Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪১
অভয়ারণ্য ঘোষণা আটকে আছে এক বছর
সুন্দরবন সুরক্ষায় সরকারকে আরও আন্তরিক হতে হবে
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুন্দরবনের অর্ধেক এলাকার ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণা এক বছর ধরে আটকে রয়েছে। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল ও মায়াবী হরিণ, লবণপানির কুমির, ৬ প্রজাতির ডলফিনসহ ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী, ৩৩৪ প্রজাতির চিরসবুজ বৃক্ষরাজি, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল, ১৩ প্রজাতির অর্কিড, ৩১৫ প্রজাতির পাখি ও ২১০ প্রজাতির সাদা মাছের অবাধ বিচরণ, বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গত বছরের ২১ জানুয়ারি নতুন করে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ৭টি, চাঁদপাই রেঞ্জের ৪টি, পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের খুলনা রেঞ্জের ৪টি ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৩টি— মোট ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে বন বিভাগ  অভয়ারণ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেয়।

বন বিভাগের ওই পরিকল্পনায় পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ১, ২, ৩, ৪, ৭, ১১ ও ১২-বি কম্পার্টমেন্ট; চাঁদপাই রেঞ্জের ১০, ১২-এ, ১৩ ও ১৪ নম্বর কম্পার্টমেন্ট; খুলনা রেঞ্জের ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর কম্পার্টমেন্ট এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৪৯, ৫১-বি ও ৫২ নম্বর কম্পার্টমেন্টকে নতুন করে অভয়ারণ্যভুক্তর কথা বলা হয়। গত বছরের ২১ জানুয়ারি গৃহীত ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাদের (ডিএফও) কাছে ১৫ দিনের মধ্যে তাদের মতামত চেয়ে পাঠান খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক জহির উদ্দিন আহমেদ। সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের দুই ডিএফও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণার পক্ষে ম্যাপসহ তাদের ইতিবাচক মত পাঠিয়ে দেন। এরপর এক বছর ধরে থমকে রয়েছে অভয়ারণ্য ঘোষণার কাজ। এর আগে ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কো কমিশন এই ম্যানগ্রোভ বনের ৫, ৬, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৪৩ ও ৪৪ নম্বর কম্পার্টমেন্ট এলাকাকে পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ অভয়ারণ্য নাম দিয়ে বিশ্বের ৫২২তম ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইট (বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা) ঘোষণা করে। ‘বিলুপ্তপ্রায়’ তালিকায় থাকা ইরাবতীসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন রক্ষায় ২০১২ সালে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ৩টি এলাকার নদ-নদীকে ‘ডলফিন অভয়ারণ্য’ ঘোষণা করা হয়। একইভাবে সুন্দরবনের মত্স্যসম্পদ রক্ষায় ১৮টি নদ-নদী ও খালে মাছসহ সব ধরনের জলজপ্রাণী আহরণও নিষিদ্ধ করা হয়। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) জহির উদ্দিন আহমেদ জানান, মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে এরই মধ্যে সুন্দরবন পরিবর্তিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সংকটাপন্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকার বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বনকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করেছে। সংরক্ষিত এ বনে জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বাস। এসব দিক বিবেচনায় নিয়ে বন অধিদফতর সুন্দরবনের ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে অভয়ারণ্য ঘোষণার মাঠপর্যায়ের কাজ আগেই শেষ করেছে। বিষয়টি এখন বন অধিদফতরে চূড়ান্তভাবে অভয়ারণ্য ঘোষণার পর্যায়ে রয়েছে। সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা সংগঠন সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পরিবেশবিদ ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষায় সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। নতুন করে ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে চূড়ান্তভাবে অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখা বন বিভাগের পক্ষে সহজতর হবে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও সাইদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সুন্দরবনের ৩টি ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইটসংলগ্ন এলাকার ১৮টি কম্পার্টমেন্টকে নতুন করে অভয়ারণ্য ঘোষণা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন হলে পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের ১২টি কম্পার্টমেন্টের মধ্যে ৯টি অভয়ারণ্য হয়ে যাবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow