Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৪ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৩
কৃষি সংবাদ
পঞ্চগড়ে বিদেশি সবজি চাষে সাফল্য
সরকার হায়দার, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ে বিদেশি সবজি চাষে সাফল্য

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় বিদেশি জাতের বিভিন্ন সবজি চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন ভূমিহীন কৃষক সাইফুল ইসলাম। গত সাত বছর ধরে তিনি বিদেশি জাতের বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন।

চাষের জন্য নিজের জমি না থাকলেও জমি বন্ধক নিয়ে তিনি এই সবজি উৎপাদন করছেন। আর এসব সবজি চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন শহরে বিদেশি রেস্টুরেন্টে। মাগুরা গ্রামের শেখ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৩) স্থানীয় এক অধিবাসীর ৫ বিঘা জমি বন্ধক নিয়েছেন। এই জমিতে রয়েছে আমবাগান। আমবাগানের নিচেই তিনি বিদেশি সবজি চাষ করছেন।

তার আরও ৩ বিঘা জমির ওপর আরেকটি বিদেশি সবজির ক্ষেত রয়েছে। মোট সাত বিঘা জমি তিনি বন্ধক নিয়ে ২৫ রকমের  বিদেশি সবজি আবাদ করেছেন। সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তিনি আইসবাক, সালাত পাতা, ল্যাটুস পাতা, রোমান ল্যাটুস, ব্রুকলি, লোসিডিসিও, ফ্যানেল, পাসলি, বেসলি, বিট, রুবার, বেড ফিপেস, সিলারী, ফ্লাট পাসলি, হলুদ ঝুকিনি, সবুজ ঝুকিনি, কালি পাসলি, ক্যাপসিকাম, পবিকন, ফ্রাইজিংসহ নানা জাতের সবজি চাষ করেছেন। এসব সবজির বীজ  তিনি সংগ্রহ করেন ঢাকা থেকে।

সাইফুল ইসলাম জানান, আট নয় বছর আগে তিনি বিদেশি সবজি চাষ করে এরকম একটি কৃষি ফার্মে কাজ করেছিলেন। সেখানেই তিনি এই সবজির চাষ পদ্ধতি শিখে নেন। পরে বাড়ি ফিরে নিজেই সবজির আবাদ শুরু করেন। স্থানীয়ভাবে বিদেশি সবজির বাজার না থাকায় প্রথম দুই বছর খুব বেশি সাফল্য না এলেও গত পাঁচ বছর তিনি ব্যাপক সাফল্য পাচ্ছেন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সবজি ব্যবসায়ীরা এখন তাকে অগ্রিম টাকা দিয়ে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সাইফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় বাজারে চাহিদা কম থাকলেও ঢাকায় এই সবজির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই আগামী বছর তিনি আরও ৫ বিঘা জমিতে বিদেশি সবজির আবাদ করবেন। তিনি জানান, তেঁতুলিয়ার বেলে দোআঁশ মাটি এবং আবহাওয়া উভয়ই বিদেশি সবজি চাষের উপযোগী। খুব কম  সময়ে এখানে তরতাজা সবজি উৎপাদন করা যায়। রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক ব্যবহার না করলেও চলে। আট বিঘার এই সবজি ক্ষেতে দৈনিক ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, আট বিঘা জমিতে সবজি চাষে তার খরচ হয় মাসে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। প্রতি বছর খরচ বাদ দিয়ে তিনি আয় করেন দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। এতে তার সংসারের খরচ মিটিয়ে সঞ্চয়ও করতে পারছেন কিছু। শূন্য থেকে পথচলা শুরু হলেও সাইফুল ইসলাম এখন কুঁড়েঘর থেকে নির্মাণ করেছেন পাকা বাড়ি।

তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তেঁতুলিয়ার জমি বিদেশি সবজি আবাদের উপযোগী। কৃষক সাইফুল ইসলাম বেশ ক’বছর ধরে বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদন করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow