Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:১৮
নিত্য দুর্ভোগের রাজধানী
রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির পর সড়কেই পড়ে থাকছে ইট-বালি
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির পর সড়কেই পড়ে থাকছে ইট-বালি
রাস্তা খোঁড়ার পর সড়কে পড়ে রয়েছে মাটি ও বালি —বাংলাদেশ প্রতিদিন

রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সেবা সংস্থার খোঁড়াখুঁড়ির পর মাটি-ইট-বালিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সড়কের ওপরই ফেলে রাখা হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তি হচ্ছে নগরবাসীর।

নিত্যদিনের যানজট আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। ফলে ধুলার নগরীতে পরিণত হয়েছে রাজধানী। বিষিয়ে উঠছে পরিবেশ। এলার্জি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন নগরবাসী। উন্নয়ন কাজে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। কোথাও বিদ্যুতের লাইন টানতে, কোথাও ড্রেনেজ সংস্কার, কোথাও ফ্লাইওভার নির্মাণে সড়ক খোঁড়া হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান রাস্তা খুঁড়ে পাশেই ফেলে রাখছে মাটি-ইট-বালিসহ নানা সরঞ্জাম। দীর্ঘদিন পরও সেসব অপসারণ করা হচ্ছে না। সরেজমিন দেখা গেছে, বিজয়নগর থেকে সেগুনবাগিচা রাজস্ব বোর্ড যাওয়ার প্রায় সবকটি পথ বন্ধ রয়েছে। খোঁড়া গর্তে কাজ শেষে উঁচু বক্স করার কারণে এসব রোডে চলাচল করা যায় না। বক্সের পাশে সড়কজুড়ে ছড়িয়ে আছে বালু আর মাটি। এতে ধুলা ছড়িয়ে পড়ছে চারপাশে। কাকরাইল মোড়ে কাঁটাতারের বেড়া ছিঁড়ে পড়ে আছে সড়কে। অনেকেই ছোটখাটো দুর্ঘটনায় পড়ছে। রমনা থানা এলাকা থেকে হলিফ্যামিলি হয়ে মগবাজার মোড়, উড়ালসড়কের দুই পাশের সড়ক ও অলিগলিতে এখন চলছে ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক ক্যাব?ল বসানোর কাজ। দেড় মাসেরও বেশি সময় খোঁড়াখুঁড়ির কারণে এসব এলাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী, যানবাহন আরোহী ও পথচারী। এসব এলাকায় ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডিপিডিসি) ১৩২ কেভি লাইন বসানোর কাজ চলছে। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষ হলেও মগবাজার মোড় থেকে মৌচাক পর্যন্ত স্তূপ করে রাখা হয়েছে পিচের ভাঙা অংশ, ইটের টুকরা ও ব্লক। এতে যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকে থাকছে। হোঁচট খাচ্ছে পথচারীরা। এমন চিত্র প্রায় সবখানেই দেখা গেছে। ডিএসসিসির প্রধান প্রকৌশলী ফরাজি শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনটি প্যাকেজের আওতায় শান্তিনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন হচ্ছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা দূর হবে। তিনি বলেন, খোঁড়াখুঁড়ির আগে আমরা বলে দেই ইট-বালি যাতে সড়কে ফেলে রাখা না হয়। কিন্তু অনেকেই এ নির্দেশ মানছে না। বিজয়নগর থেকে পল্টন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে চলছে পয়ঃনিষ্কাশনের কাজ। মূল রাস্তায় দিনের পর দিন পড়ে আছে মাটি, বালুসহ অন্যান্য সরঞ্জাম। একই অবস্থা দৈনিক বাংলা থেকে ফকিরেরপুল পর্যন্ত। মৌচাক থেকে মালিবাগ রেলগেট পর্যন্ত সড়কে একদিকে চলছে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের কাজ, অন্যদিকে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি। খোঁড়াখুঁড়ির পর মাটি-ইট-বালি সড়কেই ফেলে রাখা হচ্ছে। এ সড়কে নানা বিড়ম্বনা নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা। লিংকরোড থেকে ভাটারার বাঁশতলা পর্যন্ত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষ হলেও রাস্তার পাশে ড্রেনেজের খোঁড়ার কংক্রিট ফেলে রাখা হয়েছে। এতে দুর্ঘটনায় পড়ছেন অনেকেই। নতুনবাজার এলাকা থেকে ভাটারার কোকাকোলা পর্যন্ত রাস্তা খোঁড়ার পর সেখান থেকে ওঠানো বালি ও কংক্রিট স্তূপ করে রাখা হয়েছে। নগরীর অনেক সড়ক এখন খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। কিছু সড়ক খুঁড়ে পাইপ বা ক্যাবল বসানোর কাজ শেষ করার পর এখন অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কিছু গর্ত উঁচু করে পাকা করার কারণে চলাচলে দুর্ঘটনা ঘটছে। কিছু সংযোগ সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। এক সেবা সংস্থার অসতর্ক খোঁড়াখুঁড়ির কারণে অপর সংস্থার পাইপলাইন ফুটো হয়ে অচল হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে এক সংস্থার সঙ্গে অপর সংস্থার বিরোধও চলছে। বিজয়নগর থেকে কাকরাইল মোড় হয়ে শান্তিনগর এবং মালিবাগ-মৌচাক পর্যন্ত ঘুরে নানা ধরনের দুর্ভোগ দেখা গেছে। এখানের জলাবদ্ধতা রোধ করতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নর্দমা বা স্টর্ম স্যুয়ারেজ করছে। তিনটি প্যাকেজে ৭০ কোটি টাকায় কাজটি করছে। বিজয়নগর সড়কের পূর্ব প্রান্তে তিন মাস আগে স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইনের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি হয়। খোঁড়া অংশ ভরাট করে রাস্তার তুলনায় উঁচু পাকা বক্স ও স্লাব দেওয়া হয়েছে। কালভার্ট সড়কে এ ধরনের উঁচু স্লাবের কারণে রিকশাসহ যানবাহন চলছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বিপরীত দিকের রাস্তার পরিবর্তে খোঁড়াখুঁড়ি হয়েছিল ফুটপাথ ও সংযোগ সড়কের মুখে। টানা স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন করে একইভাবে রাস্তার তুলনায় উঁচু বক্স করা হয়েছে। ফুটপাথের পাশের চশমার দোকানগুলোতে আসা লোকজন ভোগান্তির কথা জানান। খোঁড়াখুঁড়ির সময় প্রধান সড়কের অর্ধেকটা জুড়ে ছিল ভেঙে ফেলা অংশের ধ্বংসাবশেষ, মাটি, বালি ও ইট। দীর্ঘ সময়েও সেগুলো সরানো হয়নি। এতে সড়কে দুঃসহ যানজটের সৃষ্টি হয়। মূলত সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না থাকায় উন্নয়নকাজের প্রতি সাধারণ মানুষের বিরক্তি সৃষ্টি হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow