Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫৮
অষ্টম কলাম
নাচে গানে চমকে দিল অটিস্টিক শিশুরা
সৈয়দ নোমান, ময়মনসিংহ
নাচে গানে চমকে দিল অটিস্টিক শিশুরা

কেউ মুক্তিযোদ্ধার মা, কেউবা রাখাল বালক আবার বাউল। একজনের কণ্ঠে জাতির জনকের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।

কারও পায়ে নূপুরের ঝঙ্কার পাশে বাঁশি। গতকাল দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ে সুইড বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শাখায় অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অটিস্টিক শিশুরা এভাবেই একের পর এক চমক দেখায়। তাদের সুপ্ত প্রতিভায় চমকে দিয়েছে আগত অভিভাবক, শিক্ষক এবং অতিথিদের। প্রতিবন্ধী শিশুদের এমন মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার পর প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান বলেন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের এমন পরিবেশনায় বোঝা যাচ্ছে তারাও স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে পাবলিক প্রসিকিউটর ওয়াজেদুল ইসলাম, জেলা ক্রিড়া কর্মকর্তা নূরে এলাহী, ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান খান লিটনসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিসান। অনুষ্ঠান শেষে লিসান জানায়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমার ভালো লেগেছে। তাই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে শুনে মুখস্থ করি। এ ব্যাপারে শিক্ষকরা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। এর আগে ‘আলো আমার আলো ভুবন ভরা’ গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নওশিন নেচে অনেকটা হতবাক করে দেন আগত দর্শক, অতিথি এবং অভিভাবকদের। প্রতিবন্ধীদের এমন পরিবেশনায় উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে মনির হোসেন নামের এক অভিভাবক বলেন, তারা প্রমাণ করেছে সমাজ তাদের পিছিয়ে রাখলেও মনের জোর আর প্রতিভার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে জয় করেছে শারীরিক অক্ষমতাকে। নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরে প্রতিবন্ধী শিল্পীরা প্রমাণ করলেন শিল্পীর শিল্প সবার মাঝেই বিদ্যমান। সমাজের অন্য কারও চেয়ে তারাও কম যান না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন, প্রশিক্ষণের ফলেই তারা আজ এমন প্রাণবন্ত একটি অনুষ্ঠান সবাইকে উপহার দিতে পেরেছে। আর প্রমাণ করেছে পরিচর্যা পেলে সব অসম্ভবকে তারা সম্ভব করতে পারে। তবে অনেকটা আক্ষেপ করে রেহেনা পারভিন ববি নামের আরেক শিক্ষক বলেন, আমাদের এই বাচ্চাদের জন্য বিশেষ শিক্ষা প্রয়োজন। এ জন্য দরকার বিশেষ উপকরণের। হারমোনিয়াম, তবলাসহ নানা বাদ্যযন্ত্র উপকরণের সহায়তা পেলে তাদের কাছ থেকে আরও অনেক কিছুই সম্ভব।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow