Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৮
বছরের পর বছর প্রশাসকেই চলছে ১২ পৌরসভা
নেপথ্যে মামলা আর ওয়ার্ড বিভক্তি নিয়ে সংকট
নিজামুল হক বিপুল

দেশের ১২টি পৌরসভায় প্রশাসকদের শাসন যেন শেষই হচ্ছে না। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে সিলেটের বিয়ানীবাজার এবং কুমিল্লার দেবিদ্বারে নির্বাচন হয়নি।

আর ১৭ মাস থেকে ১৩ বছর ধরে নির্বাচন হয়নি আরও ১০ পৌরসভায়। এই ১২ পৌরসভায় প্রশাসকরা শাসন করছেন। নানা অজুহাতে নির্বাচন হচ্ছে না এসব পৌরসভায়। অথচ এলাকার মানুষের দাবি, অবিলম্বে নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত মেয়রের হাতে দায়িত্ব দেওয়া হোক। অবশ্য স্থানীয় সরকার বিভাগ বলছে, এই ১২ পৌরসভার মধ্যে ছয়টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠান করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোতে ওয়ার্ড বিভক্তির কাজ সম্পন্ন না হওয়া এবং মামলা থাকায় নির্বাচন করা যাচ্ছে না।    

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৯ জেলায় মোট ১২টি পৌরসভা গঠনের পর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি। এগুলো হচ্ছে পঞ্চগড়ের বোদা ও দেবীগঞ্জ, নরসিংদীর শিবপুর, জামালপুরের  বকশীগঞ্জ, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট, পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, সিলেটের বিয়ানীবাজার, কুমিল্লার দেবিদ্বার, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও নাজিরহাট এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা। বিয়ানীবাজার পৌরসভা গঠন হয়েছে ২০০১ সালের এপ্রিলে, দেবিদ্বার ২০০২ সালের  সেপ্টেম্বরে, আজমিরীগঞ্জ ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে, ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে শিবপুর, ২০১১ সালের এপ্রিলে বোদা, একই বছরের সেপ্টেম্বরে গোসাইরহাট, ২০১২ সালের জুলাই মাসে হাটহাজারী, একই বছরের নভেম্বরে বকশীগঞ্জ, ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে হালুয়াঘাট, জুলাইয়ে দেবীগঞ্জ, নভেম্বরে নাজিরহাট এবং সর্বশেষ ২০১৫ সালের জুলাই মাসে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা গঠন করা হয়। এ ১২টি পৌরসভা গঠনের পর নিয়মানুযায়ী প্রথমে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুটি পৌরসভা বিয়ানীবাজার ও আজমিরীগঞ্জে প্রশাসক করা হয় স্থানীয় দুই ব্যক্তিকে। বাকি সবকটি পৌরসভায় প্রশাসক হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রশাসকদের দ্রুত সময়ে পৌরসভার সীমানা নির্ধারণ এবং ওয়ার্ড বিভক্তির কাজ সম্পন্ন করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। এরই সূত্র ধরে মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য চিঠি দেবে। কিন্তু এসব পৌরসভা গঠনের পর বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো উদ্যোগ নেই। ওয়ার্ড বিভক্তির কাজও এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেননি অধিকাংশ পৌরসভার প্রশাসকরা। আর মামলা রয়েছে শিবগঞ্জ ও আজমিরীগঞ্জ পৌরসভায়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন পৌরসভা গঠনের পর থেকে ১৫ বছর ১০ মাস ধরে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও তহবিল তছরুপের অভিযোগ উঠলে এবং মন্ত্রণালয় তদন্ত করে সত্যতা পেলে তাকে প্রশাসক পদ থেকে বরখাস্ত করে ২০১৩ সালে। প্রশাসক নিয়োগ করা হয় সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে। কিন্তু তোফাজ্জল মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক দুটি রিট করেন ২০১৩ ও ২০১৪ সালে। এই দুটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি পুনরায় প্রশাসক পদে বহাল থাকেন। চলতি বছরের ২২ ও ২৩ জানুয়ারি তোফাজ্জলের দুটি রিট খারিজ করে দেয় আদালত। তবে তিনি এখনো একই পদে বহাল আছেন। একইভাবে শিবপুর ও আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা নিয়েও মামলা চলছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, আদালত রিট খারিজ করে দেওয়ার পর বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। একইভাবে বোদা, দেবীগঞ্জ, ভাণ্ডারিয়া, হালুয়াঘাট ও বকশীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর গোসাইরহাট, হাটহাজারী, নাজিরহাট ও দেবিদ্বার পৌরসভার ওয়ার্ড বিভক্তির কাজ এখনো শেষ হয়নি। কবে নাগাদ এসব পৌরসভার ওয়ার্ড বিভক্তির কাজ শেষ হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি স্থানীয় সরকার বিভাগ।

up-arrow