Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:১৯
বংশবৃদ্ধি ঘটছে বিলুপ্তপ্রায় ‘বাটাগুর বাসকা’র
শেখ আহসানুল করিম, বাগেরহাট
বংশবৃদ্ধি ঘটছে বিলুপ্তপ্রায় ‘বাটাগুর বাসকা’র

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কচ্ছপ ‘বাটাগুর বাসকা’র সংরক্ষণ ও প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার শুরু হয়েছে। এ প্রজনন কেন্দ্রে ওই কচ্ছপের বেড়ে ওঠা, প্রজনন এবং ডিম পাড়ার জন্য পুকুর, নালা, শেডসহ প্যান (কৃত্রিম পুকুর) ও ডিম সংরক্ষণের স্থান তৈরি করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ প্রজনন কেন্দ্রে এখন বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির  ১১৭টি কিশোর ও ১০টি বড় বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ রয়েছে। এর ভিতর থেকে সবচেয়ে বড় দুটি কচ্ছপের পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে সুন্দরবনের বঙ্গোপসাগর মোহনায় ছাড়া হয়েছে। এই ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সুদূর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় বসে এ কচ্ছপের জীবনাচরণের তথ্য ও ছবি দেখা যাবে। গবেষণার মধ্য দিয়ে জানা যাবে বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির এ কচ্ছপের স্বভাব, খাদ্য সংগ্রহ, বিচরণ, পরিবেশসহ বঙ্গোপসাগরের গভীর ও অগভীর পানিতে থাকতে পছন্দ করা না করার বিষয়। এ ছাড়া এ দুটি কচ্ছপ বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশ ছেড়ে ভারত ও শ্রীলঙ্কা অংশে যায় কিনা— তাও জানা সম্ভব হবে। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুর রহমান জানান, বাংলাদেশের বন বিভাগ, আমেরিকার টারটেল সারভাইভাল এলায়েন্স, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা জু ও প্রকৃতি জীবন ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের কুমির ও হরিণের পাশাপাশি ২০১৪ সালে গড়ে তোলা হয় ‘বাটাগুর বাসকা’র কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র। বিশ্বের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির তালিকায় থাকা বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ করমজলে প্রজননের আগে শুধু সুন্দরবনসহ বাংলাদেশ ও ভারতে ছিল ১০০টির মতো। তিন বছরে সুন্দরবনের করমজলে প্রজননের মাধ্যমে এর সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ১২৭টিতে। বর্তমানে করমজল কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রে ১১৭ কিশোর-কিশোরী ও ১০টি বড় বাটাগুর বাসক প্রজাতির কচ্ছপ রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি বড় পুরুষ ও ৪টি নারী কচ্ছপ রয়েছে। বড় অন্য দুটির পিঠে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে গত রবিবার সুন্দরবনের বঙ্গোপসাগরের মোহনার আদাচাই এলাকার সাগরে ভাটার সময় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ৮টি কচ্ছপ চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় ডিম দেবে। এরপর ডিম থেকে ফুটে বের হওয়া বাচ্চাগুলো প্রাপ্তবয়স্ক হলে সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগরে অবমুক্ত করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow