Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৪
সুবিধা পেতে নিজেই মা সাজলেন অভিনেত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুবিধা পেতে নিজেই মা সাজলেন এক সময়ের চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সবিতা ব্যানার্জি। তিনি জাল কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে অন্যের জমি নিজের দাবি করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টা করছেন।

আর এ কাজ করতে গিয়ে তিনি ১৯৯৫ সালে মারা যাওয়া মায়ের নামে নিজেই জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন ও নকল দলিল তৈরি করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাল ওই সব কাগজপত্র দিয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখায় আবেদন করেছেন সবিতা।

এ ঘটনায় সবিতার বোন অভিনেত্রী রীতা ব্যানার্জি বিব্রত হওয়ার কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সে এমন জালিয়াতির কাজ করতে পারে সেটা ভাবতেও পারি না। সে আমাদের পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। পুলিশের উচিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। সবিতার স্বজনরা বলছে, যে জমির বিপরীতে সবিতা ক্ষতিপূরণের আবেদন করেছে তা তাদের পারিবারিক জমি ছিল এবং সেটা অনেক আগেই তাদের পরিবার বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমানে তাতে তাদের কোনো মালিকানা কিংবা স্বত্ব নেই। জানা গেছে, রাজধানীর ভাটারা থানাধীন জোয়ার সাহারা মৌজায় সবিতা ব্যানার্জির মা অরুনা ব্যানার্জির সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি ছিল। ১৯৮২ সালে ছাবেদ আলী এবং তার ওয়ারিশদের কাছ থেকে ওই জমি কিনেছিলেন তিনি।

অরুনা ব্যানার্জি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৫ সালের ২১ অক্টোবর মারা যান। এরপর তার ছেলে বাবুল ব্যানার্জি একমাত্র ওয়ারিশ হিসেবে ওই জমি আলতাফ হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেন। পরে আলতাফ হোসেন সেই জমি একটি আবাসন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিলে সেই কোম্পানি নামজারির পর খাজনা পরিশোধ করে নিজেদের ভোগ-দখলে রেখেছে। ওই জমি পরে সরকার অধিগ্রহণ করে। এ অবস্থায় সবিতা ব্যানার্জি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে নিজে মা অরুনা ব্যানার্জি সেজে ক্ষতিপূরণের টাকা তোলার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসনের এলএ শাখায় জমা দেন। অথচ এই সবিতা ব্যানার্জিই ১৯৯৬ সালে ঢাকার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হয়ে এক হলফনামায় বলেছিলেন, তার মা অরুনা ব্যানার্জি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৫ সালের ২১ অক্টোবর মারা যান। পরিবারের ওয়ারিশ প্রমাণের ক্ষেত্রে তিনি তখন ওই হলফনামা দিয়েছিলেন। ওই হলফনামায় আইনজীবী হিসেবে সই করেছিলেন অ্যাডভোকেট সুচরিতা সেন। অথচ এখন সবিতা জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের টাকা আত্মসাৎ করার জন্য নিজের হলফনামায় ঘোষিত মৃত মাকে জীবিত সাজিয়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করেছেন।   জানা গেছে, শুধু হলফনামায় নয়, সবিতা তার মায়ের রেজিস্ট্রেশন করা দলিলের একটি নকল দলিল তৈরি করেন। সেই দলিলে আগের দলিল সম্পাদনের তারিখ, দলিল নম্বর ও দাতা-গ্রহীতা ঠিক রাখা হয়। কেউ একে চ্যালেঞ্জ করলে যাতে বালাম বইয়ে তা সঠিকভাবে পাওয়া যায়। একই সঙ্গে সবিতা তার মৃত মা অরুনা ব্যানার্জিকে জীবিত দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের একটি কপি ফাইলে সংযুক্ত করেছেন। সেখানে তার জন্মতারিখ ১৯৬১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দেখানো হয়েছে। ফাইলে তার একটি জন্মসনদ দেওয়া হয়েছে, যাতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জোন-৫-এর সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ফিরোজ আলমের স্বাক্ষর আছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এসব সনদ জাল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। জানা গেছে, সবিতার দুই বোন ও এক ভাই রয়েছে। বোনরা হলেন রীতা ব্যানার্জি ও মিতা ব্যানার্জি এবং ভাই বাবুল ব্যানার্জি। জোয়ার সাহারা মৌজায় ৩০০ ফুট রাস্তার পাশে তাদের যে সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি ছিল সেটা অনেক আগেই তাদের পরিবার বিক্রি করে দিয়েছে। সবিতা জাল কাগজপত্র নিয়ে যা করছেন তাতে বিব্রত স্বজনরা। ঢাকা জেলা প্রশাসনের এলএ শাখা সূত্র জানায়, সবিতা ব্যানার্জির কাগজপত্র যে জাল সে সম্পর্কে তারা ধারণা পেয়েছে। সর্বশেষ মহানগর বা সিটি জরিপ অনুযায়ী নামজারি ও খাজনার কাগজপত্র চাইলে তিনি আর তা জমা দেননি। সবিতা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় তিনি চলচ্চিত্রে ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করতেন। সেই পরিচয়ে বর্তমানে তিনি নানা প্রতারণা করে যাচ্ছেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow