Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪২
ধর্মঘটে অচল দুই বন্দর ব্যাপক ভোগান্তি
প্রতিদিন ডেস্ক

খুলনা বিভাগের দশ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সাতক্ষীরা ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকৃত শতাধিক কাঁচামাল ভর্তি ট্রাকসহ ৫ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে আছে। এতে বন্দরের আমদানিকৃত কয়েক কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে বেনাপোল বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বন্দরে  ওষুধ, অক্সিজেন ও উচ্চ পচনশীল পণ্যসহ খালাসের অপেক্ষায় এক হাজার পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকা পড়ে আছে। সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ গতকালও অব্যাহত ছিল। এদিকে, অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল দুপুরে খুলনায় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় শ্রমিক নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, সমঝোতা বৈঠকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ধর্মঘট কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর— সাতক্ষীরা : ধর্মঘটের কারণে ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানিকৃত শতাধিক কাঁচামাল ভর্তি ট্রাকসহ ৫ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে আছে। এতে আমদানিকৃত কয়েক কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা পণ্য পিয়াজ, কমলা লেবু, আপেল, আঙ্গুরসহ বিভিন্ন ধরনের ফল আমদানিকারকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বন্দরে মাল খালাসের জন্য লোডিং আন লোডিং না হওয়ায় তিন হাজারের মতো শ্রমিকের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মানবেতর জীবন-যাপন করছে শ্রমিকরা। ভোমরা সিএন্ডএফের সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান নাছিম জানান, আমদানিকারকরা প্রতিদিন শত কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কাঁচামাল পচে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে দ্রুত ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ছাড়া জেলার আটটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। বেনাপোল : ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে বেনাপোল বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বন্দরে  ওষুধ, অক্সিজেন ও উচ্চ পচনশীল পণ্যসহ খালাসের অপেক্ষায় এক হাজার পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকা পড়ে আছে। রপ্তানিযোগ্য কোনো পণ্য বোঝাই ট্রাক বেনাপোল বন্দরে আসতে না পারায় ভারতে পণ্য রপ্তানি সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল বন্দরে আটকে পড়া বেশ কিছু পণ্য চালানের ১ কোটি টাকার মাছ নষ্ট হয়ে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে লাখ লাখ টাকার পিয়াজ অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। অক্সিজেনবাহী ট্রাক বন্দরে আটকা পড়ায় বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুই দিনে বেনাপোল বন্দর থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার বলে কাস্টমস সূত্র জানায়। বন্দর সড়কের দুই পাশে শত শত ট্রাক আটকা পড়েছে। ইন্ডিয়া বাংলাদেশে চেম্বার অব কমার্সের বন্দর সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, শেডে জায়গা না থাকায় বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ পণ্যজট। ফলে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ৫ হাজার পণ্য বোঝাই ট্রাক আটকা পড়ে আছে। যশোর : পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে কি হয়নি, তা নিয়ে গতকাল দুপুর থেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। দুপুরের দিকে খুলনায় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় শ্রমিক নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, সমঝোতা বৈঠকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে গতকাল খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, ফেডারেশনের নেতারা ঢাকায় অবস্থান করায় বৈঠক হয়নি। ধর্মঘট যারা ডেকেছে তারাই শুধু প্রত্যাহার করতে পারে। এদিকে, গতকাল দুপুরে খুলনা সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেখানকার পরিবহন শ্রমিক নেতাদের বৈঠক শেষে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. ফারুক হোসেন ও খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বিপ্লব ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তবে ধর্মঘটের কারণে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ গতকালও অব্যাহত ছিল। যশোর শহরের খাজুরা স্ট্যান্ডের ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার রাজীব চৌধুরী বলেন, সারাদিনই প্রচুর যাত্রী আসছেন ঢাকায় যাওয়ার জন্য। অনেক যাত্রী ইজিবাইক, নসিমন, করিমনে করে ভেঙে ভেঙে ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। ভাঙ্গা : ভাঙ্গা বিশ্বরোড মোড় চৌরাস্তায় শ্রমিকদের অবরোধের কারণে যাত্রী ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। গতকাল সকাল থেকে ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দূরপাল্লার গাড়ি চলতে পারেনি। ফরিদপুর-মাদারীপুর-গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে বাস চলেনি। ঢাকার সঙ্গে ২১ জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। মাদারীপুরের শিবচর থেকে রাজবাড়ী যাওয়ার জন্য ভাঙ্গায় আসে সৌদি প্রবাসী খোকন রেজা। তিনি বলেন, রাজবাড়ীতে জরুরি কাজ। না গেলেই নয়। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে যেতে পারছি না। ঢাকা থেকে ভাঙ্গা হয়ে বরিশাল গ্রামের বাড়িতে যেতে চেয়েছিলেন গৌরনদী উপজেলার বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত আজম হাওলাদার। তিনি বলেন, মাওয়া থেকে অটোতে করে ভাঙ্গায় এসেছি। এখন বাস না চলায় বরিশাল পর্যন্ত ভ্যান, রিকশা, অটোতে যাওয়া সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিক মিশুক মুনীর ও চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদসহ ৫ জন নিহত হন। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সঠিক ধারায় এই বিচার হয়নি দাবি করে পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটি রবিবার থেকে বিভাগের ১০ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা দেয়।

up-arrow