Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বুধবার, ৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:২৩
একে একে অস্বাভাবিক আচরণ কেউ কেউ শিকলে বাধা
কী হয়েছে পরিবারটির?
প্রতিদিন ডেস্ক
কী হয়েছে পরিবারটির?
শিকলে বাঁধা পরিবারের এক সদস্য (ওপরে) —বাংলাদেশ প্রতিদিন

সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় এক পরিবারের সদস্যদের প্রায় সবার আচরণে অল্প সময়ের মধ্যে ‘অস্বাভাবিকতা’ ছড়িয়ে পড়ার খবরে আলোচনা তৈরি হয়েছে জেলা শহরে। খবর বিডিনিউজ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করেও বাসা থেকে বের হতে রাজি করাতে পারেননি। কাউকে কাউকে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। এক কবিরাজ ওই বাড়িতে হাজির হয়ে শুরু করেছেন ঝাড়-ফুঁক। পরিবারের সবার একে একে ‘মানসিকভাবে অসুস্থ’ হয়ে পড়ার খবরে সারা দিন উত্সুক মানুষের ভিড় লেগে থাকছে প্রসাদপুর গ্রামের রহমত বিশ্বাসের বাড়িতে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসেন সোমবার ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। রহমত বিশ্বাসের পরিবারের সদস?্যরা শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও তাদের সাতজনের আচরণ ‘অস্বাভাবিক’ বলে মনে হয়েছে তার কাছে। তিনি বলেন, ‘তাদের কথাবার্তা অসংলগ্ন। কখনো কখনো মারমুখী আচরণ করছেন। পুলিশের লোক কথা বলতে গেলে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ’ চিকিৎসার জন?্য তাদের হাসপাতালে নেওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে ইউএনও বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু বাড়ির সুস্থ লোকজন বলছেন, বাড়ির বাইরে পাঠালে তাদের সমস্যা আরও বাড়বে। ’ গৃহকর্তা রহমত বিশ্বাসের বয়স ৬৫ বছর। পাঁচ ছেলে, তিন মেয়ে ও এক পুত্রবধূসহ ১৩ সদস্যের পরিবার তার।

কখন থেকে এই সমস?্যা শুরু হয়েছে— জানতে চাইলে রহমতের স্ত্রী নবীজান বিবি বলেন, তাদের এক মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ঝিনাইদহে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর ‘নানাভাবে নির্যাতন’ করে আসছিলেন। একসময় তারা তাকে ‘পাগল’ আখ্যায়িত করে বাপের বাড়ি ফিরিয়ে নিতে চাপ দিতে থাকেন। “আমার ছেলে হায়দার তাকে আনতে যায়। মেয়েটা হায়দারকে বলে, ‘আমাকে বাপের বাড়ি নিয়ে গেলে তোরা সবাই পাগল হয়ে যাবি। ’ নয় দিন আগে ওকে বাড়ি নিয়ে আসা হয়। এরপর আমার ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনি সবাই একে একে পাগল হয়ে যাচ্ছে। ” সোমবার ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক ছেলের হাত শিকলে বাঁধা। আরেক ছেলে উঠানে পাটি পেতে ঘুমাচ্ছেন। তার পায়েও লোহার শিকল, মুখ দিয়ে কষ গড়াচ্ছে। বাড়ির বাইরে ভিড় করে আছে বহু মানুষ।

এই ঘটনা নিয়ে প্রসাদপুর গ্রামে চলছে নানা আলোচনা, যার মধে?্য কুসংস্কারপ্রসূত ধারণাও থাকছে। স্থানীয় এক ব?্যক্তি বলেন, ‘রহমতের পরিবার আগে খুব গরিব ছিল। বছর তিনেক আগে তারা গুপ্তধন পেয়ে বড়লোক হয়ে যায়। এখন তার প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ’

তবে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য লিয়াকত গাজী ওই পরিবারের ভাগ?্য বদলের মধে?্য কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা আছে বলে মনে করেন না। তিনি জানান, ‘রহমত একসময় দিনমজুর ছিলেন। পুকুর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করার পর তাদের দিন বদলাতে শুরু করে।

রহমত ও তার ছেলেমেয়েরা খুব পরিশ্রমী আর সৎ। তারা কঠোর পরিশ্রম করেই ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। আগে বাড়িতে মাটির ঘর ছিল। বছর তিনেক আগে আধা-পাকা ঘর তুলেছে। ’ লিয়াকত গাজী জানান, রহমতের তিন ছেলে, দুই মেয়ে এবং দুই নাতি-নাতনি ‘অস্বাভাবিক’ আচরণ করছেন। সোমবার প্রতিবেশীরা রহমতকে ‘সুস্থ’ দেখলেও মঙ্গলবার তার মধ্যেও ‘ভারসাম্যহীনতা’ দেখা গেছে। এক কবিরাজ চিকিৎসার নামে ‘ঝাড়-ফুঁক’ চালাচ্ছেন জানিয়ে পরিবারটিকে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন এই ইউপি সদস্য। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা একজন চিকিৎসককে পাঠিয়েছিলাম। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আসতে রাজি হননি। আমরা ভালোমতো পর্যবেক্ষণ না করে কিছু বলতে পারছি না। ’

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow