Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৪
ঢাকা মহানগরের রাজনীতি
যে কোন দিন কমিটি দেবেন খালেদা জিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
যে কোন দিন কমিটি দেবেন খালেদা জিয়া

যে কোনো দিন ঢাকা মহানগর কমিটি দেবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ থেকেই কমিটির সম্ভাব্য তালিকা নিয়েছেন বিএনপি প্রধান।

এখন সেগুলো যাচাই-বাছাই চলছে। উত্তর ও দক্ষিণ শাখায় দুই ভাগে এই কমিটি হবে। আপাতত আংশিক কমিটি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে থানা ও ওয়ার্ডের পাশাপাশি মহানগরের অসম্পূর্ণ কমিটি গঠন করবেন বলে জানা গেছে।   ঢাকা মহানগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে সম্প্রতি বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই বৈঠকেও কমিটির নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঢাকায় আন্দোলনে সাদেক হোসেন খোকা- আবদুস সালাম নেতৃত্বাধীন কমিটি ব্যর্থ হওয়ায় মহানগর কমিটি ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন বেগম খালেদা জিয়া। এরই অংশ হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই আরেকটি আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়। কিন্তু আব্বাস-সোহেল কমিটিও প্রত্যাশিত সফলতা দেখাতে পারেনি। জানা যায়, এবার অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতাদের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর কমিটি দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণে শীর্ষ নেতৃত্বে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ, মহানগর নেতা কাজী আবুল বাশার, নবীউল্লাহ নবী, হাবিবুর রশিদ হাবিব ও ইউনুস মৃধার নাম শোনা যাচ্ছে। এরমধ্যে আবদুস সালাম ও হাবিব-উন-নবীর নাম ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। একইভাবে উত্তর শাখায় বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক এম এ কাইয়ুম, তাবিথ আউয়াল, আহসান উল্লাহ হাসান, বজলুল বাছিত আঞ্জুর নামও শোনা যাচ্ছে। আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন, এম এ কাইয়ুম, আজিজুল বারী হেলাল ও আহসান উল্লাহ হাসান। অবশ্য আবদুস সালামের নাম দুই মহানগরেই আলোচনা রয়েছে। জানা যায়, খালেদা জিয়াকে কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এর আগে ঢাকা মহানগর বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু পূর্ণাঙ্গ কমিটির একটি খসড়া তালিকা বেগম জিয়ার হাতে দেন। সেখানে রাজধানীর ৪৯টি থানা, ১০০টি ওয়ার্ড ও ৭টি ইউনিয়ন নেতাদের পূর্ণাঙ্গ একটি তালিকা প্রদান করা হয়। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকাও সম্ভাব্য নেতাদের একটি তালিকা প্রদান করেন। এ ছাড়াও আরও দু-একজন নেতা বিএনপি প্রধানের কাছে পৃথকভাবে তালিকা হস্তান্তর করেন।

 সম্ভাব্য সব তালিকা ধরেই কাজ করছেন বেগম জিয়া।

এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, ‘শিগগিরই ঢাকা মহানগর কমিটি দেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়েই কমিটি দিচ্ছেন চেয়ারপারসন। কাজও শেষ পর্যায়ে। ’ একই তথ্য জানান অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘কমিটি গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সেই ধারাবাহিকতায় মহানগর কমিটি আসছে। ’

জানা যায়, মির্জা আব্বাস নিজে থেকেই ঢাকা মহানগর নেতৃত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন। তবে কমিটিতে মির্জা আব্বাস ও সাদেক হোসেন খোকা সরাসরি না থাকলেও পরোক্ষভাবে তাদের প্রভাবই থাকছে। দুই পক্ষের অনুসারীদের সমন্বয়েই কমিটি দেওয়া হচ্ছে। মহানগরের স্থানীয় নেতারা বলছেন, কমিটি গঠনে যেহেতু বিলম্ব হয়েছে, তাহলে ওয়ার্ড, থানা ও মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি একসঙ্গে ঘোষণা দেওয়া উচিত। কারণ, ওয়ার্ড, থানা দূরের কথা, দায়িত্ব নিয়ে কেউই মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে পারেননি। আবার দায়িত্ব পাওয়ার পর সবাই নিজেদের পছন্দসই নেতাদের কমিটিতে রাখতে প্রভাব বিস্তার করবেন। এ কারণে চেয়ারপারসনের উচিত, খোঁজ-খবর নিয়ে সব কমিটি একসঙ্গে ঘোষণা করা। আন্দোলনে ঢাকা মহানগরের একেকটি ওয়ার্ড মফস্বলের একেকটি জেলার ভূমিকা পালন করতে সক্ষম বলেও মনে করেন তারা।

ঢাকা মহানগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আমরা ওয়ার্ড, থানা ও মহানগর কমিটির সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। এর একটি রূপরেখাও চেয়ারপারসনকে দেওয়া হয়েছে। এখন তিনি যে কোনোভাবেই কমিটি দিতে পারবেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow