Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৮
মাদারীপুরে পাট ও মেস্তার বীজ উৎপাদনে সফলতা
বেলাল রিজভী, মাদারীপুর
মাদারীপুরে পাট ও মেস্তার বীজ উৎপাদনে সফলতা

মাদারীপুরের কালকিনিতে কৃষক আকবর সরদার পাট ও মেস্তা বীজ উৎপাদনে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর বিষয়টি নিয়ে দারুণ আশাবাদী হয়ে উঠেছে।

এরকম কৃষক সৃষ্টি হলে  দেশে আমদানি নির্ভরশীলতা কমবে এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচিত হবে। সরজমিনে জানা গেছে, কালকিনি পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের  মৃত ধলাই সরদারের ছেলে আকবর সরদার এসএসসি পাস করার পর পরিবারের চাহিদা মেটাতে দেশের বাইরে পাড়ি দেন। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে দেশে ফিরে ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি শুরু করেন। চাকরির বেতনে সংসার চালাতে না পেরে কয়েক বছর পর এলাকায় ফিরে এসে কৃষি কাজ শুরু করেন। কৃষি কাজের সুবাদে কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রথম দিকে লাউসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্যে সফলতাও আসে। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে আকবর ৩ বিঘা ২০ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে চলতি বছর পাট ও মেস্তার বীজ উৎপাদন শুরু করেন। ৩ বিঘা জমিতে মেস্তা ও ২০ শতাংশ জমিতে নাভি জাতের পাটের বীজ রোপণ করেন। এতে সব মিলিয়ে তার খরচ হয় ৩০ হাজার টাকা। কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে নিয়মিত ফসলের পরিচর্যা করেন আকবর। কৃষি কর্মকর্তারাও মাঝে মাঝে এসে আকবরের এই সাফল্য পরিদর্শন করে যান। এ বছর মেস্তার বীজ প্রায় ২০ মণ ও পাটের বীজ প্রায় ২ মণ হবে বলে আশা আকবরের। ৩০ হাজার টাকা খরচে প্রায় ৪ মাস আগে আকবরের উৎপাদিত বীজ এখনি আড়াই  লাখ টাকা দরদাম চলছে। কৃষক আকবরের বীজ উৎপাদনে এই সফলতায় কৃষি দফতরও দারুণ আশাবাদী হয়ে উঠেছে। তাকে দেখে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে স্থানীয় কৃষকরা। বিকল্প চাষাবাদে আগ্রহও বাড়ছে এলাকায়।   কৃষক আকবর সরদার বলেন, আমি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় দিন পার করছিলাম। কৃষি অফিসের পরামর্শে জমিতে নাভি জাতের পাটের বীজ রোপণ করে অধিক লাভের আশা করছি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি বীজ দেশেই উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষি নির্ভরশীলতা স্থায়ী করার উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছি। মাদারীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমরা কৃষি কাজের জন্য উৎসাহ পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে থাকি। কৃষক আকবরের এই সাফল্য সারা দেশে ছড়িয়ে দিলে আমদানি নির্ভরতা কমবে বলে আশা করছি।         

এই পাতার আরো খবর
up-arrow