Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৫৭
প্রানেরমেলা প্রতিদিন
তবুও হুমায়ূন আহমেদ
মোস্তফা মতিহার
তবুও হুমায়ূন আহমেদ

তিনি চলে গেছেন প্রায় পাঁচ বছর আগে। তবুও এ দেশের অগণিত ভক্তের হৃদয়ের গহিনে এখনো প্রাণপুরুষ হয়েই আছেন।

পাঠকের মানসপটে চিত্রিত তার ছবিটি ধূসর হয়ে যায়নি। বলছিলাম দেশের সবচেয়ে নন্দিত লেখক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের কথা। অমর একুশে গ্রন্থমেলায় হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তাকে এখন পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারেননি কোনো লেখক।   গতকাল ২৩তম দিনের বিক্রির হিসাব তারই প্রমাণ দিয়েছে। বইপ্রেমীদের হাতে হাতে হুমায়ূন আহমেদের বই তার প্রতি পাঠকের ভালোবাসার প্রতীক হয়ে রয়েছে। দেখা গেছে অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলী-১০ বইটি বিক্রির শীর্ষে রয়েছে। বইটির প্রকাশক অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, একজন লেখকের মৃত্যুর পাঁচ বছর পরও তার বই বেস্ট সেলার হিসেবে শ্রেষ্ঠস্থান দখল করে নেওয়া একটি অসম্ভব ঘটনা। অন্যদিকে কাকলীর স্বত্বাধিকারী এ কে নাছির আহমেদ সেলিম বলেন, তাদের প্রকাশিত হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রেষ্ঠ মিসির আলি’ বইটি এবারের মেলার বেশি বিক্রীত বইয়ের স্থান দখল করে আছে। বিগত বছরগুলোর ‘নন্দিত নরকে’, ‘দেয়াল’, ‘হিমুসমগ্র’-এর জন্য পাঠক ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন স্টলে। বিকাল ৫টার দিকে অন্যপ্রকাশের সামনে রাধিকা চৌধুরী নামে এক তরুণী হুমায়ূন আহমেদের পুরনো বই ‘দেয়াল’ ও ‘নন্দিত নরকে’ খুঁজছিলেন। তিনি জানান, লেখকের এ দুটি বই সংগ্রহে নেই বলেই কিনছেন। অন্যদিকে এ বছর লেখকের ‘মিসির আলি-১০’, ‘শ্রেষ্ঠ মিসির আলি’ বই দুটি কিনেছেন বলেও জানালেন এই তরুণী। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের প্রবেশদ্বারে একদল তরুণ-তরুণী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের কাছে জানতে চাইলেন হুমায়ূন আহমেদের বই কোন স্টলে পাওয়া যায়। তারা অপারগতা প্রকাশ করলে একজন তাদের কোনো এক বন্ধুকে ফোন করে প্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের খোঁজখবর নেন। জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের পরের স্থানে এবারও রয়েছেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তাম্রলিপি থেকে প্রকাশিত লেখকের সায়েন্সফিকশন বই ‘রিটিন’ বিক্রির দিক দিয়ে এবার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাম্রলিপির বিক্রয়কর্মীরা জানালেন, বইটি কেনার জন্য বইপ্রেমীর ভিড় লেগেই আছে। এরপর রয়েছে রাজনীতির বই। অন্বেষা থেকে প্রকাশিত ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের ‘আন্দোলন-সংগ্রামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ বইটি এবারের বেস্ট সেলার হিসেবে সেরা স্থান দখল করেছে বলে জানান অন্বেষার স্বত্বাধিকারী শাহাদাৎ হোসেন। তিনি জানান, এ বইটির এখন পর্যন্ত ১২টি সংস্করণ চলে এসেছে। উপন্যাস, সায়েন্সফিকশন ও রাজনীতির বইয়ের পাশাপাশি প্রবন্ধ, অনুবাদ, মুক্তিযুদ্ধের বইগুলো ভালো বিক্রি হচ্ছে। উপন্যাস বেশি বিক্রি হলেও এবারও প্রকাশনার দিকে এগিয়ে রয়েছে কবিতার বই। আজ শেষ শুক্রবার মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায় এবং বন্ধ হবে রাত সাড়ে ৮টায়। ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত মেলায় সপ্তম শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল মেলায় এসেছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিকালে তিনি আগামী প্রকাশনীর স্টলে বেশ কিছুক্ষণ কাটান। আগামী থেকে প্রকাশিত তার পুরনো বই ‘বাংলাদেশের হৃদয় হতে’-এর ওপর তিনি ভক্তদের অটোগ্রাফ দেন। গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা : অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিকসংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য জার্নিম্যান বুকসেক চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০১৭, পাভেল রহমানের ‘সাংবাদিকতা আমার ক্যামেরায়’ গ্রন্থের জন্য মাওলা ব্রাদার্স, রণজিৎ কুমার মণ্ডলের ‘আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়’ গ্রন্থের জন্য পুঁথিনিলয়কে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৭; ২০১৬ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার ২০১৭ এবং ২০১৭ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাতিঘর, সংবেদ ও পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডকে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৭ প্রদান করা হয়েছে। মেলার শেষ দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পুরস্কার পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। নতুন বই : গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ৭২টি এবং ৩১টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো : নওরোজ কিতাবিস্তান থেকে প্রকাশিত তাইসির রেজার নাটকের বই ‘লালপদ্ম’ ও কাব্যগ্রন্থ ‘খেয়ালী মনের কাব্য’; পাঞ্জেরী থেকে প্রকাশিত হয়েছে সৈয়দ শামসুল হকের লেখা কাব্যগ্রন্থ ‘কর্কটবৃক্ষের শব্দসবুজ শাখায়’; অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্স থেকে মিনার মনসুরের ‘অতল জালের টানে’; শ্রাবণ থেকে তসলিমা নাসরিনের ‘সকল গৃহ হারানো যার’; একুশে বাংলা থেকে অনু হোসেনের ‘টুনটুনির গল্প’; নবযুগ থেকে ড. সন্জীদা খাতুনের ‘সংস্কৃতির বৃক্ষছায়ায়’; কথাপ্রকাশ থেকে আবুল ফজলের ‘শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ’। মূলমঞ্চ : গতকাল বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অনুবাদ সাহিত্য : সাহিত্যের অনুবাদ শীর্ষক আলোচনা সভা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম। আলোচনায় অংশ নেন কবি ড. মুহাম্মদ সামাদ, শামীম আজাদ ও সাদাফ্ সায। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল নাজিয়া জাবীনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘স্পর্শ’ ও শাহাবুদ্দিন আহেমদ দোলনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সুর সংগী চক্র’-এর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। একক সংগীত পরিবেশন করেন আবদুল আউয়াল, শারমিন সুলতানা, সুমন চন্দ্র দাস, মির্জা শামসুল আলম, সুধীর মণ্ডল, জাকির হোসেন, জামাল দেওয়ান, বিমল বাউল ও দেলোয়ার হোসেন বয়াতি। মোস্তফা কামালের ‘কিতা কইত্তাম’ রাজনীতিসহ সমসাময়িক বিষয়াদি নিয়ে রম্য। দাম দেড়শ টাকা। পাওয়া যাচ্ছে মেলা পাবলিকেশন্স (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি—ডিআরইউ (বাংলা একাডেমি মূল চত্বর) স্টলে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow