Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৪৩
দুই কোটি করদাতা তৈরির মাস্টার প্ল্যান এনবিআরের
রুহুল আমিন রাসেল

‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’—সামর্থ্যবান মানুষদের কাছে এমন বার্তা পৌঁছে দিয়ে এবার ২ কোটি করাদাতা তৈরির মাস্টারপ্ল্যান করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বা ৫০ বছর পূর্তিতে ২০২১ সালের মধ্যে করদাতার সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করতে চায় সরকার।

সরকারি রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান এনবিআরের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে গতকাল পর্যন্ত অনলাইনে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন গ্রহণ করে করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ২৭ লাখ ৫৫ হাজার ২১৪ জন ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা। বিপরীতে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দিয়েছেন ১৪ লাখ ৫২ হজার ৪৮ জন। প্রায় ১৩ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেননি। করযোগ্য আয় থাকার পরও যেসব করদাতা রিটার্ন দাখিল করেননি, তাদের বিরুদ্ধে আয়কর আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে এনবিআর। পাশাপাশি চলতি অর্থবছর করদাতার সংখ্যা ৩০ লাখে উন্নীত করার টার্গেট নিয়ে কাজ করছে এনবিআর। একই সঙ্গে ২০২১ সাল সামনে রেখে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের দিকনির্দেশনার আলোকে করদাতার সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীতকরণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে কর প্রশাসন। করদাতার সংখ্যা ২ কোটিতে উন্নীতকরণের মাস্টারপ্ল্যানের অংশ হিসেবেই প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ করদাতা তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে এনবিআর। সংস্থাটি চায় ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দেশের করদাতা হবেন ২ কোটি সামর্থ্যবান ব্যক্তি। এ প্রসঙ্গে এনবিআর সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ) আবদুর রাজ্জাক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, কর বিভাগ আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় করদাতাদের পক্ষ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

আশা করছি চলতি অর্থবছর করদাতা ৩০ লাখে উন্নীত হবে। আর ২০২১ সালে টার্গেট ৫০ করাদাতা তৈরির। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী দুই দশকে ২ কোটি করদাতার স্বপ্ন দেখছে কর বিভাগ। এনবিআর জানিয়েছে, নতুন করদাতা তৈরি ও রাজস্ব আদায়ে সচেতনতা বাড়াতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পার্টনারশিপ বা অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে একটি গাইডলাইনও। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা নিয়ে সারা দেশের মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের (ইমাম, পুরোহিত ও ভিক্ষু ) মাধ্যমে জনগণের মধ্যে রাজস্ববান্ধব সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। সংস্থাটি চায় ইমামদের মতো ধর্মীয় প্রধানদের মাধ্যমে জনগণকে রাজস্ব প্রদানে উৎসাহিত করতে। এনবিআরের নীতিনির্ধারকদের মতে, আয়কর আদায়ের স্বপ্ন পূরণের পথে বাংলাদেশ। রাজস্ব আয়কে উন্নয়নের অক্সিজেন আখ্যায়িত করে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রয়াস সরকারের। ফলে দ্রুত বিকাশমান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রাজস্ব আয় বাড়ছে। আয়করের অবদানও বাড়ছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা অনুযায়ী, রাজস্ব জিডিপি অনুপাত ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করতে চায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান মহাজোট সরকার। আর এ সরকারের শেষ দিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রদানের ঘোষণাও ইতিমধ্যে দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা বাজেট তৈরি করতে যাচ্ছেন।

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow