Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ২ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫৮
কৃষি সংবাদ
বগুড়ায় হচ্ছে চাইনিজ সবজির চাষ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
বগুড়ায় হচ্ছে চাইনিজ সবজির চাষ

বগুড়ার শিবগঞ্জে বিদেশি সবজি চাষ করে ভাগ্য বদলে ফেলেছেন মিজানুর রহমান মিজান। নিজের ১৮ বিঘা জমিতে এখন মৌসুমভিত্তিক চাষ হয় প্রায় ২০ প্রকার বিদেশি সবজি।

এগুলো বিক্রি হয় ঢাকা, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর, নওগাঁ ও রাজশাহীতে। বেশির ভাগই বিক্রি হয় ঢাকা ও বগুড়ায়। জানা যায়, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার টেপাগাড়ীর আবদুল মান্নানের ছেলে মিজানুর রহমান মিজান নিজের নামে ‘মিজান এগ্রো প্রডাক্টস ফার্ম’ গড়েছেন। তার জমিতে এখন রেড ক্যাবিজ ফলন ধরেছে। ক্যাপসিকাম রয়েছে। সেগুলোর নিয়মিত যত্ন করেন তিনি। এসএসসি পাস মিজান একসময় বাবা-মার পিটুনি থেকে বাঁচতে বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে যান। ঢাকায় গিয়ে খামারবাড়িতে (ফার্মগেট) কৃষি প্রদর্শনীতে বিদেশি সবজি লেটুসপাতা, ব্রুকলি, রেড ক্যাবিজ ও চাইনিজ পাতার চাষ দেখেন। সেখানে তিনি কৃষি কর্মকর্তাদের পাশে থেকে চাষ সম্পর্কে ধারণা পান। বাড়ি ফিরে জড়িয়ে পড়েন কৃষি কাজের সঙ্গে। ধীরে ধীরে ১ বিঘা থেকে তার জমি এখন ১৮ বিঘা। এ জমিতে এখন মাশরুম, বেবিকর্ন, সুইট কর্ন, ক্যাপসিকাম, ব্রুকলি, চেরি টম্যাটো, ফ্রেশ বিন, অ্যাসপারাগাস, রুট বিট, ক্যারট, থাই আদা, লেটুসপাতা, থাই রসুন, চাইনিজ পাতা, তুলসিপাতা, ক্যারি লিফসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেন। এগুলো চাইনিজ খাবারে সবসময় ব্যবহূত হয়। নিজের জমিতে চাইনিজ সবজি চাষ করে তিনি ঢাকার বিভিন্ন সুপার শপে সরবরাহ করেন। এর সঙ্গে বগুড়ায় গড়ে ওঠা ১০-১২টি মোটেল ও ফোর স্টার হোটেলে এই চাইনিজ সবজি সরবরাহ করেন। মিজানুর রহমান মিজান জানান, এ সবজি চাষ করতে তার পরিবারের পাশাপাশি প্রায় ১০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তিনি চাহিদামতো সবজি চাষ করেন। এখন রেড ক্যাবিজের চাহিদা রয়েছে। জমিতে রেড ক্যাবিজ বড় হতে শুরু করেছে। বিদেশি সবজি অ্যাসপারাগাস বিক্রি করেন ৪০০ টাকা কেজি। ব্রুকলি বিক্রি করেন প্রতিটি ২৫ টাকা, সুইট কর্ন ১০ টাকা করে, ক্যাপসিকাম বিক্রি করেন ৮০ টাকা কেজি। তিনি জানান, চাইনিজ সবজির বড় ক্রেতা ঢাকার বড় বড় শপিং মল। শপিং মল থেকে ফোনে অর্ডার পেয়ে সবজিগুলো সরবরাহ করা হয়। মিজান জানান, এ সবজি চাষ করে নিজের পরিবার পরিচালনা করছেন। আগে তেমন কিছু না থাকলেও এখন ছয় সদস্যবিশিষ্ট সংসার এই চাইনিজ সবজির আয় দিয়ে চলে। শিবগঞ্জ উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক জানান, মাঝেমধ্যে মিজান এগ্রো ফার্মে গিয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। বিদেশি সবজিগুলো কীটনাশকমুক্ত হিসেবে চাষ হয়ে আসছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow