Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪২
ধরা পড়লে জিজ্ঞাসাবাদকারীকে বিভ্রান্ত করার কড়া প্রশিক্ষণ
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
ধরা পড়লে জিজ্ঞাসাবাদকারীকে বিভ্রান্ত করার কড়া প্রশিক্ষণ

সাধারণ মানুষ থেকে দুর্ধর্ষ জঙ্গিতে পরিণত করতে দেওয়া হয় কঠিন প্রশিক্ষণ। ‘দুশমন’কে অনুসরণ করতে করতে তার ওপর হামলা, সাংকেতিন ভাষায় ফোনে আলাপ করা, অস্ত্র-বিস্ফোরক পরিবহন এমনকি গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কীভাবে বিভ্রান্ত করতে হবে গ্রেফতার পরবর্তী নির্যাতন সহ্য করা—সবই শেখানো হয় এই প্রশিক্ষণে।

বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হওয়া জেএমবির শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন নথিতে প্রশিক্ষণের বিষয়ে তথ্য পায় পুলিশ। বিভিন্ন সময় জঙ্গি অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন কর্মকর্তার কাছ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বিভিন্ন সময় জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এমন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জঙ্গিদের তাত্ত্বিক ও সামরিক  দুই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব প্রশিক্ষণ নিয়ে সাধারণ একজন ব্যক্তি থেকে পরিণত হয় দুর্ধর্ষ জঙ্গিতে। জানা যায়, যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় তার নাম ‘এন্টিডোজ’। প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করার মতলবেই এই নাম। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের পদ্ধতি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কৌশলের বিষয়ে দীক্ষা দেওয়া হয়। শেখানো হয় নির্যাতন হজম করার কৌশল। ধরা পড়ে নির্যাতিত হলে নিজেকে ‘মৃত’ হিসেবে কল্পনা করতে বলা হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়—‘মৃত ব্যক্তির কোনো ক্ষতি করতে পারে না কেউ। তাই গ্রেফতারের পর নিজেকে মৃত হিসেবে চিন্তা করতে বলা হয়। ’ সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা করতে প্রতি মাসে চারটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করতে হয় প্রত্যেক সাথীকে। এ বৈঠকগুলো হচ্ছে মাসিক বৈঠক, পাঠচক্র, সামষ্টিক পাঠ এবং টিএস ট্রেনিং। থানার দায়িত্বশীলদের দায়িত্ব বাছাই করা সদস্যদের পাঠচক্র, টিএস ট্রেনিংয়ের আয়োজন, টিম গঠন করা এবং তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। প্রতিটা থানায় পাঁচটি করে ‘দায়ী’ টিম ও ‘দাওয়াত খাওয়ার’ টিম রয়েছে। জেলার নেতাদের দায়িত্ব থানা ও টিমের নেতাদের কাজের তদারকি করা, স্থায়ী সদস্যদের যোগ্যতা অনুসারে দায়িত্ব বণ্টন, হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য জনবল তৈরি করা। নির্ভুল আক্রমণের জন্য দেওয়া হয় ‘আরকে’ ও ‘ক্যামোফ্লেজ’ প্রশিক্ষণ। এ প্রশিক্ষণে ‘শত্রু’র বিষয়ে যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের কৌশল, ‘শত্রু’র দুর্বলতা বের করা, আক্রমণ করার পদ্ধতি এবং আক্রমণের পর পালিয়ে যাওয়ার কৌশল শেখানো হয়। আক্রমণের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিভ্রান্ত করতেও দেওয়া হয় প্রশিক্ষণ। এ প্রশিক্ষণের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মামাদের বিভ্রান্ত করা’। এ প্রশিক্ষণে কীভাবে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে অপারেশন সফল করা যায় তা শেখানো হয়।

 

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow