Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০২:১০
দুদকের ‘ফাঁদ’ কৌশলে দুর্নীতিবাজরা আতঙ্কিত
মোস্তফা কাজল

দুর্নীতিবাজরা আতঙ্কিত দুদকের ‘ফাঁদ’ কৌশলে। গত দেড় মাসে তিনজন সরকারি কর্মকর্তাসহ সাতজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে দুদক।

ফাঁদ পেতে দুর্নীতিবাজ ধরতে গিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নাজেহাল ও অবরুদ্ধ হয়েছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। তখন জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। এর পরই দুদকের ‘ফাঁদ’ প্রক্রিয়ার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

দুর্নীতিবাজ ধরার পদ্ধতিকে আইনগতভাবে সম্পূর্ণ বৈধ ও যুক্তিসংগত বলেই মনে করেন আইনজীবী ও দুদক কর্মকর্তারা। আইনজীবীদের মতে, দুদকের ‘ফাঁদ’ কার্যক্রমের ফলে দুর্নীতিতে ছেয়ে থাকা সরকারি অফিসগুলোয় ঘুষ-দুর্নীতির হার কমে আসবে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাবধান হয়ে যাবেন। এরই মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় তারা কারাগারে আছেন। ১৯ জানুয়ারি মাদারীপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মজুমদার মো. মাহফজুর রহমানকে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে গ্রেফতার করেন দুদক কর্মকর্তারা। ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁও থেকে গ্রেফতার করা হয় কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের রেশনিং কর্মকর্তা বিউটি বেগমকে। ৭ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (রাজস্ব সার্কেল-২) উপ-কর কর্মকর্তা আলী আকবরকে ঘুষসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেন দুদক কর্মকর্তারা। ১৬ ফেব্রুয়ারি ঘুষের ২০ হাজার টাকাসহ গ্রেফতার করা হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উপ-কর কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জমাদ্দারকে। তার দেহ তল্লাশি করে আরও ১ লাখ ২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের ‘ফাঁদ’ কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৭ সালে। ওই বছরই এটি দুদকের ১৬ নম্বর বিধিতে সংযুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়, দুর্নীতি প্রতিরোধের নিমিত্ত আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে হাতেনাতে ধরার উদ্দেশ্যে তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনারের অনুমোদনক্রমে তত্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফাঁদ মামলা (ট্র্যাপ কেস) প্রস্তুত বা পরিচালনা করতে পারবেন। এ ছাড়া বলা হয়, ‘ফাঁদ মামলার তদন্ত কার্যক্রম কেবল তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনার বা তত্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনের পরিচালক পদমর্যাদার নিচে নয় এমন একজন কর্মকর্তা দিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ১৬১ ধারায় ঘুষ দেওয়া-নেওয়াসহ সরকারি কর্মচারীদের অপরাধ সম্পর্কে আইনই আছে। দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ব্যারিস্টার আকবর আমিন বাবুল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ট্র্যাপ কেস দুদকের ভালো উদ্যোগগুলোর একটি। এতে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত সরকারি দফতরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটু হলেও সাবধান হবেন। এখন দুদকের কর্মকর্তারা দুর্নীতির মৌচাকে হাত দিয়েছেন। দুদককে সাবধানি হয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, দুদক নিজ থেকে কাউকে লোভে ফেলে কিংবা ঘুষ দেওয়ার ফাঁদে ফেলে গ্রেফতার করে না। কিংবা ফাঁদ তৈরি করে না। যদি কারও কাছে কেউ ঘুষ চায় আর ওই ব্যক্তি যদি দুদকের কাছে অভিযোগ করেন, তখন দুদক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। দুদক স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কিছু করে না। দুদকের সিনিয়র আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, বিধি অনুযায়ী দুদকের ট্র্যাপ কেস সম্পূর্ণ বৈধ ও যুক্তিসংগত। ঘুষখোরদের ধরতে এর বিকল্প নেই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow