Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ মার্চ, ২০১৭ ০২:৫২
গাবতলীতে তাণ্ডব
রিমান্ডে স্বীকারোক্তি দিয়েছে এনামুল
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার সাতজনের মধ্যে রিমান্ডে থাকা এনামুল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার রাতে সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

এদিকে গাবতলীতে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর, পুলিশের রেকারে অগ্নিসংযোগ ও পরিবহন ভাঙচুর করে ৩৬ ঘণ্টা তাণ্ডব চালানোর অভিযোগে যে ৪৬ জনের নামে চারটি মামলা হয়েছে তাদের নেতৃত্বদানকারী আরও ছয়জনের নাম পাওয়া  গেছে। তারা হলেন— আব্বাস, শহিদ, আমান, করিম, শাহি ও রহিম। ওই ৪৬ জন ছাড়াও মামলায় ১ হাজার ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। হামলার চার মূল হোতা রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। ওই চার নেতার গ্রামের দোকানপাটে নেই কোনো লোকসমাগম। গ্রামগুলোতে এখন অপরিচিত কাউকে দেখলে গ্রামবাসী সামনে আসতে চান না। কিছু জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর দিতে চান না। একটা চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওই চার হোতা হলেন— গাবতলী বালুঘাট শাখার পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তুফানী, সাধারণ সম্পাদক তালেব এবং আমিনবাজারে আন্তঃজেলা ট্রাকচালক সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম তাজু ও সাধারণ সম্পাদক আহম্মদ আলী। বালুঘাট ও আমিনবাজার ট্রাক টার্মিনাল থেকে তাদের নামে মাসে অর্ধকোটি টাকা চাঁদাবাজি করা হতো। এর ভাগ স্থানীয় সরকারদলীয় নেতারাও পেত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

এদিকে, গাবতলীর ঘটনায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা হলেও নতুন করে আসামি গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছে। এ ছাড়া গ্রেফতার সাত আসামির মধ্যে ছয়জনের পিকেটিং ছাড়া তেমন কোনো সম্পৃক্ততা খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। তবে তাদের মধ্যে এনামুল পুলিশ রিমান্ডে স্বীকার করেছে তাজু এবং আহম্মদ তাদের আন্দোলনে নামতে হুকুম দিয়েছেন। পুলিশ সূত্র জানায়, তুফানী ও তালেব বালুঘাট থেকে ট্রাক শ্রমিকদের তাণ্ডব চালাতে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া তাজু ও আহম্মদ আমিনবাজার ট্রাক টার্মিনালে গিয়ে শ্রমিকদের ধর্মঘট পালনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টির হুমকিদাতা। মামলার পর থেকে গাবতলী বাস টার্মিনাল ও আমিনবাজার ট্রাক টার্মিনালে কমে গেছে শ্রমিক সমাগম। পুলিশের ভয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন শত শত পরিবহন শ্রমিক। এ ছাড়া আমিনবাজার ট্রাক টার্মিনাল অনেকটা শ্রমিকশূন্য হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার রাতে গাবতলীতে ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে হামলা ও পাশের ফাঁড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের একিট রেকার গাড়িতে আগুন দিয়ে তাণ্ডব শুরু করে পরিবহন শ্রমিকরা। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে দুটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার সাতজন জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে তাদের মধ্যে এনামুল ছিল ঘটনার নেতৃত্বদানকারী চার মূল হোতার সহকারী। তিনি জানিয়েছেন, তাজু ও আহম্মদ তাদের ধর্মঘটের নামে ভাঙচুর চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন। দারুস সালাম থানার ওসি (তদন্ত) ফারুকুল আলম বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আরও একটি মামলা হয়েছে। আশা করছি খুব শিগগিরই আসামিরা ধরা পড়বে।

প্রসঙ্গত, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় সম্প্রতি আদালত মানিকগঞ্জে বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন ও সাভারে আরেক ট্রাকচালককে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। এ রায়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে আকস্মিক ধর্মঘট পালন শুরু করে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। ওইদিনই রাতে ও পরের দিন টানা ৩৮ ঘণ্টা গাবতলীতে তাণ্ডব চালায় শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বৈশাখী পরিবহনের বাসচালক শাহ আলম শাহিন মারা যান।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow