Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪০
পুলিশ-হরতালকারী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র শাহবাগ, আটক ১১
নিজস্ব ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
পুলিশ-হরতালকারী সংঘর্ষে রণক্ষেত্র শাহবাগ, আটক ১১
বাম দলের হরতাল চলাকালে গতকাল রাজধানীর প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে এক পিকেটারকে আটক করার সময় বাদ সাধে কুকুর —সংগৃহীত

গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বাম রাজনৈতিক দলের ডাকা আধাবেলা হরতাল পালনের সময় প্রগতিশীল ছাত্রজোট নেতা-কর্মীদের ওপর রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও জলকামান নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশ-হরতালকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।

একপর্যায়ে পুলিশি বাধার মুখে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল সকালে শাহবাগ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার বলেন, পুলিশের ওপর ঢিল ছোড়া ও গাড়ি ভাঙচুরের কারণে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে গতকাল সকাল ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীতে কয়েকটি বাম দল আধা বেলার হরতাল পালন করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, হরতালের সমর্থনে সকালে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে অবস্থান নেয়। পরে তারা শাহবাগ, কাঁটাবন ও বাংলামোটর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। সকাল ৭টার দিকে তারা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সমাবেশ করে। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ থেকে কাঁটাবন ঘুরে, বাংলামোটর ও মত্স্যবভন ঘুরে আবারও শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ কয়েকবার শাহবাগ মোড় ছেড়ে চলে যাওয়ার অনুরোধ করলেও অবস্থান ছাড়েনি হরতাল সমর্থকরা। সকাল ১০টার দিকে শাহবাগ মোড় ছেড়ে দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নেতা-কর্মীরা। মিছিল শেষে আবারও শাহবাগ মোড় অবরোধ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। এরপর বেলা পৌনে ১১টার দিকে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও জলকামান নিক্ষেপ করে হরতাল সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে তারা পাবলিক লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নিয়ে সমাবেশের চেষ্টা করে। তবে পুলিশি বাধা তা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় অন্তত ১৫ জনকে আটক করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লাকী আক্তার বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলাম। তবে পুলিশ অযথা আমাদের ওপর জলকামান ও টিয়ারশেল, কাঁদুনে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে আধা বেলার হরতাল শেষে নতুন কর্মসূচি দিয়েছে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। আগামী ১৫ মার্চ জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও করবে। সেই সঙ্গে তারা আগামী ১ থেকে ১৪ মার্চ প্রচারাভিযান চালাবে। গতকাল হরতাল চলাকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন মোর্চার সমন্বয়ক ফিরোজ আহমেদ। বিক্ষোভ সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী বলেন, সরকার তার লুণ্ঠন, দুর্নীতি আর অপচয়ের তহবিল জোগানোর জন্য গ্যাসের দাম বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগের লুণ্ঠনের দায় জনগণের কাঁধে চাপানোর চেষ্টা জনগণ প্রতিহত করবে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির এই তৎপরতায় দেশের শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, শ্রমজীবী মানুষ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু বলেন, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা গণবিরোধী এই তৎপরতা প্রতিহত করবে। বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে হরতাল সমর্থনকারী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও সমাজতান্ত্রিক দল এবং হরতালের প্রতিবাদকারী পরিবহন শ্রমিক লীগ পাশাপাশি মানববন্ধন করছিল। এ সময় হরতাল সমর্থনকারীরা পরিবহন যাতায়াতে বাধা দেওয়ায় পরিবহন লীগের কয়েক কর্মী বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় কিছুক্ষণ থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি চলে। সকালে পল্টন, মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও লালবাগে হরতালের সমর্থনে মিছিল হয়েছে। পুরানা পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ের সামনে রাস্তার একাংশ অবরোধ করে রাখে হরতালকারীরা। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন দ্বিতীয় দফা গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পরদিন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা মঙ্গলবার রাজধানীতে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আধাবেলা হরতালের ঘোষণা দেয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow