Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৮ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩৮
সাবেক কর কমিশনার তাহের হত্যায় ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
আদালত প্রতিবেদক

রাজধানীর রামপুরার বাসিন্দা ও সাবেক কর কমিশনার আবু তাহের হত্যা মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। এ ছাড়া দুই নারীসহ চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গতকাল ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান সরদার এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন নাসির, রাসেল তালুকদার, রুস্তম, আমির হোসেন ও সোহেল রানা। এ ছাড়া আসামি নুর আলম ও মাসুদ মিয়াকে ১০ বছর এবং সেলিনা ও নুরজাহান নামের দুই নারীকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মাহফুজুর রহমান লিখন সাংবাদিকদের জানান, এ মামলায় পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও চারজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছে আদালত। মামলার নয় আসামির মধ্যে রুস্তম পলাতক। রায় ঘোষণার আগে আট আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার নথিসূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১ মার্চ স্ত্রীসহ আবু তাহের রামপুরার বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে আসামিরা গ্রিল কেটে বাসায় ঢোকেন। পরে তাহের ও তার স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে ফেলেন এবং আলমারির চাবি নিয়ে স্বর্ণালঙ্কার, মুঠোফোন ও নগদ অর্থ ডাকাতি করে পালিয়ে যান। তবে যাওয়ার সময় তারা তাহেরের ডান হাতের কবজির রগ কেটে দেন এবং বাঁ পায়ে জখম করেন। পরে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত তাহেরের ছেলে এ টি এম আরিফুল হক বাদী হয়ে রামপুরা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে সাতজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। জবানবন্দির তথ্যানুসারে, আসামিরা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করেন কখন এবং কী অসিলা নিয়ে ওই বাসায় ঢুকবেন, কে কোন দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ওই বাসায় ঢোকার জন্য লোহার রেঞ্জ, হাতুড়িসহ লাল-কালো কাপড়, ছুরি সংগ্রহ করে ঘটনাস্থলে যাওয়া, আগে থেকেই মেইন গেটের বিকল্প চাবি সংগ্রহ করা, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নেওয়া ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। এ মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত নাসির নিহত আবু তাহেরের গাড়িচালক। বাসার গৃহকর্মী সেলিনা ও নুরজাহান এবং তাদের সহযোগী রুস্তম, আমির হোসেন, সোহেল রানা, নুর আলম ও মাসুদ মিয়া পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পনামতো তাহেরের বাসায় ডাকাতি করতে যান। ঘটনার তদন্ত করে গত বছর ৬ জানুয়ারি নয় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দখিল করে পুলিশ। মামলায় ৪৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

up-arrow