Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩১
আইসিটি হচ্ছে আশুগঞ্জে
শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্, আশুগঞ্জ থেকে ফিরে
আইসিটি হচ্ছে আশুগঞ্জে

‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত পূর্ব-ভারতের অবহেলিত সাত রাজ্যে সহজে পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে আশুগঞ্জ নৌবন্দর দিয়ে চলমান ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে মেঘনার পাড়ে ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনাল (আইসিটি) নির্মাণে এখন আর কোনো বাধা নেই। বিআইডব্লিউটিএ’র আশুগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শক শাহ আলম জানান, প্রকল্প এলাকায় জায়গার সংকুলান না হওয়ায় আরও একটি নতুন জায়গা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

জমির পরিমাণ ৩৫ একর। এ জমি অধিগ্রহণে সরকার সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে। এ আইসিটি ব্যবহারের ব্যাপারে আগ্রহ ব্যক্ত করেছে ভারত, নেপাল ও ভুটান। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এবং সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা এ আইসিটির সুবিধা নিতে পারবে। জানা গেছে, ভারতের আগ্রহের কারণেই ভারত-বাংলাদেশ যৌথ আয়োজনে উচ্চক্ষমতার এ টার্মিনাল হচ্ছে। এটা চট্টগ্রাম ও মংলার আদলে গড়ে তোলা হবে। বলা হচ্ছে, এ টার্মিনাল হবে বিশ্বময় মুক্ত বাণিজ্যের মাইলফলক। আশুগঞ্জ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কনটেইনার টার্মিনালের প্রধান প্রকৌশলী মহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সারা বিশ্ব এখন মুক্তবাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাসী। এক দেশের বন্দর আরেক দেশের ব্যবহার করা অতি স্বাভাবিক। আমাদের চট্টগ্রাম নৌবন্দর ব্যবহার করছে অন্য দেশ। আর আমরাও ব্যবহার করছি অন্য দেশের নৌবন্দর। আঞ্চলিক বাণিজ্য সহযোগিতার দিক দিয়ে এ কনটেইনার টার্মিনাল হবে কেন্দ্রবিন্দু। টার্মিনালটির সঙ্গে সরাসরি মেঘনা নদীপথে মংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর যুক্ত থাকবে। যুক্ত থাকবে আশুগঞ্জ-আখাউড়া ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক এবং ভৈরব রেলস্টেশন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌবন্দর ও বাণিজ্যিক এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ। এখানে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। গড়ে উঠেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সার কারখানা, বৃহত্তম গ্যাস ট্রান্সমিশন কেন্দ্রসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ এই আশুগঞ্জ নৌবন্দর দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত সাত প্রদেশের মালামাল শিপমেন্ট হচ্ছে। আর এতে অতি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়ে উঠেছে আশুগঞ্জ। সেজন্যই সরকার মেঘনায় আইসিটি নির্মাণের চিন্তাভাবনা করে। এ টার্মিনালে কার্গো স্টাফিং, অনস্টাফিং ও কনসোলিডেশনের কাজ হবে। হবে নৌ, সড়ক ও রেলপথের মাধ্যমে কনটেইনার বিতরণ সম্পাদন ও কাস্টম্স ক্লিয়ারেন্স এবং শুল্কায়ন ও ছাড়করণ সম্পর্কিত যাবতীয় কাজ। এ ছাড়া এখানে চলবে ট্রান্সশিপমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ। কাস্টম্স অ্যাক্ট, ১৯৬৯ অনুযায়ী আইসিটি এলাকা নিরাপত্তা দেয়াল পরিবেষ্টিত হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নিজস্ব বা প্রাইভেট নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগ করতে হবে। বিপজ্জনক ও বিস্ফোরক মালামাল সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মেরিটাইমস ডেনজারাস গুডস নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর থেকে শর্ত ও নমুনা অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিশ্চিত থাকতে হবে। প্রাথমিক চিকিৎসাব্যবস্থাসহ অ্যাম্বুলেন্স ও স্থানীয় হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি থাকতে হবে। জানা গেছে, ২০১৩ সালের মার্চে আশুগঞ্জে নদীবন্দরের অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণে বিআইডব্লিউটিএ ও ভারতের একটি কনসালট্যান্ট টিম সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন কিছু জমি নির্ধারণ করে। পরে জমি অধিগ্রহণ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতিপূরণে দুই দফা নোটিস দেওয়া হয়। আর এ নোটিসের পর থেকে আইসিটির নির্ধারিত স্থানে থাকা বেশ কয়েকটি চাতাল কলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। আর এতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত সহস্রাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে অলস সময় পার করছেন। জমি অধিগ্রহণের কারণে নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি নিয়ে আতঙ্কে আছেন অনেকেই। অধিগ্রহণকৃত জায়গা কবে নিয়ে যায়, এ আশঙ্কায় স্থায়ী স্থাপনাও করতে পারছেন না তারা। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট কাজ চালু হওয়ায় আশুগঞ্জ কর্মব্যস্ত। আশুগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু ও দুটি রেলসেতুর দক্ষিণ পাশেই নির্মাণ করা হবে আইসিটি। এ সময় আশুগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী ইসহাক সুমন বলেন, ভারতের সঙ্গে ট্রান্সশিপমেন্ট একটি ইতিবাচক বিষয়। আইসিটি চালু হলে এর সুবিধা আরও প্রসারিত হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন আশুগঞ্জ নৌবন্দরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়ে ২০১৩ সালে একটি প্রস্তাব দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণকাজসংক্রান্ত সংস্থাটি যথোপযুক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমিরুল কায়সার জানান, বর্তমানে নতুন করে এ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারের জমি নিয়ে কিছু জটিলতার কারণে আইসিটি বাস্তবায়নে সময় লাগছে বলে জানায় বিআইডব্লিউটিএ। আশুগঞ্জ নৌবন্দরের আইসিটি নির্মাণে জমির জটিলতা দ্রুত সমাধান করে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বিআইডব্লিউটিএ— এমনটাই দাবি জমির মালিক ও ব্যবসায়ীদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নদীবন্দরের অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনাল বা আইসিটি গত তিন বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। এতে জমির অধিগ্রহণকৃত জটিলতার কারণে বিপাকে পড়েছেন জায়গার মালিকরা। প্রস্তাবিত স্থানে রাইস মিলসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আইসিটির প্রধান প্রকৌশলী মহিদুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বর্তমানে সারা বিশ্বে মুক্ত বাণিজ্য চলছে। সে ক্ষেত্রে আমরা কেন পিছিয়ে থাকব? আমরা আমাদের বন্দরকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যে লাভবান হতে পারি। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow