Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৭
অবজারভারের বিরুদ্ধে শামীম ওসমানের নোটিস সংসদে গৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যক্তিগত অধিকার ক্ষুণ্নের অভিযোগ এনে ইংরেজি ‘ডেইলি অবজারভার’-এর বিরুদ্ধে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের (নারায়ণগঞ্জ-৪) দেওয়া নোটিস গ্রহণ করেছে সংসদ। নোটিসটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

প্রথম আলো ও বাংলাট্রিবিউনের বিরুদ্ধেও নোটিস এনেছিলেন শামীম ওসমান।  

 তবে বিধি অনুযায়ী শর্ত পূরণ না হওয়ায় তা সংসদ গ্রহণ করেনি।

জাতীয় সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের শুরুতেই গতকাল স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন। এ সময় তিনি জানান, “আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ব্যক্তি অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনটি নোটিস দিয়েছেন। এর প্রথমটিতে দ্য ডেইলি অবজারভারে ২৩ জানুয়ারি প্রথম পৃষ্ঠায় চতুর্থ কলামে Police await PM’s order to crack down on drug lord শিরোনামে অসত্য, ভিত্তিহীন, কাল্পনিক খবর প্রকাশ করায় সদস্যের পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও দেশ-বিদেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় তার সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার কথা তার নোটিসে উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয়ত, দৈনিক প্রথম আলোয় ২০১৪ সালের ১ জুন ‘আইনজীবীকে হত্যায় অনুতপ্ত র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা’ শিরোনামে যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন নোটিসদাতা। তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হেয় প্রতিপন্ন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করায় বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ করেছেন। তৃতীয়ত, বাংলাট্রিবিউন অনলাইন পত্রিকায় ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর তার বাবাকে জড়িয়ে রিপোর্ট করায় কার্যপ্রণালি বিধির ১৬৪ বিধিতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছেন। ”

স্পিকার বলেন, তার তিনটি নোটিসে বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে স্পিকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছেন।

নোটিস তিনটির বিষয় কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত বিধি ১৬৫(২) অনুযায়ী বিশেষ অধিকার প্রশ্ন উত্থাপনের শর্তাবলি পূরণ হয়নি। বিধিতে বলা হয়েছে, উত্থাপনীয় প্রশ্নটি সম্প্রতি সংঘটিত কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং তা প্রথম সুযোগেই উত্থাপন করতে হবে। তাই গ্রহণ করা সম্ভব হলো না। প্রথম নোটিসটি কার্যপ্রণালি বিধির ১৬৯ বিধি অনুযায়ী বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত কমিটিতে পাঠানো হলো।

পরে স্পিকারের কাছ থেকে ফ্লোর নিয়ে শামীম ওসমান বলেন, ‘আপনি যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, আমি মেনে নিয়েছি। তবে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার— এ পত্রিকা দুটি দেশে বিভিন্ন সময় সরকার পরিবর্তনে বিভিন্ন ভূমিকা রেখেছে। আপনি (স্পিকার) বলেছেন, যে সময় ঘটনা সংঘটিত হবে সেই সময় উত্থাপন করতে হবে। আমি একমত। কিন্তু যখন কোনো বিষয় আদালতে বিচারাধীন থাকে, সে বিষয়ে কথা বলার সুযোগ থাকে না। যেহেতু আমরা আইনপ্রণেতা, সেই হিসেবে সে সুযোগ আমার কাছে ছিল না। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সেজন্যই ৩৮ মাস অপেক্ষা করেছি। তারা বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে। আমি তাদের অনেক নোটিস দিয়েছি। একটিও গ্রহণ করেনি। আমি এও বলেছিলাম, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ, তার তথ্যপ্রমাণ আমার সংসদের অভিভাবক স্পিকারকে দিন। তারা তাও দেয়নি। ’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow