Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ মার্চ, ২০১৭ ২২:৫২
মামলা-প্রতিবাদ
শালিস বৈঠকে ডেকে এনে দুজনকে হত্যার অভিযোগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানা পুলিশের সহায়তায় পরিকল্পিত হত্যার ঘটনাকে ডাকাতি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এদিকে সাবেক বিজিবি সদস্য হত্যার প্রতিবাদে গতকাল বিকালে উপজেলার শিবপুরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে আবদুল হকের স্ত্রী হত্যা মামলা করেছেন। অনুসন্ধান সূত্রগুলো বলছে, দুই মাস আগে উপজেলার রসুল্লাবাদ গ্রামের আবদুল হক  ওরফে এনামুলের মোটরসাইকেলটি নিজ বাড়ি থেকে চু?রি হ?য়। এক সপ্তাহ আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সুলতানপুরে চু?রি হওয়া মোটরসাইকেলটির সন্ধান মেলে। চুরির ঘটনার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপু?রের একটি গ্রুপ জড়িত বলে খবর পায় এনামুল। এ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সাবেক ইউপি সদস্য সেন্টু মিয়া ও তার লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেন্টু ঘটনা আপস নিষ্পত্তির জন্য ১ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় বসার কথা বলে। এনামুল তার ভগ্নিপতি ইয়াসিনকে নিয়ে সেন্টু মিয়ার বাড়িতে উপস্থিত হয়। সেখানে শালিস বসে। এতে গ্রামের ১৫-১৬ জন উপস্থিত ছিলেন। সূত্র জানায়, বৈঠক আধা ঘণ্টা চলার পর মোটরসাইকেল চুরি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। একপর্যায়ে সেন্টু ও তার লোকজন গ্রামে ডাকাত এসেছে বলে চিৎকার দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় দুজন। তাদের সঙ্গে আসা অন্য দুজন পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পায়। নিহতদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য ব্যক্তিগত আইডি নম্বর-৬০৪৭৩, পরিচয়পত্র নম্বর- ৪৪১০২৯৪, ১৭ বিজিবির ব্যাটালিয়ন (কক্সবাজার) থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অবসরে যান। তাদের মোটরসাইকেল ও মোবাইলসহ জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। অভিযোগ পাওয়া গেছে, পরিকল্পিতভাবেই তাদের হত্যা করা হয়। কিন্তু ঘটনার পরপর মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা এড়িয়ে ডাকাতি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশের এ ভূমিকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা? আড়াল করার জন্য ডাকা?তির নাটক সাজা?নো হ?চ্ছে। নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, ডাকাতি করতে আসার পর গণপিটুনিতে তারা মারা যায়। এ ঘটনায় সেন্টু মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পুলিশ বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করে। গতকাল দুপুরে নিহত আবদুল হকের স্ত্রী তাসলিমা বেগম থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গ্রামে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow