Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:২৯
অষ্টম কলাম
পুলিশের সন্দেহে ২৫ বছর জেলে
অবশেষে খালাস পেলেন
তুহিন হাওলাদার

বিচারের বাণীর নিভৃত কান্না অবশেষে থেমেছে। ততদিনে অবশ্য কেটে গেছে সিকি শতাব্দী। লাল দালানে যখন বাবুলের ঠাঁই হয়েছিল তখন বয়স কেবল ১৬। কৈশোর থেকে টগবগে তারুণ্য আর যৌবনের পুরোটাই কেটেছে লাল দালানে। হাতকড়া আর ডাণ্ডাবেড়ির সঙ্গে সখ্য গড়ে ২৫ বছর কেটেছে সে ফ ন্যায়বিচারের আশায়।

তবে এ মামলার আইনি যুক্তিতর্ক শেষে গতকাল নির্দোষ প্রমাণ হওয়ায় কুমিল্লার বাবুলকে খালাস দিয়েছেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান। আদালতের রায় শুনে খুশি হতে পারেননি খালাস পাওয়া বাবুল। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শুধুই নিজের হতাশা প্রকাশ করে বলেন, বিনা বিচারে জীবনের ২৫টি বছর কেটেছে চৌদ্দ শিকের লাল দালানে।

জানা গেছে, ১৯৯২ সালের কথা। রাজধানীর ডেমরা থানার একটি ডাকাতি মামলায় পুলিশের সন্দেহের শিকার হন কিশোর বাবুল। তখন থেকেই কারাগার থেকে আদালত-আদালত থেকে কারাগার। চার সাক্ষীর কেউই বলতে পারেননি ডাকাত কারা। আবার আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা ম্যাজিস্ট্রেটকেও আদালতে হাজির করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে পুলিশ সদর দফতর, ডিএমপি, মন্ত্রণালয় সব খানেই সমন গেছে আদালত থেকে। সুরাহার উদ্যোগ নেয়নি কেউই। গুমরে কেঁদেছেন কেবল বাবুল। তবে শেষমেশ বিচার এসেছে বাবুলের পক্ষেই। তিনি বেকসুর খালাস। কিন্তু এই যে এত লম্বা সময় হারিয়ে গেল জীবন থেকে তার মাশুল দেবে কে?

বাবুল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জন্ম পাকিস্তানের করাচিতে। পিতার নাম আনোয়ার। মাতা নিলুফা বেগম। সাত ভাই দুই বোন তারা। এর মধ্যে বাবুল তৃতীয়। বড় দুই ভাই বিদেশে থাকেন। অন্যরা আছেন কুমিল্লায়। তবে কোনো দিন কুমিল্লার ওই বাড়িতে যাননি বাবুল। পিতা বিমানবাহিনীতে চাকরি করার কারণে রাজধানীর ডেমরার ধোলাইপাড় এলাকার ১০৪ নম্বর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। পরে ফতুল্লা যাওয়ার জন্য বেবিট্যাক্সিতে উঠলে ডেমরা ব্রিজের ওপর থেকে ১৯৯২ সালে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। এরপর ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার দেখায়। কারাগারে যাওয়ার পর তার পিতা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান এবং মা কিছুদিন পর মারা যান। এরপর ভাইবোনেরা কুমিল্লায় চলে যান। তবে পরিবারের লোকজন প্রথম দিকে কারাগারে দেখা করলেও ১০ থেকে ১৫ বছর বাবুলের সঙ্গে কারও কোনো যোগাযোগ নেই। কে কোথায় আছে তাও জানেন না বাবুল।

মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীবেশে ডাকাতির উদ্দেশে ১৯৯২ সালে ২১ আগস্ট পিপলস ট্রান্সপোর্টের গাড়িতে উঠে অজ্ঞাত ২-৩ জন। পরে ঢাকা চিটাগাং মহাসড়কের সানারপাড় নামক স্থানে মুক্তি ফিলিং স্টেশনের কাছে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা-পয়সা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাসের কন্টাক্টর নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ডেমরা থানার মামলা নম্বর ৬৭(৮)৯২। পরে এ মামলায় বাবুলকে আসামি বানায় পুলিশ। এ ছাড়া আরও চারজন আসামি রয়েছে মামলায়। ওই চার আসামি ঘটনার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয়। কিন্তু বাবুল কোনো স্বীকারোক্তি দেননি। এমনকি অন্য আসামিরা স্বীকারোক্তিতে বাবুলের নাম বলেনি। এরপর ঘটনার তদন্ত করে ১৯৯২ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাবুলসহ পাঁচজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে ১৯৯৩ সালের ৪ জুলাই আসামিদের অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার বিভিন্ন আদালতে দীর্ঘ সময় ঝুলতে থাকে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow