Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৫
মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা কমিটি
চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগে উত্তেজনা
সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেছে মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের একটি অংশ। এ কমিটিতে নমিতা আইচকে সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর রেখা আলম চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পাল্টা কমিটি ঘোষণা দেন গত কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নমিতা আইচ। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে নগর কমিটির বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক তপতী সেনগুপ্ত হাসিনা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকালে সম্মেলনের মাধ্যমে হাসিনা মহিউদ্দিনকে সভাপতি ও আনজুমান আরা চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এই সম্মেলন ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরেই চট্টগ্রাম নগর মহিলা লীগের দুই গ্রুপে উত্তেজনা দেখা দেয়। সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিনকে উদ্দেশ করে তপতী সেনগুপ্ত বলেন, ‘উনি কে? ওনার বাসা কোথায়? উনি কোত্থেকে এসেছেন? উনি কি কখনো দল করেছেন?’। এ সময় সংবাদ সম্মেলনস্থল জুড়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। আবার অনেকে হাততালি দিয়ে তাকে উৎসাহ দেন। তপতী সেনগুপ্ত বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী, যাকে বলা হতো চট্টগ্রামের টাইগার। যার জন্য আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। আজ যখন তার পরিবার আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা তখন বসে থাকতে পারি না। মহিউদ্দিন ভাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাই একজনকে তিনি চট্টগ্রামে রেখে যেতে চাচ্ছেন। এ জন্যই কি জোর করে তার স্ত্রীকে সভাপতি করা হয়েছে? গত পরশুর সম্মেলনে ঘোষিত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে তপতী আরও বলেন, হঠা?ৎ করে সম্মেলন ঘোষণা করা হলো। আমরা এই সম্মেলন মানি না। আমি সাধারণ সম্পাদক। অথচ আমাকে ভিতরে যেতে দেওয়া হলো না। আমাকে ছাড়াই সম্মেলন হয়ে গেল। এই কমিটি মানব কীভাবে? পাল্টা কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে ঘোষিত কমিটির সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পাল্টা কমিটি মানেই প্রধানমন্ত্রীকে অস্বীকার করা। কেন্দ্রীয় নেত্রীর উপস্থিতিতে একটা কমিটি ঘোষণা হয়েছে। তাই কেন্দ্রীয়ভাবে যেটাই সিদ্ধান্ত হবে, সেটাই আমরা করব। পাল্টা কমিটির সভাপতি ও মহিলা নেত্রী নমিতা আইচ বলেন, ১৯৪৮ সাল থেকে আমরা আওয়ামী লীগ করছি। আইভি রহমানের সঙ্গে আমরা রাজনীতি করেছি। উনি (হাসিনা মহিউদ্দিন) স্বঘোষিত সভাপতি। উনি কোনোদিন মহিলা লীগের সদস্যও ছিলেন না। অথচ উনি আমাদের অগ্রাহ্য করে সম্মেলন করেছেন। অনেক ত্যাগী মহিলা নেত্রী কাউন্সিলর কার্ডও পাননি। তাই সবকিছু বিবেচনা করে ত্যাগী নারী নেত্রীদের নিয়ে কমিটি করেছি। পাল্টা কমিটিতে আগের কমিটির সাধারণ সম্পাদক তপতী সেনগুপ্ত, ফেরদৌস নাজিম ও হাসিনা জাফরকে সহসভাপতি করা হয়েছে। কাউন্সিলর আনজুমান আরা বেগম, সাবেক কাউন্সিলর রেহেনা কবির রানুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মর্জিনা আক্তার লুসিকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সম্মেলনস্থল নগরীর পাঁচলাইশের কিং অব চিটাগাং এ মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন ও নমিতা আইচ অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সম্মেলনে কাউন্সিলর কার্ড দেওয়া হয়নি মহিলা লীগের শীর্ষ অনেক নেত্রীকে। সিনিয়র নেত্রী নমিতা আইচ, সাধারণ সম্পাদক তপতী সেনগুপ্ত, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক জোবাইরা নার্গিস খান, সাবেক প্যানেল মেয়র রেখা আলম চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর রেহানা বেগম রানু, বর্তমান কাউন্সিলর আনজুমান আরা বেগম, নারী নেত্রী হাসিনা জাফরসহ অনেক শীর্ষ নেত্রী ও তাদের সমর্থকদের সম্মেলনে ঢুুকতেই দেওয়া হয়নি। সম্মেলনের আগে কাউন্সিলর কার্ড না পাওয়ার বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেত্রীদের নজরে আনা হলে বিদ্রোহী নেত্রীরা অনায়াসে সম্মেলনে ঢুকতে পারবেন বলে তারা আশ্বাস দেন। অবশ্য সম্মেলনের দুই অধিবেশনের কোনোটিতেই বিদ্রোহীরা ঢুকতে পারেননি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow