Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৭
অবৈধভাবেই চলছে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম
নয় বছর ধরে নেই ‘বোর্ড অব গভর্নর’
আকতারুজ্জামান

কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে ‘বোর্ড অব গভর্নর’। পদাধিকার বলে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন এর সভাপতি।

কিন্তু গত নয় বছর ধরে বোর্ড অব গভর্নর নেই এই শিক্ষা বোর্ডে। এই সময়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে এসেছে কয়েক দফায় পরিবর্তন। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নবায়ন বা পুনর্গঠনেরও কোনো উদ্যোগ নেননি তারা। কিন্তু অনিয়মতান্ত্রিকভাবেই বোর্ড গঠন করে নিয়েছেন বিভিন্ন সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বোর্ড নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ঘাপলার এ বিষয়টি নজরে আসে। চোখ কপালে উঠে যায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তবে এ নিয়ে যেন কোনো মাথাব্যথা নেই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের। কারিগরি বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত নয় বছর ধরেই অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে এই শিক্ষা বোর্ড। শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড পরিচালিত হয় ‘কারিগরি আইন ১৯৬৭’ অনুযায়ী। ১৯৬৭ সালের ৭ মার্চ প্রকাশিত একটি গেজেটে সংসদীয় আইনের বলে ইস্ট পাকিস্তান টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ড গঠন করা হয়। দেশ স্বাধীনের পর এর নাম দেওয়া হয় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। আইনে বলা হয়েছে, তিন বছর পর পর বোর্ড গঠন করতে হবে। পদাধিকারবলে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন এর সভাপতি। কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, ডুয়েট উপাচার্য, বুয়েট উপাচার্যসহ ১৩ জন এ বোর্ডের সদস্য থাকবেন। কারিগরি বোর্ডের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে বোর্ড অব গভর্নর। বাজেট বরাদ্দ, সিলেবাস-কারিকুলাম অনুমোদন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কর্মকাণ্ড অনুমোদন করে থাকে এই বোর্ড। সূত্র মতে, গত ২০০৫ সালে ৫ মার্চ এই বোর্ড গঠিত হয়। নিয়মানুযায়ী ২০০৮ সালের ৫ মার্চ এই বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন এসেছে তিন বার। কিন্তু দীর্ঘ নয় বছরেও বোর্ড গঠনের তাগিদ অনুভব করেননি এই কর্তাব্যক্তিরা। তবে এতে থেমে থাকেনি কারিগরি বোর্ডের যাবতীয় কর্মকাণ্ড। বোর্ড না থাকলেও নেওয়া হয়েছে যাবতীয় সিদ্ধান্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের এমন অনিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিপরীতে কেউ হাই কোর্টে রিট করলে বড় বিপাকে পড়তে হবে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে। গত ৩১ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও বোর্ড গঠনের জন্য প্রস্তাব না করার কারণ সম্পর্কে জানতে চায়। জবাবে গত ১ জানুয়ারি চিঠিতে বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, (শিক্ষা বোর্ডের) আগের চেয়ারম্যান, সচিবরা বোর্ড গঠন করতে ফলপ্রসূ ব্যবস্থা নেননি। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বোর্ড গঠনের প্রস্তাব করা হয়নি। একটি বোর্ড অব গভর্নর গঠনের জন্য প্রস্তাব করেন চিঠিতে। বোর্ড অব গভর্নর না থাকার বিষয়ে জানতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে যাবতীয় তথ্য জানতে কারিগরি বোর্ডের সচিব নায়েব আলী মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। নায়েব আলী মণ্ডল জানান, আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে বোর্ড গঠনের জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি। বোর্ড না থাকায় আগে গৃহীত যাবতীয় কার্যক্রম অবৈধ হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

up-arrow