Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:০২
উপজেলা ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি
২৮ ফেব্রুয়ারি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক
গোলাম রাব্বানী

উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেছে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আাাগামী ৬ মার্চ দেশের ১৮ উপজেলায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

এই প্রথম বারের মতো উপজেলা পরিষদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দল ভিত্তিক এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের পাশাপাশি বিএনপিও অংশ নিচ্ছে। নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়ে সমালোচনা করলেও দলীয় এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেওয়ায় ইসি ও সরকারের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন আইন অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস  চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে ভোট হবে। এদিকে নির্বাচনী এলাকায় জমজমাট প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা। এদিকে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন সরকারি দল মনোনীত প্রার্থীরা। তবে বিএনপি ও সমমনা প্রার্থীদের অনেকেই এই ভোট নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নতুন নির্বাচন কমিশনাররা। ইসির সচিবালয় সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেওয়ায় কমিশন অনেক সচেতনতার সঙ্গে এগোচ্ছে। নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে নির্বাচনে বাড়তি নজর দিতে হচ্ছে হুদা কমিশনকে। ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, দলীয় এ নির্বাচনে তিনটি পদেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলের প্রার্থী রয়েছেন। তিনটি পদে দলীয় প্রার্থী থাকার কারণে এ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি সচিবালয়। চলছে ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ। নির্বাচনী সরঞ্জামাদি সংগ্রহ করা হচ্ছে। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন ইসির অধীনে দলীয় এ নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয় তা নির্ভর করছে ইসির মনোভাব ও অবস্থানের উপরে। তারা বলছেন—বিগত ইসির সময় অনুষ্ঠিত উপজেলা-পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিগত ইসির দুর্নাম ঘুচিয়ে একটি বিতর্কমুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নতুন ইসির জন্য চ্যালেঞ্জ। মাত্র ১৮টি উপজেলা হলেও ৬ মার্চের ভোট নতুন ইসির জন্য নিরপেক্ষতার পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনরা। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ কখনো নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে না। প্রার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ভোটারদের মন জয় করে বিজয়ী হয়ে আসতে হবে। বিএনপি নেতারা বলেছেন, বিএনপি শতভাগ গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আর গণতন্ত্রের অংশ হলো নির্বাচন। আপনারা দেখেছেন— এর আগেও বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অংশ নিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এবারও নিয়েছে। বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমরা নতুন সিইসিকে রিজেক্ট করিনি। শুরুতেই নতুন সিইসির অধীনে উপজেলা, পৌরসভাসহ অনেক নির্বাচন রয়েছে। এতে ইসির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করব; নিরপেক্ষতা  দেখাতে পারলে নতুন ইসির বিষয়ে পয়েন্ট যোগ হবে। তিনি জানান, সামনে দীর্ঘ পথে নিরপেক্ষতা প্রমাণের সুযোগ রয়েছে নতুন ইসির। সব দিক বিবেচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে তার দল।   ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, সিলেটের ওসমানী নগর, খাগড়াছড়ির গুইমারা ও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় তিন পদে (সাধারণ নির্বাচন) ভোট হচ্ছে। এবার জেলা পরিষদের মতো উপজেলায় অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow