Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৯
মন্ত্রিসভা বৈঠক
মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাইয়ের নামে টাকার খেলা চলছে
নিজামুল হক বিপুল

মন্ত্রিসভা বৈঠকের অনির্ধারিত আলোচনায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নিয়ে অনিয়ম, অর্থ লেনদেনের বিষয় তুলে ধরে সিনিয়র মন্ত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে তারা বলেছেন, এতটাই অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে তাতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে ৩৫তম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটায় প্রার্থী না পাওয়ায় ৩৩৮টি শূন্য পদ ৩৬ বিসিএস থেকে পূরণের সিদ্ধান্ত দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা শুধু ৩৬তম বিসিএসে প্রাধিকার কোটার ৭৩৭টি পদে পদ সংরক্ষণের বিধান শিথিল করেছে। মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় বলে বৈঠক শেষে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নিয়ে ক্ষোভ : বৈঠক শেষে মন্ত্রিসভার একাধিক সিনিয়র সদস্যের সঙ্গে কথা বলে এবং বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গতকালের বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই নিয়ে সারা দেশে যে অরাজকতা ও অনিয়ম হচ্ছে সে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্যরা। সূত্র জানায়, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনামন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। সূত্র জানায়, তারা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গত কিছুদিন ধরে সারা দেশে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের নামে শুধু টাকার খেলা চলছে। একেকজনের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কারও কারও কাছে চাওয়া হয়েছে। এই হয়রানি ও অনিয়মের শিকার হচ্ছেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা। এ অবস্থায় তারা উপায়ান্তর না পেয়ে ঢাকা ছুটে আসছেন আমাদের কাছে। তাদের পক্ষে তদবির করার জন্য অনুরোধ করছেন। বৈঠক সূত্র জানায়, একজন সিনিয়র মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা একেবারে অস্থির হয়ে উঠেছি। প্রতিদিন মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে তদবির করতে হয়। অথচ এটা হওয়ার কথা ছিল না। সূত্র জানায়, সিনিয়র মন্ত্রীদের কথা ও ক্ষোভ শুনে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভাকে বলেন, বিষয়টি আমি দেখব।

বিসিএস শূন্য পদ পূরণে কোটা শিথিল : মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈঠকে ৩৫তম বিসিএসে নন-ক্যাডার পদ হিসেবে আনসার ও মিড ওয়াইফারি পদগুলো পূরণের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটা শিথিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত দিয়েছে এ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে অপূরণ হওয়া পদগুলো জাতীয় মেধাতালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ করা হবে। এটা শুধু ৩৫তম বিসিএসের বেলায় প্রযোজ্য হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্কেল অ্যাডজুটেন্টের ৩০২টি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিড ওয়াইফারি (ধাত্রী) ৬০০টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ৩৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে (যারা ক্যাডার পাননি) ৮০২টি নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কোটা যা ছিল তাই আছে, শুধু কোটা শিথিলের সিদ্ধান্ত দিয়েছে মন্ত্রিসভা, সংবিধানেও কোটার বিধান আছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বৈঠকে শিশু (সংশোধন) আইন-২০১৭ এর খসড়া ও প্রাণী কল্যাণ আইন-২০১৬ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত শিশু আইনে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেটি হচ্ছে আগে সাক্ষীদের শিশু আদালতে নেওয়া হতো। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, সাক্ষীদের শিশু আদালতের বদলে সাধারণ আদালতে নেওয়া যাবে। তিনি বলেন, প্রাণী কল্যাণ আইনে সাজার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রাণী হত্যা করা যাবে না, মারা যাবে না, অঙ্গহানি করা যাবে না, বিষ প্রয়োগে হত্যা করা যাবে না। এসব অপরাধ করলে দুই বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। এই সাজার পরিমাণ আগে কম ছিল। এ ছাড়াও বৈঠকে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড (সংশোধন) আইন-২০১৭ এবং বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আইন-২০১৬ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow