Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২২
ধর্মঘটে বেসামাল চট্টগ্রাম বন্দর
১০ মাসে ২৫ দিন কর্মবিরতি, শত শত কোটি টাকার ক্ষতি, ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তারাও
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
ধর্মঘটে বেসামাল চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দরসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের মুখে পড়ে বার বার থমকে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘পাইপলাইন’ খ্যাত চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। গত ১০ মাসে বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের মুখে পড়ে ২৫ দিন বন্ধ ছিল এ বন্দরের কার্যক্রম।

সর্বশেষ লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের একাংশের কর্মবিরতির কারণে চার দিন ব্যাহত হয় কার্যক্রম। এতে বহির্বিশ্বে বন্দরের সুনাম ক্ষুণ্নের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন শত শত কোটি টাকার। এফবিসিসিআইর সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘বন্দরে জাহাজ অলস বসে থাকলে প্রাথমিকভাবে জাহাজ পরিচালনাকারী কিংবা আমদানিকারকদের সে খরচ বহন করতে হয়। পরে সে ক্ষতি পূরণ করতে অতিরিক্ত খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। বন্দরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় সে বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক মহলকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ ধর্মঘটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হন আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। বহির্বিশ্বে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বন্দরের সুনাম। ’ আন্দোলনের মুখে চট্টগ্রাম বন্দর বার বার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করেছেন খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ জামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের মুখে পড়ে বন্দর বার বার বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা শত শত কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাধ্য হয়ে তারা ভোক্তাদের ঘাড়ে তুলে দিচ্ছেন অতিরিক্ত খরচ। ’ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, বার বার আন্দোলনের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আন্দোলন ও কর্মবিরতির কারণে আমদানি করা ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, বাণিজ্যিক পণ্য খালাস এবং রপ্তানি পণ্য বোঝাই বিলম্ব হয়। বন্দরে মাদার ভ্যাসেলের অতিরিক্ত সময় অবস্থানের কারণে বেশি খরচ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এ ছাড়া আমদানি করা পণ্য বাজারে ছাড়ার আগেই বেড়ে যায় খরচ। ফলে এর মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাকে। চট্টগ্রাম বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মাসে বন্দরসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের আন্দোলনের কারণে কমপক্ষে ২৫ দিন ব্যাহত হয় স্বাভাবিক কার্যক্রম। এ সময়ের মধ্যে আন্দোলন করে চট্টগ্রাম প্রাইম মুভার ট্রেইলার মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, ক্রেন অপারেটর সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন, ক্রেন অপারেটর সমন্বয় পরিষদসহ আরও একাধিক সংগঠন। সর্বশেষ গত চার দিনের কর্মবিরতি পালন করে লাইটার জাহাজ শ্রমিকদের একাংশ। তাদের কর্মবিরতির কারণে চার দিন ব্যাহত হয় চট্টগ্রাম বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow