Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ মার্চ, ২০১৭ ২৩:৫৫
শেরপুরের মধু যাচ্ছে জাপান ও ভারত
শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরের মধু যাচ্ছে জাপান ও ভারত

উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, দৃঢ় সংকল্প এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যায় মৌ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব— এমনটাই প্রমাণ করেছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার ফয়েজ, মনির, রাজবাহার ও নজরুল। মৌ চাষ করে তাদের মতো অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন।

এ চাষে তারা হয়েছেন আত্মনির্ভরশীল, পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা। তাদের দেখাদেখি অনেকেই মৌ চাষে আগ্রহী হয়েছেন। তাদের উৎপাদিত মধু এখন বাংলাদেশ মৌ চাষি সমিতির মাধ্যমে জাপান ও ভারত যাচ্ছে। জানা যায়, তারা এইচএসসি পাসের পর চাকরির পেছনে না ঘুরে ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশীয় সিরেনা মৌমাছি চাষ শুরু করেন। সরিষার ফুল থেকে বেশি মধু পাওয়া যায়। নকলায় ব্যাপক আকারে সরিষার উৎপাদন তাদের এই পেশায় উদ্বুদ্ধ করে। তারা এক সঙ্গে ৩০ জন প্রশিক্ষণ নেন। প্রশিক্ষিতরা সবাই কম-বেশি মধু চাষে থাকলেও এখন ফয়েজ, মনির, রাজবাহার, নজরুল নকলায় উৎপাদিত ও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মধু সংগ্রহ করে রপ্তানি করেন। তারা সাধারণত বিদেশি মেলিফেরা মৌমাছি চাষ করে এ সাফল্য পেয়েছেন। ২০০০ সালে তারা বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ ও দুটি মৌবাক্স নিয়ে মৌমাছি পালন  শুরু করেন। তাদের এ কর্মের সঙ্গে জড়িত আছেন উপজেলার আরও অন্তত দুই শতাধিক মানুষ। বর্তমানে ফয়েজের ১২০টি, নজরুলের ৫২টি, মনিরের ৬০টি, রাজবাহারের ১৭টি, মাহমুদের ২০টি, হালিমের ৭৫টি, জহুরুলের ১১৪টি মৌবাক্স রয়েছে। মধু উৎপাদন করা পর্যন্ত প্রতি বাক্সে ২-৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ফয়েজ জানান, তার লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হলেও খরচ বাদে বছরে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হয়। এ টাকায় পরিবারের ভরণ-পোষণ ও শিক্ষা খরচ চালান তিনি। নকলায় যথেষ্ট বনায়ন না থাকায় বছরের কয়েক মাস বাক্সগুলো মধুপুর গড়ে মধু আহরণের জন্য ব্যবহার করা হয়। দেশের যেখানেই মধু পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তারা সেখানেই বাক্স নিয়ে চলে যান। তবে নকলার সরিষার ফুল থেকে উৎপাদিত মধু আহরণ করতে মজা পান বলে তারা জানান। জেলার খামারবাড়ি সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় এ বছর ১১০০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। সরিষা চাষের একপর্যায়ে ফুল আসে। ফুলকালীন ২০-২৫ দিন ধরে চলে মধু আহরণ। এ বছর উপজেলায় অন্তত শতমণ সরিষার মধু সংগ্রহ হয়েছে বলে মধু চাষিরা জানিয়েছেন। এখন চলছে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফলের মুকুল থেকে মধু সংগ্রহের কাজ। প্রতি বাক্স থেকে বছরে গড়ে ১৫ থেকে ২০ কেজি মধু পাওয়া যায়। মৌসুমভেদে সরিষার মধু ১২ হাজার, লিচুর ১৪ হাজার, কালিজিরার মধুু ১৭ হাজার টাকা প্রতিমণ বিক্রি করেন। কালিজিরার মধু দামি ও চাহিদা বেশি হলেও এলাকায় উৎপাদিত সরিষার মধুর চাহিদাও ভালো। মধু চাষিরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রক্রিয়া করে একেবারে নির্ভেজাল মধু বিদেশে পাঠানো হয়। রপ্তানি করতে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া করে মৌ চাষি সমিতি। ‘মধুতে ভেজাল’ প্রচারিত এই শব্দটি আমরা বদলে দিয়েছি বলে দাবি করেন মধু চাষি রাজবাহার। নকলার সরিষা থেকে পাওয়া মধু ব্যতিক্রমধর্মী। এর চাহিদা ও দাম দেশে-বিদেশে ভালো। মধু চাষিদের দাবি, সরকার থেকে আরও প্রশিক্ষণ, সহজশর্তে ঋণ, উন্নত জাতের মৌমাছি আমদানি করে এই পেশাকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হোক। বাংলাদেশ মৌ চাষি সমিতির মহাসচিব সাতক্ষীরার আফজাল জানিয়েছেন, ভারত, জাপানসহ কয়েকটি দেশে মধু রপ্তানি করা হচ্ছে। রপ্তানি করা মধুর মধ্যে নকলার মধু গুণেমানে খুব ভালো। তাই বিদেশে এ মধুর কোনো অভিযোগ নেই। তিনি মধু আমদানিকারক দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ও চাষিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, মৌ চাষি এবং মধু উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হয়।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow