Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৩
বসুন্ধরায় পোলট্রি মেলা
শেষ দিনে ঢল মানুষের
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেষ দিনে ঢল মানুষের

শেষ হলো রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী দশম পোলট্রি মেলা। গতকাল শেষ দিনে সকাল থেকেই সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তাদের পদচারণায় জমজমাট হয়ে ওঠে মেলাপ্রাঙ্গণ।

মেলায় এসেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোক্তা ও খামারিরা। উদ্যোক্তারা জানান, সরকারি সহযোগিতা পেলে দেশের অন্যান্য শিল্পের মতো পোলট্রি হতে পারে রপ্তানি খাত। আধুনিক প্রযুক্তি, ওষুধ, ভ্যাকসিন ব্যবহারে বিভিন্ন বিধিনিষেধ পোলট্রি শিল্পকে বাধাগ্রস্ত করে। সরকার যদি বিশেষ নজর দিয়ে এ খাতের শিল্প মালিকদের সহযোগিতা করে তাহলে কর্মসংস্থানেরও শীর্ষে অবস্থান করবে।

মেলার তিন দিনে তিনটি আন্তর্জাতিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া ছিল লটারি, চিত্রাঙ্কন ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা।

মেলায় গিয়ে দেখা গেছে, দর্শনার্থীরা খামার তৈরির সরঞ্জামাদি, পোলট্রি খাদ্যসামগ্রী উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন। কেউ আবার খোঁজ নিচ্ছেন মুরগি-গরুসহ গবাদি পশুর ভ্যাকসিনের বিষয়ে। এমনই এক খামারি নুরুল আমিন জানান, মেলা থেকে বেশ কয়েকটি পোলট্রি ফিড কোম্পানির কার্ড সংগ্রহ করেছেন।

যে কোম্পানির খাবার বিক্রি করলে বেশি লাভ হবে এবং মুরগি দ্রুত বাড়বে সেই কোম্পানির খাবার বিক্রি করবেন তিনি। তিনি বলেন, ব্যাংকগুলো এখন সহযোগিতা করতে চায় না। তারা ঝুঁকি মনে করে। কিন্তু দেশের পুষ্টি চাহিদার প্রধান খাত হতে পারে পোলট্রি শিল্প। রপ্তানি বাণিজ্য অন্যতম হতে পারে।   মমিন নামে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা আরেক পোলট্রি খামার মালিক বলেন, বাংলাদেশে পোলট্রি ব্যবসায় ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা রয়েছে। অল্প পুঁজিতে এ ব্যবসা করা যায়।

মেলায় এসিআই লিমিটেডের স্টলের বিক্রয় কর্মীরা বলেন, শেষ দিনে দর্শনার্থীর আগমন অনেক বেশি। দর্শনার্থীরা পশুখাদ্য ও পশুর রোগবালাই এবং এর ওষুধের ব্যাপারে তথ্য-উপাত্ত জেনেছেন। একটি মুরগি বা গরুকে সবমিলিয়ে ১৪-১৫টি ভ্যাকসিন দিতে হয়। এই ভ্যাকসিনগুলো যেন তারা সঠিক সময়ে দিতে পারেন, তা নিয়েই স্টলে কথা বলছেন আগ্রহীরা।

এবছর মেলায় বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যাড, কোরিয়া, তাইওয়ান, চীন, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, জাপান, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়াসহ ১৮টি দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করেছে। মেলায় প্রদর্শনী ছাড়াও কারিগরি সেশনে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞেরা অংশ নিয়ে তুলে ধরনের পরিবেশবান্ধব কৃষিভিত্তিক শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে। দেশে কৃষিজাত পণ্যের সঙ্গে পোলট্রি শিল্পের বিশাল এই প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হচ্ছে মেশিনারিজ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নানা ধরনের শিল্পপণ্য। আধুনিক মেশিনারিজ দিয়ে কিভাবে পণ্য তৈরি ও প্রযুক্তিগত ধারণা দিতেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

up-arrow