Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৪
শিক্ষার্থীদের দেশ চেনাতে ৬২ হাজার কন্টেন্ট
দেশব্যাপী ২৩ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম
জয়শ্রী ভাদুড়ী

শৈশব-কৈশোর থেকেই শিশুরা চিনবে নিজের দেশকে, জানবে জন্মভূমির সোনালি ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধকে, ধারণ করবে দেশের সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা। এই লক্ষ্য সামনে নিয়ে বাংলাদেশের ৩৩ হাজার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল এবং মাদ্রাসায় তৈরি করা হয়েছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম।

আর শিশুদের পাঠদানে দেশ-বিদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, গণিত, বিজ্ঞান এবং শিক্ষণীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ৬২ হাজার মডেল কন্টেন্ট বা আধেয়।

ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা : হালচিত্র ২০১৬ শীর্ষক এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য সরকার ই-শিক্ষায় জোর দিচ্ছে। শিক্ষাক্ষেত্রে আইসিটি মাস্টারপ্ল্যান ২০১২-২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা এবং আইটির মধ্যে সমন্বয় করে শিক্ষাক্ষেত্রে আনা হচ্ছে বৈচিত্র্য। এই মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় দেশের ২৩ হাজার ৩৩১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৪ হাজার ৫০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৫ হাজার ৫০০টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম তৈরি করা হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নতুন প্রযুক্তি এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর শিক্ষার্থীদের পাঠদানে তৈরি করা হয়েছে ৬২ হাজার মডেল কন্টেন্ট। দক্ষ শিক্ষকদের দিয়ে বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান বিষয়ে তৈরি করা হয়েছে তথ্য সমৃদ্ধ মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট। এর পাশাপাশি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য চেনাতে তৈরি করা হয়েছে সচিত্র কন্টেন্ট। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, দেশের ঐতিহাসিক স্থান সম্বন্ধে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে এবং ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে এই কন্টেন্টগুলো ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। শুধু নিজের মাতৃভূমি নয়, পুরো পৃথিবীকে পাঠ্য বইয়ের বাইরে গিয়ে শব্দ, ছবি এবং তথ্যে সাজানো হয়েছে এই কন্টেন্টগুলোকে। আনন্দের মধ্য দিয়ে শিক্ষা দেওয়া এবং তথ্য প্রদান করাকে এই কন্টেন্টের ভিত্তি ধরে এগিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বয়সের সঙ্গে তালমিলিয়ে তৈরি করা হচ্ছে শিশুদের পড়ানোর বিষয়। শিশুদের কচি মস্তিষ্কে যেন চাপ সৃষ্টি না হয় সেগুলোও মাথায় রাখছেন তারা। শুধু প্রাথমিক বা মাধ্যমিক নয়, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্যও দেশ-বিদেশ এবং বাংলা, গণিত, বিজ্ঞান বিষয়ে তৈরি করা হয়েছে মডেল কন্টেন্ট। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা যেন ভুল পথে প্ররোচিত না হয়, কেউ খারাপ প্ররোচিত করতে না পারে সেজন্য তাদের সঠিক ইতিহাস জানা জরুরি বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ধর্মীয় পাঠদানের বাইরে শিক্ষার্থীদের দেশ চেনাতে এই কন্টেন্টগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের পাশাপাশি ৩ হাজার ১৭২টি স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসায় স্থাপন করা হয়েছে কম্পিউটার ল্যাব। প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ৩০০-এর বেশি পাঠ্যপুস্তক এবং ১০০-এর বেশি সহায়ক বই ই-বুকে রূপান্তর করা হয়েছে। আর এই বইগুলো পড়তে শুধু নাম লিখে কম্পিউটারের সার্চ বাটন চাপলেই শিক্ষার্থীদের সামনে ভেসে উঠবে কাঙ্ক্ষিত বই। এতে করে কম্পিউটার এবং আইটি বিষয়ে দক্ষ হবে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা।

এই পরিকল্পনার সার্বিক বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, একটি প্রযুক্তি-নির্ভর আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে আমরা ইতিমধ্যে ৩৩ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করেছি। আর খুব দ্রুত দেশের প্রতিটি বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসাকে এর আওতায় আনা হবে। ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে শিশুদের পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে নিয়ে দেশ, বিশ্ব এবং সার্বিক বিষয়ে ধারণা দেওয়াই এই কর্মযজ্ঞের মূল লক্ষ্য।

মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের বিষয়ে বলতে গিয়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে নিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষা দিতে এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই কন্টেন্টগুলো পড়ে যেমন শিক্ষার্থীরা শিখছে তেমনই নতুন প্রযুক্তি সম্বন্ধে আরও দক্ষ হচ্ছেন শিক্ষকরা। কিন্তু দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের আওতায় আনা এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow