Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৭
এমপি লিটন হত্যা
কাদের খানের সোর্স আওয়ামী লীগ নেতা চন্দন কলকাতায়
গাইবান্ধা প্রতিনিধি

এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় প্রধান আসামি কাদের খানের সোর্স হিসেবে কাজ করা চন্দন কুমার সরকার এখন কলকাতায়। সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দফতর সম্পাদক চন্দন কুমার সরকার নিজেই গাইবান্ধার কয়েকজন সাংবাদিকের কাছে ফোন করে তার কলকাতায় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) রবিউল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় কিলারদের সংবাদদাতা ছিলেন চন্দন কুমার সরকার—এ কথা শুধু কাদের খানই নন, গ্রেফতার চার কিলারই এ সম্পর্কে স্বীকারোক্তি বক্তব্য দিয়েছেন। চন্দন সরকারকে কিছুদিন থেকেই খোঁজ করছে পুলিশ। কিন্তু এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এদিকে চন্দন সরকার এখন ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিককে নিজেই মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি হত্যা ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। তবে কাদের খান ও কিলারদের সঙ্গে তার মোবাইলের কথোপকথন রেকর্ড করা আছে বলে জানানো হলে চন্দন নিশ্চুপ থাকেন। তিনি এ খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলে কেন পালিয়ে গেলেন—এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চন্দন বলেন, ‘পুলিশ আমার খোঁজ করছিল জানতে পেরে ঝামেলা এড়াতে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাই। ’

চন্দনের কীর্তিকলাপ : সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনমথ গ্রামের সুশীল চন্দ্র সরকারের ছেলে চন্দন সরকার। তার বাবা কাঠমিস্ত্রি হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এসএসসি পাস চন্দন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দফতর সম্পাদক পদ পেয়েই এলাকায় তৎপরতা বৃদ্ধি করেন বলে স্থানীয়রা জানান। চন্দনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজ এলাকার কয়েকজন নামধারী সাংবাদিক ও সন্ত্রাসীকে নিয়ে একটি চাঁদাবাজ চক্র তৈরি করেন। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, এনজিও কর্মী, স্কুল শিক্ষকসহ নানা ব্যক্তির নামে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ দায়ের করা তার কাজ হয়ে ওঠে। আর অভিযোগের মীমাংসা করতেন তিনি টাকার বিনিময়ে। এটি ছিল টাকা রোজগারের একটি কৌশল—এমনটাই জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। ২০০৮ সালে কাদের খান যখন এমপি ছিলেন তখন এমপির বিশেষ বরাদ্দের কয়েকটি প্রকল্পের বিরুদ্ধেও চন্দন তার অনুসারীদের স্বাক্ষর জোগাড় করে বিভিন্ন দফতরে কয়েকটি অভিযোগ দাখিল করেন। পরে সে সবের মীমাংসার সুযোগে কাদের খানের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। এক সময় এমপি লিটন তার এসব কাজের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে চন্দনকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। এই ক্ষোভে লিটনবিরোধী আওয়ামী লীগের গ্রুপটির সঙ্গে যুক্ত হন চন্দন। তিনি এমপি লিটনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করতে শুরু করেন। পরে এমপি লিটনকে জব্দ করতে কাদের খানের সোর্স হিসেবে কাজ শুরু করেন ক্ষিপ্ত চন্দন।

কাদের খানের ফাঁসির দাবি : সাবেক এমপি কাদের খান, তার সহযোগীসহ লিটন হত্যায় সম্পৃক্ত যারা এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছে, অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুন্দরগঞ্জ। বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা সদরে প্রতিদিনই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে পুলিশ ১৫ দিনের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এই খুনের চার্জশিট দাখিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow