Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০৬
পুরনোদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মাঠ কাঁপাচ্ছেন নতুনরা
সিলেটের রাজনীতিতে নির্বাচনী হাওয়া
শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে সিলেটের রাজনীতিতে। নির্বাচন কমিশন গঠনের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন।

ভোটের মাঠ দখলে কাজ শুরু করে দিয়েছেন তারা।

আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে সাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্যদের পেছনে ফেলে সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অন্তত এক ডজন নেতা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। পুরনোদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তারা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে নানা সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

সিলেটের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ না হওয়ায় মানুষ নির্বাচনের আমেজ উপভোগ করতে পারেনি। কিন্তু আগামী নির্বাচন হবে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। সব কটি প্রধান দলই নির্বাচনে অংশ নেবে। তাদের মতে, আগামী নির্বাচনে প্রবীণদের চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারেন দলের নতুন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। সিলেটের অন্তত চারটি আসনে সেই আভাস পুরোদমেই  পাওয়া যাচ্ছে।

জনশ্রুতি আছে, সিলেট-১ আসনে যে দল বিজয়ী হয় সে দলই সরকার গঠন করে। মর্যাদাপূর্ণ এ আসনে আর প্রার্থী না হওয়ার আগাম ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আসনটিতে তার ভাই জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন প্রার্থী হবেন বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। এর পর থেকেই অর্থমন্ত্রীর ভাই পুরোদমে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তবে মোমেনকে ফাঁকা মাঠ দিচ্ছেন না দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। তার সমর্থনে নগরীর বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং হয়েছে। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে সিরাজ এখন ভোটারদের সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সিলেট-১ আসনে এতদিন বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও খালেদা জিয়ার বর্তমান উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তবে শমসের মবিন চৌধুরী রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ায় বর্তমানে খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরই মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। তিনিও নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সিলেট-২ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে এখন পর্যন্ত মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী। দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গত নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে তিনি জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দেন। শফিক চৌধুরী আগামী নির্বাচনে আসনটিতে একজন সম্ভাব্য প্রার্থী। এ আসনে বিএনপিতে নতুন মুখ আসছে, এটা নিশ্চিত। ‘নিখোঁজ’ ইলিয়াস আলী ছিলেন এ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য। বর্তমানে তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।

সিলেট-৩ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীকে আগামী নির্বাচনে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব। সে লক্ষ্যে ক্রমেই নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।

সিলেট-৪ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে নতুন মুখের দেখা না মিললেও সিলেট-৫ আসনে উভয় দল থেকেই নতুন মুখ মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ আসনে বর্তমানে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদারের আগামীতে নির্বাচন করার সম্ভাবনা নেই। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ ও যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আহমদ আল কবির। দুজনই নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া এ আসনে নতুন মুখ হিসেবে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চান কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক নেতা ও বর্তমান জেলা বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদ মামুন। সিলেট-৬ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে টপকে দলীয় মনোনয়ন বাগিয়ে নিতে মাঠে তত্পর রয়েছেন কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সারওয়ার হোসেন। এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী ও সিলেট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরীও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। এ ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীন আগামী নির্বাচন হলে বিএনপি তাতে অংশ নেবে। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারাও সে বিষয়টি মাথায় রেখে নিজ নিজ এলাকায় কাজ করছেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের বৃহৎ এই দল থেকে অনেক নেতাই মনোনয়ন চান। সেজন্য তারা তত্পরও। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow