Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০২:২০
প্রধানমন্ত্রী কাল জার্মানি যাচ্ছেন
সুদৃঢ় রাজনৈতিক বোঝাপড়ার টার্গেট
জুলকার নাইন

বিশ্বের কয়েকশ রাষ্ট্রনেতা, সরকারপ্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জার্মানিতে শুরু হতে যাওয়া ‘মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে’ অংশ নিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে আরও বেশি সহনশীল, যৌক্তিক ও মানবিক আচরণ  করতে বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানাবেন শেখ হাসিনা।

মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে অংশ নিতে আগামীকাল রাতে চার দিনের সফরে জার্মানি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ইত্তেহাদ এয়ারওয়েজের নিয়মিত ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা ছাড়বেন। আবুধাবিতে ট্রানজিট শেষে শুক্রবার সকালে তিনি জার্মানির মিউনিখ পৌঁছাবেন। প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন সম্মেলনের সিরিজ বৈঠকে। বহুপাক্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সফর আয়োজিত হলেও বাংলাদেশ-জার্মানি দ্বিপক্ষীয় বিষয়াদি এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে এ সফরে। জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে হতে পারে এর সূচনা। চেষ্টা থাকবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়ানোর রাজনৈতিক সম্মতিতে পৌঁছানোর। ঢাকার শীর্ষস্থানীয় কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ঢাকার শীর্ষ এক কূটনীতিকের মতে, তিন দিনের জার্মানি সফরের দ্বিতীয় দিনে শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এর আগেও তারা দুজন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। তবে এবার দুই দেশের রাজনৈতিক বোঝাপড়াকে আরও সুদৃঢ় অবস্থানে নেওয়ার সুযোগ এসেছে। কারণ গত দুই বছরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক ফোরামের আনুষ্ঠানিকতাগুলোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে নিজে থেকেই এগিয়ে এসে কথা বলতে দেখা গেছে অ্যাঙ্গেলা মেরকেলকে। সামাজিক ও আর্থসামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া দেখে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক উভয়ভাবেই মুগ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলেন মেরকেল। আসেম, এশিয়া-ইউরোপ মিটিং ও জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের কক্ষ ও নৈশভোজগুলোতে একে অপরকে আন্তরিক সম্ভাষণও করেছেন শেখ হাসিনা ও অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। গত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও স্থিতিশীলতায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। মেরকেল প্রশংসা করেছেন সমুদ্র ও জলসীমা বিরোধ মীমাংসায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগকে রোল মডেল হিসেবে বিশ্বের অনুসরণীয় বলেও। সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিকের মতে, দুই নেতার সম্পর্কের এই উষ্ণতা বাংলাদেশ-জার্মানির দ্বিপক্ষীয় সব ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনবে।

 সুদৃঢ় হবে বাংলাদেশ-জার্মান রাজনৈতিক বোঝাপোড়া। কারণ এমনিতেই বাংলাদেশ ও জার্মানি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও বেশ বড় আকারের। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গন্তব্য জার্মানি। দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ইউরো মূল্যমানের বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়। আর জার্মানি থেকে প্রায় এক বিলিয়ন ইউরো মূল্যমানের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। জার্মানি বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদারও। সব মিলে জার্মানির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বেশ ভালোই। এখন রাজনৈতিক বোঝাপড়াটা আরও শক্ত হলে শুধু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যই নয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে লাভবান হতে পারে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মিউনিখের হোটেল বেয়াররিখটার হফে আগামী ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সিকিউরিটি কনফারেন্সে বিভিন্ন দেশের প্রায় সাড়ে ৫০০ প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ মীমাংসা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে মিউনিখ কনফারেন্স স্বাধীন ফোরাম হিসেবে ১৯৬৩ সাল থেকে ভূমিকা রেখে আসছে। সেই বিবেচনায় এর রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। এ ছাড়া ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়া, ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া এবং বিশ্বব্যাপী অভিবাসন সংকট এ কনফারেন্সকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। বরাবরই নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে সোচ্চার থাকা বাংলাদেশ এবার সক্রিয় ভূমিকাই রাখতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক সরকারি কর্মকর্তা অংশ নেবেন এ সম্মেলন। বিশ্ব নেতাদের মধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব, ইইউ কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট, ইইউ হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ, ন্যাটোর জেনারেল সেক্রেটারি, ইউক্রেন ও আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট, নরওয়ে হাঙ্গেরি ইরাকের প্রধানমন্ত্রী, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ইউএস হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের চিফ, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রমুখ। উপস্থিত থাকবেন ধনকুবের বিল গেটসসহ বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীও আছেন অংশ গ্রহণকারীর তালিকায়।

up-arrow