Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৩৯
নিরাপত্তাবলয় কূটনৈতিক জোনে
নতুন করে বসছে ৫ হাজার সিসি ক্যামেরা, প্রকল্পে বরাদ্দ ২৬৩ কোটি টাকা
জয়শ্রী ভাদুড়ী
নিরাপত্তাবলয় কূটনৈতিক জোনে

নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তা বলয়। পুরো এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও ৫ হাজার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার পাশাপাশি এলাকার ঢেলে সাজাতে নেওয়া হয়েছে দৃষ্টি নন্দন প্রকল্প।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ জুলাই হলি আর্টিজানে হামলার পরে প্রথম ৫০০ সিসি ক্যামেরা লাগানো হয় কূটনৈতিক এলাকাতে। এরপর পরবর্তী ধাপে লাগানো হয় আরও ৫০০ ক্যামেরা। এবার কূটনৈতিক এলাকাসহ অন্য এলাকাতে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে ৪২৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা বাজেটের প্রকল্প হাতে নিচ্ছে ডিএনসিসি। এই প্রজেক্টের আওতায় সিটি করপোরেশন এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫ হাজার ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা কেনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তার পাশাপাশি কূটনৈতিক এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনে রাস্তা-ফুটপাথ সংস্কার থেকে শুরু করে নতুন আইল্যান্ড তৈরি এবং বৃক্ষ রোপণের কাজও করছে ডিএনসিসি। এবার নতুনভাবে কূটনৈতিক এলাকাকে সাজাতে ২২টি পার্ক, খেলার মাঠ এবং কবরস্থান তৈরির প্রকল্প হাতে নিয়েছে ডিএনসিসি। আর এই প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৩ কোটি টাকা। নয়া বিউটিফিকেশন প্রকল্পের আওতায় ভিআইপি এলাকাকে ঢেলে সাজানো হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পাঁচটি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, ফুটপাথ ও সারফেস ড্রেনের নির্মাণ ও উন্নয়নের কাজ চলছে। ১১৬টি প্যাকেজে সর্বমোট ৩০৪ কোটি ৯৯ লাখ ৬২ হাজার টাকার এ উন্নয়ন কাজ চলমান। ডিএনসিসির ১ নম্বর অঞ্চলে ১৬টি প্যাকেজে ৫ কিলোমিটার রাস্তা ও সাড়ে ৪ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ আর উন্নয়নের কাজ চলছে। এই অঞ্চলে মোট রাস্তা ২৭টি। ২ নম্বর অঞ্চলে ২৩টি প্যাকেজে সাড়ে ১০ কিলোমিটার রাস্তা, ১৪ কিলোমিটার নর্দমা আর দেড় কিলোমিটার ফুটপাথের সংস্কার এবং উন্নয়ন করা হচ্ছে। এই এলাকায় রাস্তার সংখ্যা ৯১টি। এ ছাড়া ৩ নম্বর অঞ্চলে ২৪টি প্যাকেজে প্রায় ২০ কিলোমিটার রাস্তা, ১৬ কিলোমিটার নর্দমা এবং প্রায় তিন কিলোমিটার ফুটপাথ নির্মাণ-উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে, এই অঞ্চলে রাস্তার সংখ্যা হলো ৬৮টি। ৪ নম্বর অঞ্চলে ১৪টি প্যাকেজে ১৭ কিলোমিটার রাস্তা ও ১৪ কিলোমিটার নর্দমার সংস্কার-নির্মাণ কাজ হচ্ছে। এই এলাকায় মোট রাস্তার সংখ্যা ৯৬টি।

অন্যদিকে, ৫ নম্বর অঞ্চলে ১৬টি প্যাকেজে ১৯ কিলোমিটার রাস্তা, সাড়ে ১৪ কিলোমিটার নর্দমা ও প্রায় দুই কিলোমিটার ফুটপাথের উন্নয়ন-নির্মাণ কাজ চলছে। এই এলাকায় সংস্কারাধীন রাস্তার সংখ্যা ৩৮টি। এ ছাড়াও ৩ নম্বর অঞ্চলের অধীনে আরও ১১টি প্যাকেজে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার ১৮ কিলোমিটার রাস্তা, ৪৬ কিলোমিটার নর্দমা ও ২৭ কিলোমিটার ফুটপাথ নির্মাণ-উন্নয়ন কাজ চলছে। আর ১ নম্বর অঞ্চলের অধীন উত্তর আদর্শ শহরের ১ ও ৩ থেকে ১৪ নম্বর সেক্টরের সাড়ে ১৭ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্তকরণ, সাড়ে ২২ কিলোমিটার নর্দমা এবং সাড়ে ১৪ কিলোমিটার ফুটপাথ নির্মাণ-উন্নয়ন কাজ চলছে।

ডিএনসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাঈদ মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পের বাইরেও কূটনৈতিক এলাকা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাসিন্দাদের সুবিধার্থে আমরা বড় একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এই প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হবে ২২টি পার্ক, শিশুদের খেলাধুলার জন্য মাঠ এবং একটি কবরস্থান। সামগ্রিক এই প্রকল্পের বাজেট ধরা হয়েছে ২৬৩ কোটি টাকা। এটি প্রি-একনেকে পাস হয়েছে এবং ৭ মার্চ একনেকে ওঠার কথা রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কূটনৈতিক এলাকার সুযোগ-সুবিধা বিশ্বের সেরা বাসযোগ্য শহরের সঙ্গে তাল মিলাতে পারবে। আর এর পাশাপাশি আইল্যান্ড এবং ফুটওভার ব্রিজে লাগানো হবে ৫ লাখ গাছ। তাই ফুটপাথ সংস্কারের জন্য বিদ্যুতের পোল সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছি, যাতে করে শ্রীবৃদ্ধি হয় রাস্তাগুলোর। গাছ লাগানোর বিষয়ে ডিএনসিসি’র সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে ‘সবুজ ঢাকা’ নামের একটি সংগঠন। এই সংগঠনের সভাপতি রুপাই ইসলাম বলেন, এই এলাকাকে সবুজে ভরিয়ে দিতে আইল্যান্ড বা ওভারব্রিজের পাশাপাশি বাড়ির ছাদে নেওয়া হয়েছে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা। এই লক্ষ্যে কূটনৈতিক এলাকাসহ অন্য এলাকার ১ লাখ বাড়িতে বিতরণ করা হবে উচ্চ ফলনশীল ফলের গাছ। এ ছাড়া ১২০টি স্কুলের শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন জাতের গাছ এবং স্কুলগুলোতে করে দেওয়া হচ্ছে ফলের বাগান। এতে করে সবুজ এবং স্বাস্থ্য দুটোই থাকবে সুরক্ষিত।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow