Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪১
পুরান ঢাকা ভয়ঙ্কর
মাহবুব মমতাজী
পুরান ঢাকা ভয়ঙ্কর

দীর্ঘদিনেও সরেনি পুরান ঢাকায় অবস্থিত কেমিক্যাল গোডাউনগুলো। সেসব গোডাউনের কারণে গলিপথে অসংখ্য আবাসিক ভবনে প্রতিনিয়ত বিরাজ করছে এক ধরনের আতঙ্ক।

আর এই কেমিক্যালে দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে ওই এলাকাটি। সর্বশেষ শনিবার একই দিনে দুটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একটির ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সেখানকার আবাসিক ভবনগুলোর নিচে জরাজীর্ণ পরিস্থিতিতেই চলে কেমিক্যালের রমরমা বাণিজ্য। ঝুঁকি থাকার পরও আরমানিটোলা, বাবুবাজার, মিটফোর্ড, চকবাজার, কামরাঙ্গীর চর, লালবাগ, বংশাল ও ইসলামপুরে অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে চলছে রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের ব্যবসা। এগুলোর ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আরেকটি নিমতলী ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এরই মধ্যে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে অন্তত ৪০০ আবাসিক বহুতল ভবন চিহ্নিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। যে ভবনগুলোর নিচে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যালের গোডাউন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আবাসিক ভবনের নিচে কয়েক শ ঝুঁকিপূর্ণ গোডাউনের ৯৮ শতাংশই অনুমোদনহীন। প্রাথমিকভাবে পুরান ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ গুদামগুলো চিহ্নিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। ১৯ জানুয়ারি থেকে তাদের ২৪ সদস্যের টিম চারটি ইউনিটে বিভক্ত হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অনুসন্ধান করে একটি তালিকা তৈরি করে। ওই তালিকার কপি মন্ত্রণালয়ে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জমা দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সুপারিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী মাসে শুরু হবে কেমিক্যাল গোডাউন সরানোর কাজ। হুমায়ুন নামে চকবাজারের এক বাসিন্দা জানান, নিমতলী ট্র্যাজেডির পর পুরান ঢাকা থেকে বহুবার কেমিক্যাল গোডাউন সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। আবাসিক ভবনের নিচে দাহ্য পদার্থ রাখা ও কেনাবেচার কারণে এলাকাবাসী আতঙ্কের পাশাপাশি নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট। আর পুরান ঢাকার বাড়িওয়ালারা বেশি টাকার লোভে ঝুঁকি নিয়েই কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের এসব গোডাউন ভাড়া দেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, শর্ত ভঙ্গ করে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় কেমিক্যাল গুদাম করা হয়েছে। এসব গুদাম থেকে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর ফায়ার সার্ভিস চাইলেও এসব গুদাম উচ্ছেদ করতে পারে না। গুদাম উচ্ছেদ করতে হলে পুলিশ ও বিস্ফোরক অধিদফতরের সহায়তার প্রয়োজন আছে। জানা গেছে, পুরান ঢাকায় অবস্থিত কেমিক্যঅল গোডাউনের মধ্যে রয়েছে গ্লিসারিন, সোডিয়াম এনহাইড্রোস, সোডিয়াম থায়োসালফেট, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, মিথাইল ইথাইল কাইটন, থিনার, আইসোপ্রোপাইল, টলুইনের মতো ভয়ঙ্কর সব রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ। এসব রাসায়নিকে সামান্য আগুন মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো এলাকায়। আরমানিটোলার এ সি রায় রোডে রয়েছে মেসার্স কেমিক্যাল সেন্টার। সেখানকার দুই তলা ভবনের নিচতলায় কেমিক্যালের গোডাউন। ওই ভবনের পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণে আরও শতাধিক দোকানে মজুদ করা হয়েছে কেমিক্যাল। সেখানে প্রতিনিয়ত কেনাবেচা করা হয় ক্যালসিয়াম সোডিয়াম কার্বটেন ও ব্লিচিং পাউডারের মতো ভয়ঙ্কর দাহ্য পদার্থ। এসবের সঙ্গে জড়িত আছেন এক হাজারের বেশি শ্রমিক। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে সার্ভে করে কেমিক্যাল গোডাউন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করেছি। তার একটি প্রতিবেদন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে জমা দেওয়া হয়েছে।

 সিটি করপোরেশনের অধীন পুলিশের সহায়তায় এলাকাভিত্তিক ভাগ করে আগামী ১ মার্চ থেকে গোডাউন সরানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ’ এর আগে ২০১০ সালের ৩ জুন নবাব কাটরার নিমতলীর একটি বাড়ির নিচতলায় থাকা রাসায়নিকের গুদামে অগ্নিকাণ্ডে নারী-শিশুসহ ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া দগ্ধ হন দুই শতাধিক মানুষ।

up-arrow