Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ মার্চ, ২০১৭ ২২:৪৮
মহেশখালীর পাহাড়ে ফের অস্ত্র কারখানা
পুলিশের অভিযানে নিহত এক, বিপুল অস্ত্র সরঞ্জাম উদ্ধার, আহত চার পুলিশ
নিজস্ব প্রতিবেদক ও কক্সবাজার প্রতিনিধি
মহেশখালীর পাহাড়ে ফের অস্ত্র কারখানা
মহেশখালীর পাহাড় থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র —বাংলাদেশ প্রতিদিন

কক্সবাজার মহেশখালী পাহাড়ের গহিন অরণ্যে আরও একটি অস্ত্রের কারখানায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধে খুলু মিয়া প্রকাশ খুইল্যা মিয়া (৫০) নামে এক অস্ত্রের কারিগর নিহত হয়েছেন।

পুলিশ ওই অস্ত্র কারখানা থেকে ১৩টি অস্ত্র ও ৩২ রাউন্ড কার্তুজ ও অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এ ছাড়াও নিহত খুলু মিয়ার প্যান্টের পকেট থেকে ২০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, নিহত খুইল্যা মিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত অস্ত্র ব্যবসায়ী (অস্ত্রের কারিগর)। একটি অস্ত্র মামলায় ৩০ বছরের পলাতক আসামি ছিল সে। এ ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্য আহত হয়েছেন। গতকাল মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক কেরুনতলী গহিন পাহাড়ে কুদাল্যা বাহিনীর আস্তানায় এ অভিযান চালায় পুলিশ। উল্লেখ্য ১০ ফেব্রুয়ারি ‘বাংলাদেশ প্রতিদিন’ পত্রিকায় মহেশখালীর পাহাড়ের গহীন অরণ্যে অস্ত্র কারখানা ও দস্যুদের আস্তানা নিয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন করা হয়। প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে মহেশখালী। ১১ পাহাড়ে আছে ২২ অস্ত্র কারখানা। আরও রয়েছে দস্যু আস্তানা, অস্ত্রাগার, মাদক আর  চোরাই পণ্যের গুদাম। এই প্রতিবেদন প্রকাশের চার দিনের মাথায় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী নয়াপাড়ার অস্ত্র কারখানায় পুলিশ অভিযান চালায়। বন্দুকযুদ্ধের পর পুলিশ ১৪টি বন্দুক ও ৫৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। আরও উদ্ধার করা হয় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম ও ধারালো অস্ত্র। এ সময় অস্ত্র ব্যবসায়ী আদ্দুস সাত্তার (৩৩) নিহত হন। এই অভিযানের ১৭ দিনের মাথায় গতকাল আবারও একটি অস্ত্রের কারখানার সন্ধান পেল পুলিশ। এ দুটি অভিযানে ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করল পুলিশ। এ ছাড়া গত ১০ দিনে বিচ্ছিন্ন অভিযানে আরও ২৩টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে বলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টুটুল জানান।

পুলিশ, গোয়েন্দা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নৈসর্গিক  সৌন্দর্যের লীলাভূমি দেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালীর পাহাড়গুলো এখন দুর্ধর্ষ অপরাধীদের দখলে। পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে রয়েছে অস্ত্র তৈরির কারখানা। দুর্গম পথের এই পাহাড়গুলোর গহিন জঙ্গলে ২২ জন অস্ত্রের কারিগর পুরোদমেই সক্রিয়। কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ড. এ কে এম ইকবাল হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশখালী থানা পুলিশ অভিযান চালালে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধে নিহত খুলু মিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের  লিস্টভুক্ত অস্ত্র ব্যবসায়ী। মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক কেরুনতলী গহিন পাহাড়ে কুদাল্যা বাহিনীর আস্তানায় একদল সন্ত্রাসী ও অস্ত্রের কারিগর মিলে বিপলুসংখ্যক অস্ত্র মেরামত ও অস্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এ সময় সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার ড. একেএম ইকবালের নেতৃত্বে গতকাল বেলা ১১টায় জেলা ও মহেশখালী থানার বিপুলসংখ্যক পুলিশ ওই পাহাড়ি আস্তানা ঘিরে ফেলে। এক পর্যায়ে সাড়ে ১১টায় পাহাড়ের চারদিক থেকে যৌথভাবে অভিযান চালায়। সন্ত্রাসী ও অস্ত্রের কারিগররা অভিযান টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। উভয় পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক গুলি করা হলে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ি পথ দিয়ে গহিন পাহাড়ে চলে গেলেও গুলিবৃদ্ধ অবস্থায় অস্ত্র মামলার ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বড় মহেশখালীর মাঝের পাড়া এলাকার আজম উল্লাহর ছেলে খুলু মিয়া প্রকাশ খুইল্যা মিয়াকে (৫০) আটক করে। আহত অস্ত্রের কারিগর ও সন্ত্রাসীদের পাহাড়ি আস্তানা থেকে ১৩টি বন্দুক, ৩২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও ২০০ রাউন্ড ইয়াবা উদ্ধার করে। আহত অস্ত্রের কারিগর খুইল্যা মিয়াকে মহেশখালী হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় পুলিশের ৬ সদস্য আহত হয়। আহতরা হলো— এসআই হারুনর রশিদ, এএসআই সন্জীব দত্ত, এএসআই মেহেদী হাসান, এএসআই সহিদুল ইসলাম কং-রুবেল শর্মা, কং মিঠুন ভৌমিক ও সবিনয় চাকমা। আহতদের মহেশখালী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের পক্ষ থেকে শতাধিক গুলিবিনিময় হয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টুটুল বলেন, নিহত অস্ত্রের কারিগরের ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মহেশখালী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। মহেশখালী থানা পুলিশ গত ১০ দিনে প্রায় ১৫ সন্ত্রাসী ৫০টির অধিক বন্দুক, ৩০০ রাউন্ড গুলি, বিপুল সংখ্যক ইয়াবা ও প্রায় ৩০ হাজার লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করে পুলিশ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow