Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:১৭
তোয়াক্কা নেই ট্যানারি মালিকদের
সরকারি সিদ্ধান্ত
শিল্প মন্ত্রণালয়ের হুঁশিয়ারি
হাই কোর্টের নির্দেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক
তোয়াক্কা নেই ট্যানারি মালিকদের

হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্ত, শিল্প মন্ত্রণালয়ের হুমকি, পরিবেশ অধিদফতরের জরিমানা ও হাই কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও হাজারীবাগ ছাড়ছেন না ট্যানারি শিল্প মালিকরা। অথচ ঢাকার অদূরে সাভারে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সরকারি খরচে গড়ে তোলা হচ্ছে ট্যানারি পল্লী।

এর পরও হাজারীবাগ থেকে সাভারে কারখানা স্থানান্তরে বছরের পর বছর টালবাহানা করে যাচ্ছেন তারা। ফলে ট্যানারির ভয়াবহ দূষণে একদিকে হুমকির মুখে পড়েছে হাজারীবাগসহ আশপাশের পরিবেশ ও জনজীবন, অন্যদিকে সাভারে আধুনিক ট্যানারি পল্লী বাস্তবায়ন নিয়ে জটিলতার মুখে পড়েছে সরকার। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার সময়সীমা বেঁধে দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। পরে গত কোরবানির ঈদে হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা জারি করে শিল্প মন্ত্রণালয়। এমনকি হাজারীবাগের প্রবেশদ্বারের প্রতিটি পয়েন্টে বসানো হয় পুলিশি পাহারা। এর পরও ট্যানারি মালিকরা কারখানা স্থানান্তরে রাজি হননি। ফলে ২০০০ সাল থেকেই চলছে এমন স্থানান্তর জটিলতা। জানা গেছে, আজ থেকে ১৬ বছর আগে ২০০০ সালে একবার এমন নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। এরপর ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হাজারীবাগ থেকে সব ট্যানারি সাভারে স্থানান্তরের জন্য আবারও নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ না সরানো ট্যানারি কারখানাগুলোকে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করে। এর পরও ট্যানারিগুলো সরেনি। জরিমানার টাকাও পরিশোধ করেনি কারখানাগুলো। এমনকি হাই কোর্টের কোনো আদেশকেও কখনোই আমলে নেননি ট্যানারি মালিকরা। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু গত বছরের প্রায় পুরো সময়ই দফায় দফায় বৈঠক করেন ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে। তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ পর্যন্ত অন্তত চার দফা সময় বাড়িয়েছেন তিনি কারখানা স্থানান্তরে। কিন্তু কোনো বাড়ন্ত সময়ই কাজে লাগাননি ট্যানারি মালিকরা। উল্টো তারা অভিযোগ করে আসছেন, কারখানা স্থানান্তরে সরকারের যথাযথ সহায়তা পাচ্ছেন না। এমনকি ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের জটিলতা রয়েছে। অথচ শিল্প মন্ত্রণালয় বলছে, সবাইকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। আর ব্যাংক ঋণ তাদের নিজস্ব বিষয়। তা তাদের ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) উপদেষ্টা মো. হারুন চৌধুরী গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, হাজারীবাগের চামড়াশিল্প সাভারে সরানোর কাজ চলছে। আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। হারুন চৌধুরী বলেন, ‘তবে আমরা শতভাগ কারখানাই সরাতে চাই। এ জন্য আরও সময় প্রয়োজন। ’ এ ক্ষেত্রে বিসিক সঠিকভাবে কাজ করেনি বলে উল্টো অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের খান গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চামড়াশিল্প মালিকদের মধ্যে কোনো কিছু তোয়াক্কা না করার একটা ভাব আছে। এর কারণ হলো, সরকারের মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের ভিতর কাজে গাফিলতি আছে। আবার তাদের অভিজ্ঞতাও নেই। কর্মকর্তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে গুরুত্ব দেননি। এর সঙ্গে যেমন সঠিক অ্যাকশন নেই, তেমনি ব্যবসায়ীদের হাজারীবাগ থেকে সরাতে সঠিকভাবে চাপ দেয়নি সরকার।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত সাভার ট্যানারি পল্লীর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। পুরো দমে চলছে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিপিটিইউ)। অথচ এখন পর্যন্ত ১৫৫টি ইউনিটের মাত্র ৪৩টি ইউনিট স্থানান্তর করা হয়েছে হাজারীবাগ থেকে সাভারে। ফলে বর্জ্যের অভাবে চালানো যাচ্ছে না সিপিটিইউ। ট্যানারি পল্লীর ইউনিটগুলোয় উন্নয়নমূলক কাজ করতে বরাদ্দ অর্থের সিংহভাগই তুলে নিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। অথচ কারখানা স্থানান্তরে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow