Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৮
আয়বর্ধক প্রকল্প নেই সাত বছর
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
আয়বর্ধক প্রকল্প নেই সাত বছর

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) আয়বর্ধক কোনো প্রকল্পই গ্রহণ করা হচ্ছে না। অতীতে আবাসন, পরিবহন, বিপণিবিতানসহ নানা ধরনের আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু সাত বছর এ ধরনের কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। চসিক সূত্রে জানা গেছে, সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর আমলে নগরে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ৩৭টি গণশৌচাগার নির্মাণ, নগরে গণপরিবহন সংকট নিরসনে ২০০৬ সালের ১ এপ্রিল ১০টি ভাড়া বাস (প্রতিটি বাসে ৪৮ সিট)  নিয়ে ‘নিরাপদ মহিলা ও শিশু যাত্রীসেবা’ চালু, ২০১০ সালের জানুয়ারিতে  মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে এক কোটি ৬৫ লক্ষ টাকায় স্বাধীনতা পার্ক নির্মাণ, ২০০৭ সালে ‘সিটি করপোরেশন ফার্মাসিউটিক্যালস  লিমিটেড’ নামে ওষুধ তৈরির ফার্মেসি নির্মাণ, বর্জ্য থেকে লাকড়ি উৎপাদন, আটটি আবাসন প্রকল্প নির্মাণ, ছোট-বড় ৪৮টি বিপণিবিতানের (এসব মার্কেট  থেকে প্রতিবছর রাজস্ব আদায় ৪ কোটি টাকা) মতো আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত ৭ বছরে নতুন কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। তবে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রাজস্ব বৃদ্ধিতে প্রথম দফায় ১১টি আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ করার সুপারিশ করেছেন। চসিকের রাজস্ব বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি এক প্রতিবেদনে এ সুপারিশ করেন। প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাজস্ব আদায়ে কিছু আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এ জাতীয় প্রকল্প ছাড়া করপোরেশন পরিচালনা সম্ভব নয়। কারণ আয়বর্ধক প্রকল্প গ্রহণ ব্যতিরেকে স্বায়ত্বশাসিত এবং সেবামূলক এ জাতীয় সংস্থার পিছিয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে।   তা ছাড়া সব ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর নির্ভর করাও উচিত নয়।

তবে  প্রকল্প হাতে নিলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং অর্থের বিষয়টিও জড়িত। তাই পর্যায়ক্রমে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্প গ্রহণ করলে এর আশানুরূপ সুফল আসে না। তাই একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তার প্রস্তাবিত আয়বর্ধক প্রকল্পের মধ্যে আছে— কালুরঘাটে ১১ দশমিক ৪৮ একর ভূমিতে স্যাটেলাইট টাউন নির্মাণ, লালচাঁন্দ রোডে শূন্য দশমিক ০৮৯৪ একর ভূমিতে ভবন নির্মাণ, ফিরিঙ্গি বাজারের  কসাইখানাকে আধুনিকীকরণ, কাতালগঞ্জের রাস্তার পাশে ২ দশমিক ৫ একর ভূমিতে মার্কেট নির্মাণ এবং আগ্রাবাদে ৬৪ শতক, চরচাক্তাই এলাকার ১ দশমিক ৬৮ একর, মাদারবাড়ির নমুনা বাজারের ১৫১৯ শতক, চান্দগাঁও পুরাতন থানা এলাকায় ৮৮ শতক, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার হাতেখড়ি স্কুলের পাশে ১ দশমিক ৭৬৪ একর এবং সীতাকুণ্ডের সলিমপুর এলাকার শূন্য দশমিক ৪৬২৮ একরে নতুন করে প্রকল্প গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর পতেঙ্গার স্টিল মিল বাজার এলাকার ফুটপাত ঘেষে থাকা কাঁচাবাজারের জায়গাটি যাচাইপূর্বক সেখানে একটি স্থাপনা নির্মাণ করার সুপারিশও করা হয়েছে।  

up-arrow