Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২২:৫৮
অ্যাপারেল সামিটে প্রধানমন্ত্রী
পোশাকের নতুন বাজার খুঁজুন
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পোশাকশিল্প মালিকদের তাদের পণ্যের বৈচিত্র্য আনার এবং নতুন বাজার খোঁজার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের রপ্তানি আয় বাড়াতে হলে পণ্যের বৈচিত্র্য এবং বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে।

আমাদের নতুন নতুন দেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে হবে। আপনারা এগিয়ে আসুন, সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে গতকাল বিজিএমইএ আয়োজিত দ্বিতীয় ঢাকা অ্যাপারেল সামিট ২০১৭-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পোশাকশিল্পের কারখানাগুলোর সংস্কার কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের প্রতিও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেছে। সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ক্রেতারা সহায়তা করতে পারেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক ও ঢাকায় নিয়োজিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়েদ্যু, বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাইনুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পোশাকশিল্প মালিকদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ব্যবসা করে শুধু পয়সা কামালেই হবে না। নিজেদেরও বিনিয়োগ করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক উন্নত দেশই আমাদের এই সুবিধা দিচ্ছে। কেবল আমেরিকাই দিল না। অথচ এলডিসি দেশ হিসেবে আমাদের সে অধিকার আছে। উল্টো তাদেরকে আমরা ট্যাক্স দিয়ে যাচ্ছি। বছরে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশ সাড়ে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ট্যাক্স দিচ্ছে। তাই বলা যায়— আমাদের ট্যাক্সে তারাও চলে। ঢাকার যানজট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু দেশেই যানজট আছে। লন্ডনে তিন ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় যানজটে। আমাদের দেশে অনেক গাড়ি বেড়েছে। এই যানজট মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার লক্ষণ। যানজট নিরসনে আমরা আশুলিয়ার রাস্তায় এলিভেটেড এক্সপ্রেস করতে চেয়েছি। ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ সাড়া দেননি। আমি বলব— শুধু ব্যবসা করে পয়সা কামালেই হবে না। নিজেদেরও (ব্যবসায়ীদের) বিনিয়োগ করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, পোশাকশিল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এই খাত থেকে। প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা হয়েছে। এ খাতে প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। পরোক্ষভাবে প্রায় চার কোটিরও বেশি মানুষ এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এ শিল্পকে নিরাপদ করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। এক্ষেত্রে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছে পোশাকশিল্প। ভবিষ্যতে এই শিল্প মৌলখাত হিসেবে ভূমিকা রাখবে। তার মতে, ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষি নির্ভরতা থেকে শিল্প নির্ভরতার পথে এগিয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, জাতির জনকের স্বপ্নের অর্থনৈতিক মুক্তির পথে দেশকে এগিয়ে নিয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। ইইউ’র রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়েদ্যু বলেন, ইইউ বাংলাদেশের বাণিজ্য ও উন্নয়নের অংশীদার। বাংলাদেশি পণ্যের ৫০০ মিলিয়ন ক্রেতা আছে ইউরোপে। বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের ৭০ শতাংশ বাজার ইউরোপের। এই বাজারে বাংলাদেশকে পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে ইইউ।

up-arrow