Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৩০
চাই সঠিক দিক নির্দেশনা
———— এ কে আজাদ
চাই সঠিক দিক নির্দেশনা

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা সরকারের ভালো উদ্যোগগুলোর মধ্যে অন্যতম বলে মনে করেন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ। তিনি বলেছেন, এই ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, তার দিকনির্দেশনা ব্যবসায়ীদের কাছে থাকা উচিত।

গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে সম্প্রতি রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হওয়ার দুটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন করে শিল্পায়ন না হওয়া এবং ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারের চলমান মন্দাভাব আমাদের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব কিছু মিলিয়ে আমরা একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে এগোচ্ছি। সে ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল একটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এই ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, তার দিকনির্দেশনা ব্যবসায়ীদের কাছে না থাকলে দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যেমন অন্ধকারে আছেন, তেমনি বিদেশিরাও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ—বেজা কবে নাগাদ এই জোনের কাজ শেষ করে ব্যবসায়ীদের জমি বরাদ্দ বা বুঝিয়ে দিতে পারবে এবং আরও যে ৯০টি জোনের কথা বলা হচ্ছে সে সম্পর্কেও ব্যবসায়ীদের একটা স্বচ্ছ ধারণা থাকা উচিত।

এ কে আজাদ বলেন, সর্বশেষ অর্থবছরের তথ্যানুযায়ী, আমাদের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিতভাবে হচ্ছে না। যদিও শিল্প খাতের মূলধনী যন্ত্রপাতি আসছে। নতুন শিল্পায়ন হচ্ছে না। এর কারণ হলো অবকাঠামো সংকট।

অবকাঠামো সমস্যা দীর্ঘদিনের। জমি আছে তো গ্যাস নেই। গ্যাস আছে, তো বিদ্যুৎ নেই। গত বছর থেকে তো গ্যাস সংযোগ একদম বন্ধ। যার কারণে শিল্পায়ন হচ্ছে না। শিল্পায়ন না হওয়াতে কর্মসংস্থানও ব্যাহত হচ্ছে। এই কারণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে সারা দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার।

ইতিমধ্যে ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন উল্লেখ করে এফবিসিসিআইর সাবেক এই সভাপতি আরও বলেন, ওই জোনগুলোর কাজ এখন হচ্ছে- সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে। কাজ শুরু হয়েছে, কিন্তু কবে নাগাদ শেষ হবে, তা কেউ সঠিকভাবে বলতে পারছে না। এর মধ্যে এলএনজিও একটা বড় কারণ। এলএনজি যদি সঠিক সময়ে আসে, তাহলে নতুন করে পাইপলাইনের মাধ্যমে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। তার ওপর নির্ভর করবে নতুন গ্যাস সংযোগের। আবার যেসব স্থানে গ্যাসের চাপ নেই বা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সেসব শিল্পও এলএনজির ওপর নির্ভর করবে। এলএনজি আসবে ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে এবং এলএনজির কার্যক্রম শুরু করতে আরও ৬ মাস লাগবে। সব মিলিয়ে ২০১৯ সালের আগে আমরা নতুন গ্যাস পাব না। সে ক্ষেত্রে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে যদি সরকার আমাদের বিদ্যুৎও দিতে পারে, তাহলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত লাভবান হবে বলে আমি মনে করি। সব মিলিয়ে আমি মনে করি না ২০১৯ সালের আগে শিল্পায়নে বড় কোনো গতি আসবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow