Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৪
পল্টন টাওয়ারে গুলি
সীমান্ত পার হওয়ার আগেই ধরা পড়ল মাসুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে ধরা পড়লেন মাসুদ রানা ওরফে আশিক। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ভোরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গোয়ালিয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে র‌্যাব-৩-এর একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।

১২ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর রাজধানীর পল্টনের ৩৭/২ নম্বর পল্টন টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় তার এপিএস কামরুজ্জামান হীরার অফিসে রূপগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা মোশাররফ হোসেনকে গুলি করে পালিয়ে যান মাসুদ রানা ও তার লোকজন। গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুরো ঘটনা তুলে ধরেন র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ। এ সময় গুলি করার পর সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত মাসুদ রানাসহ অন্যদের পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও গণমাধ্যম কর্মীদের দেখানো হয়। র‌্যাব-৩ অধিনায়ক বলেন, এলাকায় আধিপত্য নিয়ে গুলিবিদ্ধ মোশাররফ ও মাসুদ রানার মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। গুলির ঘটনার তিন দিন আগে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা থানায় চোরাই গাড়ির মালিকদের ছাড়িয়ে নিতে গিয়ে মাসুদ ও মোশাররফের কথাকাটাকাটি হয়। ঘটনার দিন সকালেও রূপগঞ্জের পার্শ্ববর্তী ৩০০ ফুট রাস্তায় মাসুদ ও মোশাররফ প্রকাশ্য বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তারা একে অন্যকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেন। মাসুদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয় লে. কর্নেল তুহিন বলেন, ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি একটি পিস্তল ও আটটি রামদাসহ দুই সহযোগীর সঙ্গে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন মাসুদ। কারাগারে থাকা অবস্থায় বাদশা নামের এক বন্দীর মাধ্যমে তার পরিচয় হয় মোহাম্মদপুরের অস্ত্র ব্যবসায়ী রাইফেল আলমগীরের সঙ্গে। গুলির ঘটনার তিন-চার দিন আগের প্রতিটি ঘটনার সময় মাসুদের সঙ্গে ছিলেন আলমগীর। এই আলমগীরের দেওয়া দুটি ৭.৬৫ মিমি অস্ত্র দিয়েই মোশাররফকে গুলি করেন মাসুদ। এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব-৩ অধিনায়ক বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি সকালে ৩০০ ফুট রাস্তায় ঝামেলা হওয়ার পরই মোশাররফকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন মাসুদ। আলমগীরের কাছ থেকে তিনি অস্ত্র পান দুপুরে। বিকালেই তার টার্গেট বাস্তবায়ন করেন। রাইফেল আলমগীর ঘটনাস্থলে না গেলেও গাড়ি নিয়ে মত্স্য ভবন এলাকায় অপেক্ষা করছিলেন। তবে পল্টন টাওয়ারে মোশাররফ যাবেন এটা আগে থেকেই জানতেন বলে দাবি করেছেন মাসুদ। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হলে হয়তো আজই তিনি পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যেতেন। এখন মাসুদের সঙ্গীদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি আমরা। ’ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টা ৪১ মিনিটে মাসুদসহ তার সঙ্গে থাকা দুই সহযোগী একে একে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছেন। ভবনের নিচে নামার পর তারা প্রত্যেকে আলাদা সিএনজি অটোরিকশায় বিভিন্ন জায়গায় চলে যান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow