Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৯
প্রকৃতি
সুন্দরবনে নিষিদ্ধ সময়েও কাঁকড়া আহরণ
বাগেরহাট প্রতিনিধি
সুন্দরবনে নিষিদ্ধ সময়েও কাঁকড়া আহরণ

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের নদী ও খালে শিকার নিষিদ্ধ প্রজনন মৌসুমের শেষ ভাগে এসে নির্বিচারে রপ্তানি পণ্য শিলা কাঁকড়া আহরণের মহোৎসব শুরু হয়েছে। জানা গেছে, বিশ্ববাজারে সুন্দরবনের ডিমওয়ালা শিলা কাঁকড়ার উচ্চমূল্য ও ব্যাপক চাহিদা থাকায় জেলেরা এগুলো আহরণে নেমেছেন।

তবে এর পেছনে রয়েছেন বনবিভাগের স্বার্থান্বেষী কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এরাই এ আহরণে সহায়তা দিচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যানুযায়ী, প্রায় সারা বছরই মংলা, রামপাল, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, দাকোপ, কয়রাসহ সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক বনজীবী সুন্দরবনে শিলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়া ধরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এসব বনজীবীরা সরকারকে রাজস্ব দিয়ে বনবিভাগের কাছ থেকে বৈধ পারমিট নিয়ে সুন্দবনের কাঁকড়া ধরেন। তবে প্রতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস কাঁকড়ার ভরা প্রজনন মৌসুম হওয়ায় বনবিভাগ এ সময় কাঁকড়া আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এবারও তা করা হয়। কিন্তু অসাধু মহাজনরা বনবিভাগের অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করে এখন ডিমওয়ালা শিলা কাঁকড়াসহ সব ধরনের কাঁকড়া শিকারে নেমেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে ও বনজীবী স্বীকার করে বলেন, ‘চুক্তি করে বনবিভাগের স্টেশন অফিস থেকে ঘুষের টাকা দিয়ে সাদা মাছের পারমিট নিলেও বনে গিয়ে শিলা কাঁকড়া ধরে থাকি। তা ছাড়া টহলরত ফরেস্টারদের সঙ্গেও চুক্তি থাকে। যে কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বনে প্রবেশ করার আগেই জেলেদের খবর জানিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় জেলেরা গভীর বনের খালে লুকিয়ে থাকেন। এভাবেই সুন্দরবনে শিলাসহ অন্যসব প্রজাতির কাঁকড়া ধরা হচ্ছে। ’ আরও জানা গেছে, অনেক জেলে কোনো পাস-পারমিট না করেও বনবিভাগকে ম্যানেজ করে শিলা কাঁকড়া ধরছেন। সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পরিবেশবিদ ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সুন্দরবনে প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া শিকারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরকার বা বনবিভাগ কেউই ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড এই ম্যানগ্রোভ বনের প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় আন্তরিক নয়। এভাবে শিলা কাঁকড়া আহরণ করার ফলে কাঁকড়ার ভাণ্ডারখ্যাত সুন্দরবন থেকে লাল টুকটুকে কাঁকড়ার বিলুপ্তি ঘটবে। এতে সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতিতে বিরূপ প্রভাবসহ আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল চাহিদা থাকা শিলা কাঁকড়া নামের রপ্তানি পণ্যটিরও অস্তিত্ব বিলোপ হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow