Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫৪
রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ৬ সমস্যা অন্তরায়
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে ৬ সমস্যা অন্তরায়

চট্টগ্রাম মহানগরের উন্নয়ন পরিচালনায় অর্থের অন্যতম জোগানদাতা সিটি করপোরেশনের রাজস্ব বিভাগ। কিন্তু এই বিভাগের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে নানা সমস্যা-সংকট।

এ সব সমস্যার ওপর ভর করেই চলছে ১৯৯০ সালের ৩১ জুলাই ‘চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন’ থেকে নাম পরিবর্তন করে ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন’ (চসিক) হওয়া এই সেবা প্রতিষ্ঠান।       

চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বিভাগে নতুন যোগ দেওয়া প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সম্প্রতি আটটি সার্কেল সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সব সার্কেলের বেশকিছু সমস্যা চিহ্নিত করে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন। সমস্যা হিসেবে রাজস্ব আদায়ের প্রধান অন্তরায় বলে মতামতও প্রদান করেন। সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে অবকাঠামোগত ও লজিস্টিক সমস্যা, যানবাহন সংকট, কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের অভাব, বেতন বৈষম্য, আইটি বিষয়ে দক্ষ জনবল সংকট এবং কর্মরতদের শৃঙ্খলার অভাব।

চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজস্ব বিভাগ ও আট সার্কেল সরেজমিন পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করি। এসব সমস্যা  নিরসনে কিছু সুপারিশ প্রণয়ন করি। বিষয়টি এখন মেয়রের দফতরে আছে। তবে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধান সময়সাপেক্ষ বিষয়, তাই হয়তো একটু সময় লাগবে। তিনি বলেন, নতুন জনবল নিয়োগ এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে এরই মধ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি রাজস্ব বিভাগকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনা সম্ভব হবে।        

জানা গেছে, প্রণীত প্রতিবেদনে অফিস ব্যবস্থাপনা সমস্যা প্রসঙ্গে বলা হয়, কর্মচারীদের মধ্যে নথি ও নোটের ব্যাপারে ধারণার অভাব, কর কর্মকর্তা এবং উপকর কর্মকর্তার মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ না থাকা, বিভাগে চেইন অব কমান্ড না থাকা, দীর্ঘদিন ধরে একই বিভাগে কাজ করার কারণে সেবা প্রত্যাশীদের সঙ্গে ‘পেট্রন ক্লায়েন্ট রিলেশন্স’ গড়ে ওঠায় দুর্নীতির সহায়ক পরিবেশ তৈরি হওয়া। অবকাঠামো সমস্যার মধ্যে আছে— কর্মরতদের বসার স্থান সংকুলান না হওয়া, শৌচাগারের অবস্থা নাজুক, নথিপত্র রাখার ব্যবস্থা না থাকা, ২ নং সার্কেলের অফিস নালার ওপর নির্মিত হওয়া, এ ভবনের দ্বিতীয় তলায় পশু চিকিৎসালয় থাকা, সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেটের চতুর্থ তলায় ৭ নং সার্কেল অবস্থিত হওয়া, এ অফিসের চারপাশে থাই গ্লাসে আবদ্ধ থাকায় সব সময় গরম থাকা। তা ছাড়া ৮ নং সার্কেলের অধীন এলাকা হলো দক্ষিণ হালিশহর। কিন্তু এর অফিস দেওয়ান হাট এলাকায়। ফলে করদাতারা যোগাযোগ সমস্যায় পড়ে আসতে অনীহা দেখান। এতে কর আদায়ও কম হয়।

অন্যদিকে রাজস্ব বিভাগে জনবল সংকটও প্রকট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদ রাজস্ব কর্মকর্তার পদই শূন্য গত ১৪ মাস ধরে। তা ছাড়া আট সার্কেলে কর কর্মকর্তা, উপকর কর্মকর্তা, কর আদায়কারীসহ বিভিন্ন পদও শূন্য আছে। রাজস্ব বিভাগে অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রেও আছে নানা সমস্যা।   এখনো পর্যন্ত ট্রেড লাইসেন্স কর প্রদান অটোমেশন পদ্ধতিতে করা হয়নি। তা ছাড়া বিভাগে হোল্ডিং টেক্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের জন্য দক্ষ কম্পিউটার অপারেটর সংকট আছে। একইভাবে রাজস্ব ও ভূমি শাখায়ও শৌচাগার সমস্যা, বসার স্থান সংকুলানসহ নানা সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow