Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫১
হঠাৎ কেন এত অগ্নিকাণ্ড
মাহবুব মমতাজী
হঠাৎ কেন এত অগ্নিকাণ্ড

রাজধানীসহ সারা দেশে হঠাৎ কেন এত অগ্নিকাণ্ড। এমন প্রশ্ন জেগেছে সাধারণ মানুষের মনে।

অগ্নিনির্বাপণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফায়ার সার্ভিস বলছে, সচেতনতার অভাব এবং ত্রুটিপূর্ণ ভবন ব্যবস্থার কারণে অগ্নিকাণ্ড বেড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের হিসাবে দেখা গেছে, গত বছর সারা দেশে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে ১৬ হাজার ৮৫৮টি। এর মধ্যে ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড ২০টি। এতে ক্ষতি হয়েছে ৬৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। সারা দেশে ক্ষতির পরিমাণ ২৪০ কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অগ্নিকাণ্ডে সারা দেশে মৃত্যু হয় ৫২ জনের। আর আহতের সংখ্যা ২৪৭। এদের মধ্যে ঢাকায় আহত হন ৮১ জন এবং ১৫ জন মারা যান। সারা দেশের শিল্প-কারখানায় এক হাজার ১৬৫টি অগ্নিকাণ্ড হয়।

ঢাকায় হয়েছে ৫৭৮টি। পোশাক কারখানায় আগুনের ঘটনা ছিল ২৫৮টি এবং এর মধ্যে ঢাকায় ১৪২টি। বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনা ১৭০টি। আর ঢাকার বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে ২৭টি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা এক হাজার ৮৪৫টি। এতে ক্ষতির পরিমাণ ৩৫ কোটি ৮১ লাখ ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা। অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে পোশাকশিল্পে হয়েছে ১০টি এবং বহুতল ভবনে হয়েছে ২৮টি। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে ৪১ জন এবং ১৪ জনের মৃত্যু হয়।

পুরান ঢাকার লালবাগের লিটন নামের এক বাসিন্দা জানান, হঠাৎ করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বেড়ে গেছে। শনিবার একই দিনে পুরান ঢাকায় দুটি ঘটনা ছিল। তার একদিন পর ডেমরার একটি জুতার কারখানায় এবং মঙ্গলবার খিলক্ষেতের মধ্যপাড়ার আলী মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া যায়। প্রায় সাত বছর আগে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে সুপারিশ তুলে ধরেছিল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। কিন্তু এখনো সেসব পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন হয়নি।  

সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ রাজধানীর একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে। সে ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস সদর দফতর থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই কমিটি একই বছরের ৭ মে ২৭টি সুপারিশসহ একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রতিবেদনে সুপারিশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় বিল্ডিং কোড অনুযায়ী বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ, ভবন নির্মাণ শেষে ফায়ার সার্ভিসের সার্টিফিকেট গ্রহণ বাধ্যতামূলক, স্থায়ী অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা, প্রতিটি ভবনের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার কনটিনজেন্সি প্ল্যান রাখা, ১৫ তলা ভবনের ছাদে হেলিপ্যাড স্থাপন, জনসাধারণের সচেতনতায় নিয়মিত ইলেকট্র্রনিক মিডিয়ায় অনুষ্ঠান প্রচার, বড় ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার স্থাপন করা। এ ছাড়াও ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার জন্য টিটিএল ও স্নোরকেল গাড়িসহ অন্যান্য গাড়ির পরিমাণ বাড়ানো, বিশেষ টিম সংরক্ষণ, লোকবল বৃদ্ধি ও মিরপুরের ট্রেনিং কমপ্লেক্সেকে ঢাকার বাইরে স্থানান্তর করে একাডেমিতে রূপান্তর করা। অগ্নিনির্বাপণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের নকশা অনুমোদন ছাড়াই পুরান ঢাকার চকবাজার, কোতোয়ালি, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো, সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়ায় গড়ে তোলা হচ্ছে অসংখ্য ভবন। একই সঙ্গে কিছু কিছু ভবন অনুমোদন ছাড়াই উঁচু করা হচ্ছে। এসব ভবনের বেশির ভাগই অবস্থিত প্রধান সড়কের পাশে। যেগুলোর নিচতলায় রয়েছে দোকান আর উপর তলাগুলো আবাসিকের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর তোবা গ্রুপের মালিকানাধীন তাজরীন ফ্যাশনসের কারখানায় আগুনে সরকারি হিসাবে ১১২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। আহত হন দেড় শতাধিক। গত বছরের ২২ নভেম্বর আশুলিয়ায় একটি গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দুজনের মৃত্যু হয়। দগ্ধ হন অন্তত ২৫ জন। এ ঘটনার দুই দিন পর আশুলিয়ার কাঠগড়া পুকুরপাড় এলাকার কন্টিনেন্টাল গার্মেন্ট নামে আরেকটি কারখানায় আগুন লাগে। এ সময় কারখানার শ্রমিকরা আতঙ্কে তাড়াহুড়ো করে বের হওয়ার চেষ্টা করলে অন্তত ৩০ জন আহত হন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, অগ্নিকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও মানুষের কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ার বিষয়। এ ছাড়া মানুষের সচেতনতা ও সতর্কতার অভাব রয়েছে। গ্যাস এবং বিদ্যুতের লাইনগুলো পুরনো। সেগুলো নানা স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার কারণে অজান্তেই আগুনের সূত্রপাত হচ্ছে। প্লাস্টিক যেখানে-সেখানে রাখাও অন্যতম কারণ। তবে এখন পোশাক কারখানাগুলো তাদের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় কিছুটা উন্নতি করেছে। কিন্তু অন্যান্য শিল্প-কারখানায় পরিবর্তন এখনো আসেনি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow