Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৫৬
সেই সিরিয়াল কিলার এখনো অধরা
আলী আজম
সেই সিরিয়াল কিলার এখনো অধরা

আতঙ্ক কাটেনি। এখনো ভয়ে শিউরে ওঠেন লোকজন।

বাসা ভাড়া নিতে আগ্রহীদের সঙ্গে কথা বলতে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করেন বাড়ির মালিকরা। রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় একের পর এক হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটানো সেই সিরিয়াল কিলারের সন্ধান এখনো পায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে সম্প্রতি এলিট ফোর্স র‍্যাব সেই সিরিয়াল কিলারের একটি ছবি দাঁড় করিয়েছে। ছবিটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও পোস্টার আকারে ছাপিয়ে টাঙানো হবে। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৌঁছে যাবে এ ঘাতকের ছবি। সেখানে ঘাতকের আকার-আকৃতি সবই থাকবে। তাকে ধরিয়ে দিতে থাকছে পুরস্কারও। আর এভাবেই হয় তো সিরিয়াল কিলারকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। গতকাল তদন্তসংশ্লিষ্ট র‍্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ঘাতকের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন একে একে তিন মধ্যবয়সী নারী। আহত হয়েছেন দুই নারী। এ ঘটনায় হতাহতদের পরিবার দক্ষিণখান থানায় মামলা করে। কিন্তু তার খোঁজ মিলছে না কোথাও। ঘুরছে সেই সিরিয়াল কিলার। আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে ধরতে পারেনি। ওই কিলারের হাতে একের এক ঘটনা ঘটতে থাকায় টনক নড়ে পুলিশের। শুরু হয় তল্লাশি। সংগ্রহ করা হয় ৩০টি ভিডিও ফুটেজ। এর মধ্যে দুটি ফুটেজেই ওই ঘাতকের উপস্থিতি রয়েছে। পরে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ডিএমপি। সম্প্রতি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ভিডিও ফুটেজ দেখে কিলার যুবকের একটি ছবি এঁকেছে র‍্যাব। এর ফলে যেখানেই থাকুক তাকে দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। র‍্যাব বলছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ভিডিও ফুটেজে দেখে বোঝা যায়, যুবকের বয়স আনুমানিক ২৫-২৬ বছর। উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি। গায়ের রং ফরসা। মাথার চুল ছোট। ফরমাল পোশাক। কাঁধে ব্যাগ ঝোলানো। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে বাসায় ঢোকে। গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে ফ্ল্যাট দেখতে যায়। আর ফ্ল্যাটে গেলেই পেছন থেকে গৃহকর্ত্রীর মাথা ও ঘাড়ে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। ঠাণ্ডা মাথার এ ঘাতককে ধরতে অভিযান চলছে। হতাহতের পরিবার বলছে, খুবই নিশ্চিন্তে প্রতিটি ঘটনা ঘটিয়েছে সিরিয়াল কিলার। টু-লেট দেখে বাসা ভাড়া নেওয়ার অজুহাতে প্রতিটি বাসায় ঢুকলেও টু-লেট লেখা ফলকের কোনো নম্বরে সে কখনো কল করেনি। বাড়িতে মানুষের উপস্থিতি থাকলে নীরবেই ফিরে গেছে। সুযোগ বুঝে, নির্জন কক্ষে প্রতিটি হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে হতবাক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাঁদপুরের সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর পর এমন সিরিজ খুনের ঘটনা দক্ষিণখানেই ঘটল। এ খুনির সঙ্গেও সেই রসু খাঁর অনেক মিল রয়েছে। রসু খাঁর টার্গেটে যেমন ছিল নারী, তেমনি দক্ষিণখানের এই কিলারের টার্গেটও নারী। তারা বলছেন, খুনির টার্গেট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেছে। তার জীবনে হয়তো এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে যে কারণে মধ্যবয়সী ধনাট্য পরিবারের নারীদের হত্যা করছে।

সুসংগঠিত ও সুপরিকল্পিতভাবে মধ্যবয়সী নারীদের টার্গেট করে হত্যা করছে ওই যুবক। হত্যার ধরন দেখে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে, খুনি চাপাতি চালনায় পারদর্শী। দ্রুত সময়ে পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালিয়ে সে নারীদের খুন করে। খুনের পর কোনো প্রমাণ রাখছে না। সে খুবই সচেতন এবং সতর্কভাবে খুন করছে। অনেকটা বহুল আলোচিত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর মতোই। গত ২৪ জুলাই দক্ষিণখানের উত্তর গাওয়াইরে গৃহকর্ত্রী শাহিদা বেগমকে (৫০) নৃশংসভাবে খুন করে ওই কিলার। ২৫ জুলাই দক্ষিণখানের আশকোনা মেডিকেল রোডে গৃহকর্ত্রী মাহিরা বেগমকে (৫০) কুপিয়ে আহত করা হয়। এক মাস পর ২১ আগস্ট দক্ষিণখানের তেঁতুলতলা ইয়াছিন রোডে গৃহকর্ত্রী সুমাইয়া বেগমকে (৫২) একই স্টাইলে খুন করা হয়। ৩১ আগস্ট দক্ষিণখানের মুন্সি মার্কেট এলাকায় জেবুন্নেছা চৌধুরীকে (৫৬) কুপিয়ে আহত করে। ৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণখানের উত্তর গাওয়াইরে ওয়াহিদা আক্তার সীমাকে (৪৮) একই স্টাইলে খুন করা হয়। এসব ঘটনার পরই তদন্তসংশ্লিষ্টরা বিকৃত মানসিকতার কোনো খুনিকে সন্দেহ শুরু করে। পাঁচটি ঘটনা বিশ্লেষণ করে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, খুনি প্রশিক্ষিত। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পাঁচটি বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভালো, সার্বক্ষণিক তালা মারা থাকত। খুনিকে দেখলে ভদ্র এবং চাকরিজীবী বলেই মনে হবে। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগেই চাপাতি থাকে। ভাড়া দেওয়ার জন্য ফ্ল্যাট দেখাতে নিয়ে গেলেই সে চাপাতি দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। খুনি মানসিক বিকারগ্রস্ত এ বিষয়ে অনেকটাই নিশ্চিত। র‍্যাব-১ এর কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিশিষ্ট আর্টিস্টদের দিয়ে ওই সিরিয়াল কিলার যুবকের একটি ছবি আঁকা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে। দক্ষিণখান থানার পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, থানা পুলিশের পাশাপাশি কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, ডিবি ও র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিরিয়াল কিলারকে গ্রেফতারে তত্পর।

up-arrow