Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৫৮
বসুন্ধরায় মেলার উদ্বোধন
দেশে ওষুধ শিল্পের অগ্রগতি গর্ব করার মতো : তোফায়েল
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের অগ্রগতি এখন গর্ব করার মতো। দেশে শিল্প উৎপাদনের শীর্ষ খাত এখন এই ওষুধশিল্প।

আমদানি নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আমরা এখন ওষুধ রপ্তানি করছি। এ অগ্রগতি সারা বিশ্বের কাছে বিস্ময়কর।

তিনি গতকাল রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী নবম এশিয়া ফার্মা এক্সপো ২০১৭-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতির উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান প্রমুখ। তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে। মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত। উদ্বোধনী বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, স্বাধীনতার পর আমরা ৭০ শতাংশ ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানি করতাম। এখন দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করে বিশ্বের ১২৭টি দেশে বাংলাদেশের উৎপাদিত মানসম্মত ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে। এ অগ্রগতি গর্ব করার মতো।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ওষুধশিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার উদ্যোক্তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। ওষুধশিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর জন্য আমরা কাজ করব, যাতে উদ্যোক্তারা ভালো মানের ওষুধ তৈরি করে তা আরও দেশে রপ্তানি করতে পারেন। তিনি বলেন, ওষুধশিল্পে বড় ধরনের কর্মসংস্থান হয়েছে। ভারী শিল্পের অন্যতম এই বড় খাতে প্রচুর বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ শুধু ওষুধ উৎপাদন নয়, ওষুধশিল্পের কাঁচামালও উৎপাদন ও রপ্তানি করবে। তিনি উল্লেখ করেন, ওষুধশিল্পের জন্য আলাদা শিল্পপার্ক স্থাপন করা হয়েছে। এই পার্ক চালু হলে এ শিল্পের আরও উন্নয়ন হবে। সালমান এফ রহমান বলেন, ওষুধশিল্পে রপ্তানি বাড়াতে হলে বিদেশ থেকে আনা কাঁচামালের ওপর ডিউটি ফি কমাতে হবে। একটি দেশে আমরা চাইলেই রপ্তানি করতে পারছি না। ওই দেশে নির্দিষ্ট ওষুধ ও কোম্পানির নাম রেজিস্ট্রেশন করার পরই আমরা রপ্তানি করতে পারি। তাই এসব সমস্যা সমাধানে আমাদের এবং সরকারকে আরও কাজ করতে হবে। এবারের এক্সপোতে আমেরিকা, জাপান, চীন ও ভারতসহ মোট ৩৫টি দেশের ৫০০ ওষুধ কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। আয়োজনে রয়েছে ফার্মা প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, বায়োটেক ল্যাব ইকুইপমেন্ট, এপিআই ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টস ও মেশিনারিজ, ফার্মা ফর্মুলেশন্স ও কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারিং। এক্সপোতে দেশি উদ্যোক্তারা ওষুধশিল্প সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল সম্পর্কে জানতে পারবেন। মেলায় দেখা গেছে, সারা দেশ থেকে উদ্যোক্তারা এসেছেন। তারা ঘুরে ঘুরে দেখছেন প্রদর্শনী। ট্যাবলেট তৈরির মেশিনের সামনে দাঁড়িয়ে দেখছেন— একটি মেশিনের মধ্যেই বিভিন্ন কেমিক্যাল দেওয়া হচ্ছে। তারপর মেশিন থেকে তা ট্যাবলেট হয়ে বের হচ্ছে। স্টল কর্মীরা বুঝিয়ে দিচ্ছেন কীভাবে কেমিক্যাল ঢালতে হবে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেমিক্যালের সঠিক মাপ ঠিক রেখে মেশিনই নির্দেশনা দিচ্ছে। দেখা যায়, তৈরি হওয়া ট্যাবলেট গিয়ে ঢুকছে আরেকটি মেশিনে, তারপর বের হচ্ছে প্যাক হয়ে। প্যাকসহ এ ওষুধ গিয়ে ঢুকছে আরেকটি মেশিনে, যেখানে ওষুধের নাম, সিল, লোগো ছাপা হয়ে বের হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হতে সময় লাগছে মাত্র আধা ঘণ্টা। স্টল কর্মী জানান, এ প্রযুক্তি বাংলাদেশে প্রথম এসেছে। বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাতে সময় লাগে তিন থেকে চার ঘণ্টা। একইসঙ্গে ট্যাবলেট তৈরি থেকে প্যাকিং পর্যন্ত পৃথক মেশিন ও অপারেটরের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মেশিনে মাত্র একজন অপারেটরই যথেষ্ট। মেশিনে সব ধরনের কেমিক্যাল আলাদা পাত্রে রাখতে হয়, যা মেশিনই সঠিকভাবে মেপে নিয়ে ট্যাবলেট তৈরি করে। শুধু ট্যাবলেট নয়, এ ধরনের মেশিন বিভিন্ন সিরাপ তৈরির জন্যও রয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow