Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:২০
এরশাদের জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু, ১৫ দলের সঙ্গে বৈঠক
শফিকুল ইসলাম সোহাগ
এরশাদের জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু, ১৫ দলের সঙ্গে বৈঠক

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে রাজনৈতিক জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল নিবন্ধনহীন ১৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এইচ এম এরশাদ বনানীর কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠক করেছেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে এ জোট গঠন হচ্ছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী সপ্তাহে আত্মপ্রকাশ করবে নতুন এ জোট।

জানতে চাইলে পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দলগুলো নিয়ে নতুন এ জোট করতে যাচ্ছি। এরশাদ দেশের উন্নয়নে যে ভূমিকা রেখেছেন তা নব্বইয়ের পর কোনো সরকারই পারে নাই। বিষয়টি উপলব্ধি করেই অনেক রাজনৈতিক দল আমাদের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছে। আমরা আশা করি এই জোটই আগামীতে জনগণকে আলোর দিশা দেখাতে পারবে। তিনি বলেন, চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় নিবন্ধন রয়েছে এমন বেশ কয়েকটি দল থাকবে বলে আমরা আশাবাদী। জানা যায়, জোট গঠনের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পার্টি চেয়ারম্যানের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি সুনীল শুভ রায়কে প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বৈঠকে বাংলাদেশ লেবার পার্টি, আমজনতা পার্টি, গণতান্ত্রিক ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ইসলামী ডেমোক্রেটিক পার্টি, কৃষক শ্রমিক পার্টি, ইউনাইটেড মুসলিম লীগ, গণ অধিকার পার্টি, তফসিল ফেডারেশন, জাতীয় হিন্দু লীগ, সচেতন হিন্দু পার্টি, বাংলাদেশ পিপলস্ ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিপিডিপি) এবং ইসলামী গণ আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জাপা নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেসব দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়তে চায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সরকার আগামী নির্বাচনে অধিক সংখ্যক দলের অংশগ্রহণ চায়। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, সে ক্ষেত্রে জাপার নেতৃত্বাধীন জোট প্রধান বিরোধী জোটের ভূমিকায় থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়াবে। দলের নেতা-কর্মীরা বলছেন, এইচ এম এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে রয়েছেন। এ অবস্থায় এ জোট কতটা নিরপেক্ষতা অর্জন করতে পারবে এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থাকবে। তারা বলছেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া নিবন্ধনহীন এসব দলের অনেকগুলোর কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত নেই। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের কম্পিউটারের দোকান থেকে গণমাধ্যমে প্রেস রিলিজ পাঠানোর মধ্যেই তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ। এ অবস্থায় জোটের সামনের পথ পাড়ি দেওয়া কতটা সম্ভব হবে। সম্ভাব্য নতুন জোটের প্রধান সমন্বয়ক সুনীল শুভ রায় বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আমরা প্রথমে সাতটি দল নিয়ে জোট করার কথা ভাবছিলাম। আমাদের চেয়ারম্যান যখন এ জোট গঠন নিয়ে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য রেখেছেন, তারপর থেকে অনেক রাজনৈতিক দল আমাদের সঙ্গে জোট করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে আমাদের জোটে যেসব দলের কথা শুনছেন, তার বাইরেও আরও দল আমাদের সঙ্গে জোটে থাকবে।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow