প্রতি উত্তরে নজরুল ১৪০০ সাল নামেই একটি কবিতায় লিখেছিলেন-‘আজি নব বসন্তের প্রভাত বেলায়, গান হয়ে মাতিয়াছ আমাদের যৌবন মেলায়’। নজরুল আরও লিখেছিলেন ‘সহসা খুলিয়া গেল দ্বার, আজিকার বসন্ত প্রভাতখানি, দাঁড়াল করিয়া নমস্কার’,‘শতবর্ষ আগেকার, তোমারি বাসন্তিকা দ্যুতি, আজি নব নবীনেরে জানায় আকুতি’। বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সে থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে। এছাড়া তরুণ-তরুণীরা বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, চারুকলা চত্বর, পাবলিক লাইব্রেরি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ধানমন্ডি লেক, বলধা গার্ডেন মাতিয়ে রাখবে সারা দিন। জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ : বসন্তের নাচ, গান ও কবিতার পাশাপাশি প্রতিবাদী নাচ, গান ও আবৃত্তিরও আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। সকাল ৭টা ৫০মিনিটে মতিয়ারের সারেঙ্গী বাদন ও অসীত কুমার দে’র শাস্ত্রীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সূচনা হবে। অনুষ্ঠান চলবে সকাল ১০টা পর্যন্ত। এরপর বিকাল ৪টা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলাসহ একযোগে পুরানো ঢাকার বাহাদুরশাহ পার্ক, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর এবং উত্তরা ৩নং সেক্টরের রবীন্দ্র সরণির উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠান শুরু হবে। চারুকলার সকাল ও বিকালের অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশ টিভি। রবীন্দ্র সরোবরের অনুষ্ঠান বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা  ৬টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত  সরাসরি সম্প্রচার করবে এনটিভি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow